পদত্যাগ করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে

  যুগান্তর ডেস্ক ২৫ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তেরেসা মে
তেরেসা মে। ছবি: এএফপি

ব্রেক্সিট নিয়ে নানামুখী টানাপোড়েনের পর অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। ৭ জুন তিনি ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান ও প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন।

তবে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

ব্রেক্সিট অর্থাৎ ব্রিটেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগের ব্যাপারে তার নতুন পরিকল্পনা মন্ত্রিসভা ও পার্লামেন্টে অনুমোদিত হবে না- এটা স্পষ্ট হওয়ার পরই মে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন।

শুক্রবার সকালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে এক আবেগপূর্ণ বিবৃতিতে মে বলেন, সংসদ সদস্যদের বোঝাতে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। দুঃখজনক হল, আমি তাদের বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি। যুক্তরাজ্যের স্বার্থে এ বিষয়টি এগিয়ে নেয়ার জন্য একজন নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজনীয়তা এখন আমার কাছে স্পষ্ট।

সংক্ষিপ্ত বিবৃতি শেষে তার গলা ভেঙে আসে, চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠে। এ সময় তিনি বলেন, কনজারভেটিভ পার্টি নতুন নেতা নির্বাচিত না করা পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব¡ পালন করবেন। যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নিয়েছেন।

মার্গারেট থ্যাচারের পর তিনি মে-ই ব্রিটেনের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। বিদায়ের দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার ২ বছর ৩২৭ দিন পুরো হবে। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্ভাব্যদের তালিকায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসন, সাবেক ব্রেক্সিট মন্ত্রী ডমিনিক রাব, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট এবং পরিবেশমন্ত্রী মাইকেল গোভের নাম উঠে এসেছে।

ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে এ নিয়ে দু’জন কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় নিতে হল। এর আগে ডেভিড ক্যামেরন ইইউতে থাকা না থাকা প্রশ্নে গণভোট দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের সেই গণভোটে ৫২ শতাংশ ভোট ইইউ ত্যাগের পক্ষে এবং ৪৮ শতাংশ ইইউতে থাকার পক্ষে পড়ে।

এরপরই ক্যামেরন পদত্যাগ করেন; কারণ তিনি ইইউতে থাকার পক্ষে প্রচারাভিযান চালিয়েছিলেন।

তেরেসা মে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মধ্যবর্তী নির্বাচন দিলে তাতে কনজারভেটিভ পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে ডিইউপির সমর্থন নিয়ে তাদের সরকার গঠন করতে হয়। এছাড়া ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে তার মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য পদত্যাগ করতে থাকেন।

ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের বিষয়ে মে’র পরিকল্পনা ইইউ নেতাদের অনুমোদন পেলেও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে এটি পরপর তিনবার তুলেও তা পাস করাতে ব্যর্থ হন। এরপর তিনি লেবার পার্টির সমর্থন নিয়ে পরিকল্পনাটি পাস করানোর চেষ্টা করেন। এরও তীব্র বিরূপ সমালোচনা হয়। এরপরই মে’কে পদত্যাগের জন্য চাপ দিতে থাকেন তার দলের নেতারা। বিবিসি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×