জাতি ও ধর্মের ভেদাভেদ হবে না : মোদি

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় শপথ

  যুগান্তর ডেস্ক ২৭ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতি ও ধর্মের ভেদাভেদ হবে না : মোদি
ছবি: এএফপি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, জাতি ও ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ভেদাভেদ করা হবে না। সবকা সাথ, সবকা বিকাশ এবং তার সঙ্গে ‘সবকা বিশ্বাস’ হবে আমাদের মন্ত্র। শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার আগে সংবিধানে মাথা ছুঁইয়ে মোদি বলেন, ‘সংবিধানকে সাক্ষী রেখে আমরা প্রতিজ্ঞা করছি- সব বর্গের মানুষকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। ধর্ম-জাতির ভিত্তিতে কোনো ভেদাভেদ হবে না। সবকা সাথ, সবকা বিকাশ এবং তার সঙ্গে ‘সবকা বিশ্বাস’ হবে আমাদের মন্ত্র।’

রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করে নরেন্দ্র মোদি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দাবি জানান। এ সময় নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। আগামী ৩০ মে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা, এনডিটিভি, বিবিসি ও এবিপি নিউজের।

রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বেরিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, দেশবাসী বিপুল জনমত দিয়েছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাদের প্রত্যাশা। তিনি বলেন, নতুন সরকার নতুন ভারত নির্মাণে কাজ করবে। সময় নষ্ট না করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব। সবার সুরক্ষা, দেশের সমৃদ্ধি করা আমাদের দায়িত্ব। ভরসা দিচ্ছি, আপনাদের স্বপ্নপূরণে কোনো কসুর করব না।

সংসদের সেন্ট্রাল হলে নরেন্দ্র মোদিকে প্রথমে বিজেপি সংসদীয় দলের নেতা এবং পরে এনডিএর নেতা নির্বাচিত করা হয়। এনডিএ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে মোদি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে ছলনা করে তাদের আতঙ্কিত করে রাখা হয়েছে। এর থেকে ভালো হতো, যদি সংখ্যালঘুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করা হতো। ২০১৯ সালে আপনাদের থেকে আশা করব যে, এ ছলনায় ছিদ্র করতে হবে। বিশ্বাস জিততে হবে। ২০১৪ সালে সংসদ ভবনে ঢোকার সময় সিঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করেছিলেন মোদি।

এবার সংবিধানে মাথা ছুঁইয়ে তিনি বলেন, ‘সংবিধানকে সাক্ষী রেখে আমরা প্রতিজ্ঞা করছি- সব বর্গের মানুষকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। ধর্ম-জাতি ভিত্তিতে কোনো ভেদাভেদ হবে না। সবকা সাথ, সবকা বিকাশ এবং তার সঙ্গে সবকা বিশ্বাস আমাদের মন্ত্র হবে।

গত পাঁচ বছরে সংখ্যালঘুদের ওপর গোরক্ষক বাহিনীর হামলার ঘটনায় বারবার মোদির দিকে আঙুল উঠেছে। লোকসভা ভোটের আগে মার্কিন পত্রিকা তাকে ভারতের ‘ডিভাইডার ইন চিফ’ তকমা দিয়েছিল। কিন্তু মোদির কথা শুনে বিজেপি নেতাদের মনে হয়েছে, তিনি এবার বিজেপির ‘সংখ্যালঘুবিরোধী’ তকমা ঝেড়ে ফেলতে চান।

মোদির দাবি, গরিবরা তার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন। গরিবরাই নতুন সরকার গড়েছেন। এবার সমাজের বাকি সব বর্গের বিশ্বাস জিততে হবে। তিনি বলেন, দেশে গরিবরা রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কের বিষয় হয়ে গেছে। পাঁচ বছর সরকারে থাকার পর বলতে পারি, গরিবদের সঙ্গে যে ছলনা চলছিল, তাতে ছিদ্র করে আমরা সোজাসুজি গরিবদের কাছে পৌঁছে গেছি। গরিবদের সঙ্গে যে প্রতারণা হয়েছে, সেই একই প্রতারণা সংখ্যালঘুদের সঙ্গেও হয়েছে।

৩০৩ আসনে বিজেপির এবং ৩৫৩ আসনে এনডিএর জয়কে অমিত শাহ ‘প্রচণ্ড বহুমত’ আখ্যা দিয়েছেন। তবে গুরুত্ব কমার আশঙ্কায় ভুগছে বিজেপির শরিক দলগুলো। সেই আশঙ্কা দূর করতে মোদি বুকে হাত রেখে বলেছেন, এনডিএকেও আরও মজবুত করতে হবে। আরও অনেককে এনডিএর সঙ্গে জুড়তে হবে। অটল বিহারী বাজপেয়ীর মৃত্যুর পর সংসদের সেন্ট্রাল হলে তার বিশাল ছবি টাঙানো হয়েছে। তার দিকে তাকিয়ে মোদি বলেন, অটলজি যেমন এনডিএর সম্প্রসারণ করেছিলেন, আমাদেরও সেই পথে হাঁটতে হবে। আমাদের সাফল্য দেখে অটলজি আজ হাসছেন।

এনডিএর শরিকদের পুরোপুরি পাশে রাখতেই প্রবীণ অকালি দল নেতা প্রকাশ সিংহ বাদলকে দিয়ে এনডিএর দলনেতা হিসেবে মোদির নাম প্রস্তাব করানো হয়। এতে একে একে সমর্থন করেছেন জেডিইউর নীতিশ কুমার, শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে, এডিএমকের ই পলানিস্বামী, এনডিপিপির নেফিয়ু রিয়ো, এনডিপির কনরাড সাংমা।

