ঈদযাত্রা: সড়কে স্বস্তি, নৌপথ ও রেলে বাড়তি চাপ

চতুর্থ দিনেও দেরিতে ছেড়েছে বেশ কয়েকটি ট্রেন * লঞ্চের ছাদে চড়েও ঈদযাত্রা * গাবতলীতে অর্ধশতাধিক মোড়া জব্দ

  যুগান্তর ডেস্ক ০৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রেলে চাপ
রেলে চাপ। ফাইল ছবি

মহাসড়কে যানজটের ভোগান্তি নেই। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে অনেকটা স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ। সোমবার রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদসহ বিভিন্ন টার্মিনালে যাত্রীর তেমন চাপ দেখা যায়নি।

দিনের শেষদিকে টিকিট পেতে কিছুটা হাহাকার দেখা গেলেও নাড়ির টানে ছোটা মানুষের ঈদ আনন্দের কাছে সামান্য এ বিড়ম্বনা ম্লান হয়ে গেছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের ঈদে দীর্ঘ ছুটি থাকায় আগেই অনেক যাত্রী ঢাকা ছেড়েছেন। এ কারণে যাত্রীর তেমন চাপ নেই।

তবে নৌপথ ও রেলপথে যাত্রীর তীব্র চাপ দেখা গেছে। ঢাকা নদীবন্দরে অনেক যাত্রী লঞ্চের ছাদে চড়ে গন্তব্যে রওনা হন। কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনেও বেশ কয়েকটি ট্রেন দেরিতে ছেড়েছে। এতে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। যুগান্তর রিপোর্ট ও প্রতিনিধিদের খবর-

রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে সোমবার সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ ছিল স্বাভাবিক। দুপুরে টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টিকিট বা যানবাহনের কোনো সংকট নেই। টিকিট বিক্রেতা এক প্রকার অলস সময় পার করছেন। টার্মিনালজুড়ে সারি সারি ফাঁকা বাস দাঁড় করানো। দীর্ঘ সময় পরপর একটি দুটি করে বাস গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছে। হিমাচল পরিবহনের ম্যানেজার নজরুল যুগান্তরকে বলেন, এবার ঈদে যাত্রীর চাপ নেই বললেই চলে। আজ একটু চাপ হওয়ার কথা ভেবেছিলাম, তবে হয়নি। ভিআইপি কাউন্টারে কথা হয় ব্যাংক কর্মকর্তা ইকবাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যশোরের বেনাপোলে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, কাউন্টারে এসেই টিকিট পেয়েছি, কোনো ধরনের ঝামেলা পোহাতে হয়নি। বাসচালক রেজা হোসেন বলেন, সড়কের অবস্থা ভালো। তেমন কোনো যানজট নেই। তারপরও কেন যাত্রী নেই, বুঝতে পারছি না।

মহাখালী বাস টার্মিনালে ময়মনসিংহ রুটের যাত্রীদের ব্যাপক চাপ লক্ষ্য করা গেছে। তবে এই রুটে পর্যাপ্ত বাস থাকায় তেমন ভোগান্তি নেই। সোমবার দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, এনা কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের ভিড় লেগে আছে। টিকিট কিনতে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন। তবে অন্যান্য বাস কাউন্টারে কোনো ধরনের ভিড় দেখা যায়নি। বাড়তি ভাড়া নেয়ারও কোনো অভিযোগ নেই।

এদিকে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভিড় বেশি থাকায় তাদের একটু অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবদুল হালিম নামে এক যাত্রী স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ময়মনসিংহ যাবেন। তিনি বলেন, আধা ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করেছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাস ছেড়ে দেবে। এটুকু অপেক্ষা ঈদের আগে ভোগান্তি বলে মনে হয়নি। এনার বাস কাউন্টারের লাইনে দাঁড়ানো শহীদুর রহমান বলেন, ২০ মিনিট ধরে টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। হয়তো ৫-১০ মিনিটের মধ্যে টিকিট পাব।

এনা পরিবহনের কাউন্টারম্যান টিটু মিয়া যুগান্তরকে বলেন, যাত্রীদের চাপ অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি। তবে আমাদের বাসের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত বাস থাকার কারণে সমস্যা হচ্ছে না। যাত্রীরা একটু অপেক্ষা করেই যেতে পারছেন। তাছাড়া ঈদে অতিরিক্ত কোনো ভাড়া নেয়া হচ্ছে না।

মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রীর চাপ না থাকার কারণ হিসেবে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের শ্রমিক নেতা আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এই টার্মিনাল থেকে সাধারণত বৃহত্তর ময়মনসিংহ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ এবং সিলেট অঞ্চলে বাস যাওয়া-আসা করে। তুলনামূলক দূরত্ব কম হওয়ার কারণে একটু পরপর বাস ছাড়া হয়। এ কারণে এই টার্মিনালে তুলনামূলক ভিড় কম।

গাবতলীতে টিকিটের জন্য হাহাকার : সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোনো চাপই ছিল না। বেশ হতাশায় পড়েছিলেন পরিবহন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বিকাল গড়াতেই পাল্টে যায় দৃশ্য। শেষ সময়ে গাবতলী বাস টার্মিনালে টিকিটের জন্য হাহাকার ওঠে। ব্যাপক যাত্রীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় বাস সংশ্লিষ্টদের। এই সুযোগে টিকিটের দাম বেশি নেয়ার অভিযোগও করেন অনেক যাত্রী। সন্ধ্যায় যাত্রীর ভিড়ে বাড়তি ফায়দা লুটতে গিয়ে মোড়া বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়েছে ‘সিডি ডিলাক্স’ বাসের কর্তৃপক্ষকে। বাসের দুই সিটের মাঝে ফাঁকা জায়গায় মোড়া দিয়ে যাত্রী পরিবহনের জন্য টিকিট বিক্রি করছিল চুয়াডাঙ্গা রুটে চলাচলকারী সিডি ডিলাক্স বাসের লোকজন। খবর পেয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিববহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামিউল ইসলাম হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এ সময় অর্ধশতাধিক বেতের মোড়া জব্দ এবং বাস কর্তৃপক্ষকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ প্রসঙ্গে বিআরটিএর ফিজিলেন্স টিমের দায়িত্বে থাকা মোটরযান পরিদর্শক জিল্লুর রহমান চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, বিআরটিএর আদালত-৪ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এই জরিমানা করেছেন।

এদিকে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়ায় টিকিট পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জের কাজিপুর থানার মো. মিজান। তিনি জানান, এসি টিকিট অন্য সময় বিক্রি হয় ৩০০ টাকা, সেটি এখন নেয়া হচ্ছে ৬০০ টাকা। নন-এসি টিকিট আগে নেয়া হতো ২৫০ টাকা, এখন নেয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা। প্রায় একই রকম অভিযোগ করেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর যাত্রী বেসরকারি চাকরিজীবী মোকাররম। তিনি জানান, টিকিটের হয়রানির ভয়ে পরিবার-পরিজনদের বেশ কয়েকদিন আগেই গ্রামে পাঠিয়েছি। আজ (সোমবার) এসে দেখি টিকিট নেই। অবশেষে বাধ্য হয়েই অনেক বেশি ভাড়া দিয়ে নিতে হয়েছে। তবে বাসের দায়িত্বশীলরা বেশি ভাড়া নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার বরেন। ঢাকা-পাংশা-রাজবাড়ী-খোকশা-কুমারখালী-কুষ্টিয়ার রুটে চলাচলকারী রোজিনা পরিবহনের পলাশ জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তেমন যাত্রীই ছিল না। গত কয়েকদিন আমরা লোকসান দিয়েছি। সরকার নির্ধারিত দামের বেশি নেয়া হচ্ছে না।

লঞ্চে তীব্র যাত্রীর চাপ : সোমবার ঢাকা নদীবন্দরে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষ লঞ্চে উঠতে শুরু করেন। তাদের সঙ্গে ছিল প্রিয়জনদের জন্য কেনা ঈদ উপহার, গৃহস্থালিতে ব্যবহারের জিনিসপত্র ও কাপড়চোপড়ের ব্যাগ। এদিন লঞ্চগুলোতে যাত্রী ভরপুর হওয়ার পরই তা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এর ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অর্ধশতাধিক লঞ্চ নির্ধারিত সময়ের আগেই ছেড়ে গেছে। অনেক লঞ্চের ছাদে, বেলকুনিতে ও পায়ে হাঁটার পথেও যাত্রী চড়ে যেতে দেখা গেছে।

