নাড়ির টানে বাড়িফেরা

ঈদ আনন্দযাত্রায় স্বস্তি

সড়কপথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ৫-৬ ঘণ্টা, সিলেট ৬ ঘণ্টা, রাজশাহী ৬ ঘণ্টা ও খুলনায় ৭-১০ ঘণ্টায় পৌঁছছেন যাত্রীরা * কয়েকটি ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ে দুর্ভোগ * বৈরী আবহাওয়ায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর লঞ্চ চলাচল শুরু

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যানজটের ভোগান্তি ছাড়াই নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছেন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা। রোববার দেশের প্রধান প্রধান মহাসড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-রাজশাহী রুটে যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে পর্যাপ্ত ফেরি থাকায় সমস্যা হয়নি নদী পারাপারে। এদিন বৃষ্টি হলেও তা দুর্ভোগের কারণ হয়নি। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম সড়কপথে ৫-৬ ঘণ্টা, সিলেট ও রাজশাহী ৬ ঘণ্টা এবং খুলনায় যাত্রীরা পৌঁছেছেন ৭-১০ ঘণ্টায়। এমন নির্বিঘ্ন যাত্রায় খুশি সবাই। পথে পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর কর্মীদের সতর্ক অবস্থানের কারণেই ঈদ আনন্দযাত্রায় ভোগান্তি স্পর্শ করতে পারেনি বলে জানান তারা।

রোববার বৈরী আবহাওয়ার কারণে যাত্রী নিরাপত্তায় সারা দেশে দেড় ঘণ্টা লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এরপরই সদরঘাটসহ সব নদীবন্দর থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। ভরপুর যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে গেছে লঞ্চগুলো। তবে কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন কয়েকটি ট্রেনের যাত্রী। রোববার অন্তত নয়টি ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ের পরে ছাড়ায় কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের।

এ ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে রেলওয়ে, লঞ্চ টার্মিনাল ও টোল প্লাজা পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তারা সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত থেকে মূলত ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, আজ সোমবার গার্মেন্টসহ সব অফিস-আদালতে শেষ কর্মদিবস। এদিনই বেশির ভাগ মানুষ গন্তব্যে যাবেন। এ কারণে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে চাপ তুলনামূলক বাড়বে।

সরেজমিন রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে দেখা গেছে, রোববার সকালে যাত্রীচাপ কিছুটা থাকলেও বৃষ্টির পর তা কমে আসে। তবে বিকালের পর থেকে তা বাড়তে থাকে। যেসব যাত্রী আগেই টিকিট কেটেছেন, তারা সময়মতো গাড়িতে উঠছেন। আর যারা অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেননি, তারাও টার্মিনালে এসে তাৎক্ষণিকভাবে টিকিট নিয়ে বাসে উঠেছেন।

কারওয়ান বাজার থেকে ময়মনসিংহে পরিবার নিয়ে ঈদ করতে যাচ্ছেন ব্যাংকার সাজ্জাদ হোসেন। মহাখালী বাস টার্মিনালে তিনি যুগান্তরকে বলেন, বাসের টিকিট পেয়েছি। নির্ধারিত মূল্যেই টিকিট কেটেছি। বাস সময়মতো ছেড়ে যাচ্ছে। এ টার্মিনালে এনা পরিবহনের টিকিট কাউন্টারে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কিনছেন। একাধিক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এনা কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা আলিম জানান, লম্বা ছুটির কারণে যাত্রীদের চাপ কম। তবে আজ গার্মেন্ট ছুটি হওয়ার পর চাপ বাড়বে। বাড়তি যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে সব প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের হানিফ পরিবহনের ম্যানেজার ফারুক যুগান্তরকে বলেন, শুধু ঢাকা-কক্সবাজার এবং ঢাকা-রাঙ্গামাটির রুটের গাড়িতে সিট নেই। এছাড়া আমাদের প্রায় প্রতিটি গাড়িরই কিছু কিছু সিট ফাঁকা যাচ্ছে। যাত্রীর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের মতো। ঈদের আগে অন্যবার যেমন হয়, এবার তেমন ভিড় নেই।

সরেজমিন দেখা গেছে, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকা-কুমিল্লা, ঢাকা-মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন রুটের লোকাল বাস ছেড়ে যাচ্ছে। এসব বাসেও তেমন একটা ভিড় ছিল না। উল্টো অন্য সময়ের মতো বাসের হেলপার-ম্যানেজাররা ব্যস্ত ছিলেন যাত্রী ডাকাডাকিতে। সেখানেই কথা হয় মাহমুদ পরিবহনের ম্যানেজার মামুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদের ভিড় বলতে যা বোঝায়, এবার তা নেই। আজও আমাদের গাড়ি ফাঁকা যাচ্ছে। তবে সোমবার যাত্রী বাড়বে বলে আশা তার।