এর আগে অমিত শাহ বিজেপির দলনেতা হিসেবে মোদির নাম প্রস্তাব করার পর রাজনাথ সিংহ ও নিতিন গড়কড়ি তাতে সমর্থন জানান। এ সময় সেন্ট্রাল হলজুড়ে ‘মোদি-মোদি’ জয়ধ্বনি শোনা যায়।

রোববার রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্র জানায়, আগামী ৩০ মে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় রাষ্ট্রপতি ভবনে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের টুইটার হ্যান্ডলে এ ঘোষণা করা হয়েছে। একইদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শপথ নিতে পারেন কয়েকজন মন্ত্রীও। তবে সেই তালিকায় কারা থাকবেন, তা নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে গোপনীয়তা রাখা হয়েছে। মোদি ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, মন্ত্রিসভায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে নতুন মুখ নিয়ে আসার পক্ষপাতী দু’জনই। তাই ৩০ মে রাষ্ট্রপতি ভবনে একাধিক বাঙালিকে শপথ নিতে দেখা যেতে পারে বলেও একটি সূত্রে ইঙ্গিত।

মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন : রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এখন সব মহলেই আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হিসেবে দেখা যাবে কাদের আর বাদ পড়ছেন কারা। বিজেপি সূত্রে জানা যায়, এবার সর্বোচ্চ ৮০ জনকে মন্ত্রী করা হতে পারে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ৩৪০টি আসন পাওয়ায় প্রতি চারজন এমপি-পিছু একজনকে মন্ত্রী করা হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুরুতেই এতজনকে মন্ত্রী করা হবে না। পূর্ণ মন্ত্রী, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে ৭০ জনের নাম আসছে মন্ত্রিসভার তালিকায়। অর্থ, প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে মোদি নিজ দলের লোকই রাখবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ এ চারটিই প্রথম সারির মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীসহ এই চার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির সদস্য।

ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে এবার মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হিসেবে দেখা যেতে পারে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহকে। ২০১৪ সালের মন্ত্রিসভার তালিকায় তার নাম রাখা হয়নি। কিন্তু দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পেছনে অমিত শাহর দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য এবার তাকে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হতে পারে। তবে বিজেপির যেহেতু নিয়ম আছে একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে দুটি পদে থাকতে পারবেন না, সে ক্ষেত্রে অমিত শাহকে দলের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে। তিনি পেতে পারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব। সে ক্ষেত্রে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণকে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মনোহর পারিকারের জায়গায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে তিনিই দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বিজেপি সভাপতির পরই মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদে নাম আসছে রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের। অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির স্থানে হয়তো এবার তাকেই দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। আর শারীরিক অসুস্থতার কারণে অরুণ জেটলিকে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হতে পারে। নতুন মন্ত্রিসভার জন্য প্রথম চ্যালেঞ্জই হবে আগামী জুলাইয়ে জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা।

উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের ঘাঁটি আমেথিতে রাহুল গান্ধীকে হারানোর পর আলোচনায় এসেছেন বস্ত্রমন্ত্রী ও সাবেক অভিনেত্রী স্মৃতি ইরানি। নতুন মন্ত্রিসভায় তার গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হিসেবে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবের নামও আসছে সংবাদমাধ্যমগুলোতে। রাম মাধবকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করা হতে পারে। এরপরই নাম আসছে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের। তাকেও মন্ত্রিসভায় জায়গা দেয়া হতে পারে। এ ছাড়াও নতুনদের মধ্যে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং, নিতিন আয়োগ, নন্দন নিলেকেনির নাম শোনা যাচ্ছে।

মোদির এবারের মন্ত্রিসভায় জোটসঙ্গী শিবসেনা এবং সংযুক্ত জনতা দলের (জেডি-ইউ) জয়ী প্রার্থীদের মধ্য থেকেও কাউকে জায়গা দেয়া হতে পারে। এদের মধ্যে শিবসেনার অনন্ত গীতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে বলা হচ্ছে। যদিও লোকসভা নির্বাচনে হেরেছেন গীতি। কারণ শিবসেনার সঙ্গে বিগত সময়ের বাদানুবাদ কিছুটা হলেও এবার মিটিয়ে নিতে চাইবেন মোদি। এ ছাড়া ভারতীয় জনশক্তি পার্টির নেত্রী উমা ভারতীকেও মোদির মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের তিন থেকে চারজন এমপিকে এবার মন্ত্রিসভায় নিতে পারেন মোদি। ওই রাজ্য থেকে একজন আদিবাসী এমপিকে মন্ত্রী করা হতে পারে। সেদিক থেকে আলিপুরদুয়ারের জন বার্লার নাম সামনে আসছে। বাংলা থেকে একজন নারীকেও মন্ত্রী করার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে রাজ্যের নারী সংগঠনের সভানেত্রী ও অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের নাম আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া জোরালোভাবে সামনে আসছে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও আরেক প্রভাবশালী নেতা মুকুল রায়ের নাম।

চলতি বছরের শেষের দিকে মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনের ফল বিবেচনায় রেখেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারেন মোদি।

ঘটনাপ্রবাহ : ভারতের জাতীয় নির্বাচন-২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×