তবে সদরঘাটে পৌঁছতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সদরঘাটে আসার পথে রায়েরসাহেব বাজার, ভিক্টোরিয়া পার্ক, বাংলাবাজার, ওয়াইজঘাট এলাকায় রাস্তার দুইপাশের একটি বড় অংশজুড়ে হকাররা বসেছে। এর ফলে এসব এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর খুব একটা তৎপরতা দেখা যায়নি। মিরপুর থেকে আসা বরিশালের যাত্রী আবু সুফিয়ান বলেন, মিরপুর থেকে শাহবাগ পর্যন্ত যানজট পাইনি। গুলিস্তান ও রায়েরসাহেব বাজার পর্যন্ত থেমে থেমে যানজট ছিল। কিন্তু রায়েরসাহেব মোড় থেকে সদরঘাট পর্যন্ত ভয়াবহ যানজট। গাড়ি ছেড়ে ব্যাগ-লাগেজ নিয়ে হেঁটে সদরঘাট আসতে হয়েছে। তিনি বলেন, ফুটপাত থেকে হকার সরিয়ে দিলে মানুষ স্বচ্ছন্দে আসতে পারত।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, তিন দিন আগেও ওয়াইজঘাট, শ্যামবাজার, ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে সদরঘাট পর্যন্ত এক্সকেভেটর দিয়ে হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে। যাত্রী ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সকাল থেকেই যাত্রীচাপ রয়েছে। ঘাটে পর্যাপ্ত লঞ্চও রয়েছে। পন্টুনে অনেক বেশিসংখ্যক যাত্রী যাতে একই সময়ে এসে দুর্ঘটনা না ঘটে সেজন্য প্রবেশপথ ম্যানেজমেন্ট করা হচ্ছে।

দেখা গেছে, যাত্রী চাপ এড়াতে জেলা অনুযায়ী পৃথক তিনটি ঘাট থেকে লঞ্চ চলাচল করেছে। ঘাটের বাইরে বড় ব্যানার দিয়ে লঞ্চের রুট ও ঘাটের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে যাত্রীরা সহজেই তাদের ঘাটে পৌঁছতে পেরেছেন। তবে পন্টুনে চাপ থাকায় কাক্সিক্ষত লঞ্চে উঠতে বেগ পোহাতে হয়েছে অনেক যাত্রীকে। এদিকে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা পরিবদর্শনে সদরঘাটে কর্তব্যরত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসনের দু’জন ম্যাজিস্ট্রেট, পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য, কোস্টগার্ড সদস্য এবং বিএনসিসির সদস্যরা। এছাড়াও নৌমন্ত্রণালয়ের একটি টিম সার্বিক বিষয় মনিটরিং করেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বড় ধরনের অপ্রীতিকর কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

কমলাপুরে উপচে পড়া ভিড় : কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীর ভিড়ে তিল ধারনের ঠাঁই ছিল না। ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনেও বেশ কয়েকটি ট্রেন ছেড়েছে দেরিতে। সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ৪২টি ট্রেন ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হক জুয়েল। তবে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টার পরিবর্তে দুপুর দেড়টা, লালমনি ঈদ স্পেশাল সকাল সোয়া ৯টার পরিবর্তে দুপুর ১২টা এবং রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টার পরিবর্তে পৌনে ১১টায় এবং ময়মনসিংহগামী ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস বেলা সাড়ে ১১টার পরিবর্তে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ছেড়ে যায়। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী রাজশাহী এক্সপ্রেস দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও দুপুর সোয়া ২টায়ও রওনা হতে পারেনি। এছাড়া রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ছাড়ার সময় দুপুর ২টা ৪০ মিনিট হলেও ট্রেনটি বিকাল সাড়ে ৩টায় ছেড়ে গেছে। এসব ট্রেন ছাড়তে দেরি হওয়ার বিষয়ে আমিনুল হক বলেন, ওইসব ট্রেনে যাত্রীর চাপ বেশি এবং দূরপাল্লার ট্রেন। ঈদ উপলক্ষে প্রায় সব স্টেশনে সাধারণ সময়ের চেয়ে ৪/৫ মিনিট দেরি হচ্ছে, কারণ ঈদে যাত্রীর ভিড় আছে, মানবিক কারণেই যাত্রীরা যাতে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে পারেন, সেই সময়টুকু স্টেশনে বিলম্ব করতে হয়। তাছাড়া নিরাপত্তার জন্য প্রায় অধিকাংশ ট্রেনই ধীরগতিতে চালাতে হচ্ছে। আমাদের কাছে যাত্রীদের নিরাপত্তাই সবার আগে।

নীলসাগর এক্সপ্রেসের যাত্রী মিলন মিয়া জানান, তিনি সকাল সাড়ে ৬টায় স্টেশনে এসেছেন। কিন্তু ট্রেনের বিলম্বের কারণে তাকে অন্তত ৫ ঘণ্টা স্টেশনে বসে থাকতে হয়।