কুমিল্লা ব্যুরো জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী-শীতালক্ষ্যার নতুন সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার সুবিধা পাচ্ছেন কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের বাসিন্দারা। নতুন সেতু চালুর আগেও এ মহাসড়কে ৫০-৬০ কিলোমিটার যানজট হতো। কিন্তু গত কয়েকদিনে যানজট হয়নি। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা থেকে যাত্রীরা কুমিল্লা পৌঁছেছেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা হানিফ, ঈগল, সোহাগ, শ্যামলীসহ অন্যান্য পরিবহনের গাড়িগুলো ৫-৬ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম পৌঁছেছে। তবে চট্টগ্রামের ট্রেনযাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেকেই ট্রেনের টিকিট পাননি। এদের কেই কেউ ট্রেনের ছাদে চড়েছেন। আবার অনেকেই টিকিট পেলেও প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে নিজের সিটে বসতে পারেননি। সিলেট ব্যুরো জানিয়েছে, ঢাকা থেকে সিলেট যেতে মাত্র ৫-৬ ঘণ্টা সময় লাগছে। রাজশাহী ব্যুরো জানিয়েছে, ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী বাস শনিবার রাত ও রোববার দিনে তেমন কোনো যানজটে পড়েনি। যাত্রীরা ঢাকা থেকে ৬ ঘণ্টায় রাজশাহী পৌঁছেছেন। খুলনা ব্যুরো জানায়, রাজধানী থেকে খুলনায় সড়কপথে স্বস্তিতে ফিরছেন যাত্রীরা। তারা জানিয়েছেন, গুলিস্তান থেকে মাওয়া ঘাট হয়ে ৬-৭ ঘণ্টার মধ্যেই খুলনা পৌঁছে যাচ্ছেন। তবে আবদুল্লাহপুর থেকে আরিচা ফেরিঘাট দিয়ে যশোর হয়ে খুলনা পৌঁছাতে সময় লাগছে ১০-১১ ঘণ্টা। ঘাটে যানজট না থাকলেও ফেরির জন্য সিরিয়ালে পড়তে হচ্ছে। কল্যাণপুর থেকে আসা যাত্রী ইমরান বলেন, এসি বাসে শনিবার রাত পৌনে ১০টায় তিনি খুলনার উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু সোনাডাঙ্গা এসে পৌঁছেছেন রোববার সকাল ৯টায়। উল্টো কথা বললেন আবদুল্লাহ মোহাম্মদ মুজাহিদ নামের আরেক যাত্রী। তিনি বলেন, কল্যাণপুর থেকে রোববার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে সোহাগ পরিবহনের বাসে উঠে বিকাল ৩টার মধ্যে খুলনা পৌঁছেছেন। তিনি বলেন, ঘাটে কোনো যানজট ছিল না। পুলিশের টহল ছিল খুব ভালো। সড়কের কোথাও বাস থামেনি।

ট্রেন সিডিউল বিড়ম্বনায় যাত্রীরা : রোববার সকালের দিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে হাজির হন যাত্রীরা। এ দিনও ৯টি ট্রেন ২০ মিনিট থেকে ৫ ঘণ্টা দেরিতে কমলাপুর স্টেশন ছেড়েছে। এদিকে কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ঈদের আগে এসব ট্রেনের সূচি আর ঠিক করা সম্ভব হবে না। কারণ, একটি ট্রেন বিলম্বে চলছে। এ কারণে পরবতী ট্রেনটিও বিলম্বে চলাচল করে।

দেখা গেছে, রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত ২০টি ট্রেনের মধ্যে তিনটি ট্রেন ছাড়তে দেরি করেছে। এর মধ্যে চিলাহাটীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও এটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ছেড়ে যায়। এ ছাড়া ধূমকেতু ৩ ঘণ্টা, সুন্দরবন এক্সপ্রেস ২ ঘণ্টা দেরিতে কমলাপুর ত্যাগ করে। এ ছাড়াও দুই অঞ্চলে জয়ন্তিকা, মহানগর গোধূলী, দ্রুতযান, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, চট্টলা ও একতা এক্সপ্রেস ট্রেন ২০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে। ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হক জুয়েল বলেন, মূলত ৩টি ট্রেন বেশি দেরিতে চলাচল করেছে। বাকি ৬টি ট্রেন ২০ থেকে ৪০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। প্রথম দু’দিন দেরি করলেও রোববার রংপুর এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময় সকাল ৯টায়ই ছেড়েছে বলে তিনি জানান। রোববার কমলাপুর থেকে ৫৫টি ট্রেন ছেড়ে গেছে।

বৈরী আবহাওয়ায় লঞ্চ চলাচল দেড় ঘণ্টা বন্ধ : বৈরী আবহাওয়ার কারণে রোববার দেড় ঘণ্টা লঞ্চ বন্ধ রাখা হয়। এ সময়ে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ফেরিও বন্ধ ছিল। বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর এম মাহবুব উল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ঝড়ো হাওয়া বৃষ্টি এবং আবহাওয়া সংকেত থাকায় রোববার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সারা দেশে নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্যই এ উদ্যোগ নেয়া হয়। তিনি জানান, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে বেলা সাড়ে ১১টার পর ফের নৌযান চলাচল শুরু হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, সকালে সদরঘাটে যাত্রী উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে থাকে। ঢাকা থেকে বরিশালসহ দেশের ৪৩টি রুটে শতাধিক লঞ্চে ভরপুর যাত্রী গন্তব্যে গেছেন।

এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক -মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী : কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেছেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে এখান দিয়ে আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনরা তাদের বেতন-বোনাস নিয়ে নিরাপদে যেন বাড়িতে যেতে পারেন সে জন্য তারা প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। ফলে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হচ্ছে। শনিবার চন্দ্রায় পুলিশ কন্ট্রোল রুমে বিফ্রিং অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

উৎসবে অতিরিক্ত মুনাফা করতে গিয়ে কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন -নৌপ্রতিমন্ত্রী : ঈদ উৎসবে অতি মুনাফা করতে গিয়ে যাত্রী বা নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য মালিকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। রোববার সদরঘাটে যাত্রী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

শনিবার রাতে নিয়ম ভেঙে কয়েকটি লঞ্চ সদরঘাট টার্মিনালে প্রবেশের চেষ্টার ঘটনা প্রসঙ্গে নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক। অতিরিক্ত উত্তেজনার কারণে এটি হয়েছে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। এগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি ঈদযাত্রা সন্তুষ্টির মধ্যেই শেষ হবে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন নৌপরিবহন সচিব মো. আবদুস সামাদ, অতিরিক্ত সচিব ভোলানাথ দে, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর মো. মাহবুব উল ইসলাম প্রমুখ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×