এদিকে বিনা টিকিটে যাতে কোনো যাত্রী ট্রেনে উঠতে না পারে সে জন্য কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে বলে জানান স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল। তিনি বলেন, প্রবেশ পথগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা টিকিট চেক করে যাত্রীদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় দ্বিগুণ গাড়ি পারাপার : গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি জানান, স্বাভাবিক সময়ে এ নৌপথে প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার যানবাহন পারাপার হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে এ সংখ্যা ৭ হাজারের বেশি। এছাড়া অন্যান্য সময় এই নৌপথে ২২টি লঞ্চ চলাচল করে। তবে ঈদ উপলক্ষে আরও ১২টি লঞ্চ বাড়িয়ে বর্তমানে চলাচল করছে ৩৪টি লঞ্চ। এতে প্রতিদিন লঞ্চেই পার হচ্ছে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

সোমবার দুপুরে সরেজমিন দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ও লঞ্চ ঘাটে ছিল উপচে পড়া ভিড়। তবে ছিল না তেমন কোনো ভোগান্তি। যাত্রীরা জানান, কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই ঢাকা থেকে ফিরতে পারছেন তারা। পথে পথে এ বছর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল চোখে পড়ার মতো।

দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিএ’র সুপারভাইজার মোফাজ্জেল জানান, এ বছর ভোগান্তি কমাতে একটু আলাদা কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে। আমরা নিজেরা লঞ্চ তদারকি করছি। কোন লঞ্চে বাড়তি যাত্রী যাতে না নিতে পারে সে জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত রয়েছে।

শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি রুটে বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ : মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে সোমবার সকাল থেকে লঞ্চে ও স্পিডবোটে যাত্রী চাপ বেড়েছে। তবে এদিনও ফেরিতে যানবাহন সংকট ছিল। শিমুলিয়া ঘাটে প্রতিটি ফেরি দীর্ঘ সময় যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। স্পিডবোটগুলোতে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এদিনও যাত্রী প্রতি ৩০-৫০ টাকা ভাড়া বেশি নেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। এদিকে যাত্রী চাপের কারণে লঞ্চগুলো ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে পার হয়েছে। নদীতে নাব্য সংকট না থাকায় ফেরি ঘাটে ভোগান্তির চিত্র চোখে পড়েনি। শিমুলিয়া ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরিগুলো যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। পদ্মা পাড়ি দিয়ে এসে কাঁঠালবাড়ি থেকে বাস, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা। এক্ষেত্রে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। এ নৌরুটে ১৮টি ফেরি, ৮৭টি লঞ্চ ও ২ শতাধিক স্পিডবোট দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে স্বস্তিতে ফিরছে মানুষ : টাঙ্গাইল ও কালিয়াকৈর প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে গাড়ির চাপ থাকলেও সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোথাও যানজট হয়নি। ফলে ঈদে ঘরমুখো মানুষ এ সড়কে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরেছে। তবে বিকাল থেকে গাড়ির চাপ বেড়েছে। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুর রহমান জানান, স্বাভাবিক সময় ২৪ ঘণ্টায় ১১/১২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। রোববার সকাল ছয়টা থেকে সোমবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ২৪ হাজার ৫৬৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। সোমবার সারাদিন যানবাহনের চাপ থাকলেও ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের কোথাও যানজট হয়নি। অন্যান্যবার ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার পরেই অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এই মহাসড়কে জট লেগে যেত।

টাঙ্গাইলের ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) রফিকুল ইসলাম সরকার জানান, সোমবার গাজীপুর ও ঢাকার আশপাশের পোশাক কারখানার ছুটি হয়েছে। তাই বিকাল থেকে এ সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে যানজট হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জানা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ফ্লাইওভার চালু হওয়ার ফলে কালিয়াকৈর যানজটমুক্ত হয়েছে। সরেজমিন সোমবার চন্দ্রা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফ্লাইওভার দিয়ে দুরপাল্লার বাস, মালবাহী ট্রাক, ভারি নানা ধরনের যানবাহন উত্তরবঙ্গ থেকে চন্দ্রা ও কোনাবাড়ী ফ্লাইওভার দিয়ে অবাধে চলাচল করছে। অপরদিকে ঢাকা ও গাজীপুর ময়মনসিংহ থেকে আসা নানা ধরনের যানবাহন ওই দুটি ফ্লাইওভার দিয়ে উত্তরবঙ্গে চলে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×