সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চায় না মিয়ানমার

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো চায় না রোহিঙ্গারা ফেরত যাক * চাপ থাকলে ‘যা চান তা লিখতে পারেন না’ বলতেন না * তারেকের শাস্তি কার্যকর হবে * ঈদে জঙ্গি হামলার হুমকি ছিল * যতই ভিআইপি হোক, চেক করা ছাড়া ইমিগ্রেশনে প্রবেশ নয় * তিস্তা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করার দরকার নেই * মুসলিম বিশ্বের খুনোখুনিতে লাভবান হচ্ছে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১০ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সংবাদ সম্মেলনে প্রধনামন্ত্রী শেখ হাসিনা
সংবাদ সম্মেলনে প্রধনামন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: যুগান্তর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে আমরা চুক্তি করেছি। কিন্তু মিয়ানমার তাদের নিতে চায় না। তিনি বলেন, ইস্যুটি নিয়ে আমরা ভারত, জাপানসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে কথা বলেছি।

সবাই বলেছেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক, তাদের ফিরিয়ে নেয়া উচিত। আগামী জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পরিকল্পনা আছে। সেখানেও এ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান তিনি।

রোববার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড সফরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদীয় দলের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

এ সময় মঞ্চের সামনে সিনিয়র সাংবাদিক, মন্ত্রী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া নিয়ে বিভিন্ন দাতা সংস্থার অনীহা, ঈদে জঙ্গি হামলার হুমকির বিষয় নিয়ে কথা বলেন। এ ছাড়া বিমানবন্দরে ভিআইপিসহ সবার নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশনের চেকিং ব্যবস্থা কঠোর করা, ইসলামী সহযোগী সংস্থা ‘ওআইসি’র সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থাকা, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি, তারেকের শাস্তি কার্যকরসহ বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। ক্যাম্পগুলোতে অপ্রীতিকর ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে বিজিবি, পুলিশ ও সেনাবাহিনী আছে। সব সময় টহলসহ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

কিন্তু সমস্যা দেখছি- ভলান্টিয়াররা (স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা) চায় না কোনো রিফিউজি নিজ দেশে ফিরে যাক। প্রত্যাবাসনের জন্য যখন তালিকা করলাম, তখন তারা (রোহিঙ্গারা) ফিরে না যাওয়ার জন্য আন্দোলন শুরু করল। এর পেছনে কারা, কেন উসকানি দেয়? অনেক সংস্থা চায় না তারা ফিরে যাক। কারণ রোহিঙ্গারা ফিরে গেলে তাদের চাকরি থাকবে না, ফান্ড আসবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়টি ওআইসির সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, সম্মেলনে এশিয়ার পক্ষ থেকে আমি বক্তব্য দিয়েছি। এতে জঙ্গিবাদ ও রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করি। মুসলিম দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার বিষয়েও কথা হয়।

লিখিত বক্তব্যের শুরুতে জাপান সফরের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপান সফরে কিছু চুক্তি সই করেছি। কয়েকটি প্রকল্পে তারা বিনিয়োগ করছে। ২৫০ কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা চুক্তি হয়েছে। ঢাকার হলি আর্টিজানে নিহত জাপানিদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে তাদের সমবেদনা জানানোর বিষয়টিও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাপান সফর শেষে সৌদি সফরের বিষয়টি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাপান থেকে সৌদি আরব যাওয়ার সময় পাইলট যখন জানালেন, আমরা চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে যাচ্ছি। তখন মনে হল, কোথায় যাচ্ছি? নিজের দেশে নেমেই যাই, পরের দিন সৌদি আরব যাব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এবারের ঈদে জঙ্গি হামলার হুমকি ছিল। গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিক চেষ্টায় কোনো অঘটন ছাড়াই সব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, আমি ঈদের জামাতের সময় খুবই চিন্তিত ছিলাম। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ বাহিনী, র‌্যাব থেকে শুরু করে সবাই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। সে জন্য খুব সুষ্ঠুভাবে ঈদের জামাতগুলো সম্পন্ন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নানা ধরনের হুমকি দেয়া হয়। সারাক্ষণই এসব হচ্ছে। সবটা আমি বলে মানুষকে ভীত করতে চাই না। এগুলোর পেছনে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করে এবং তাদের বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা নেয়ার, তা আমরা নিয়ে থাকি। তিনি বলেন, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ বাহিনী, র‌্যাব থেকে শুরু করে সবাই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে তারা কাজ করেছে। সে জন্য খুব সুষ্ঠুভাবে ঈদের জামাতগুলো সম্পন্ন হয়েছে।

গুলশান হামলার এক সপ্তাহের মাথায় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাতে জঙ্গিদের হামলাচেষ্টার ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, একবার শোলাকিয়ায় একটা ঘটনা ঘটেছে।

এবার কিন্তু কেউ কিছু করতে পারেনি। জঙ্গিবাদ দমনে জনগণের সচেতনতাকে বাংলাদেশের ‘সবচেয়ে বড় শক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণ যথেষ্ট সচেতন। আমরা জনগণকে সম্পৃক্ত করেই এ ধরনের হুমকি মোকাবেলা করতে চাই।

যতই ভিআইপি হোক, চেক ছাড়া ইমিগ্রেশনে প্রবেশ নয় : প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যখনই বিমানে উঠি, তখনই একটা ঘটনা ঘটে বা একটা নিউজ হয়। তো এই নিউজটা কেন হয় আমি জানি না।

হয়তো পাসপোর্ট ভুলে যেতে পারে, পাসপোর্ট ভোলা কোনো ব্যাপার নয়। কিন্তু এখানে ইমিগ্রেশনে যারা ছিল, তাদের তো এই নজরটা থাকতে হবে। তো আমার কাছে খবর যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বলেছি, ইমেডিয়েটলি ব্যবস্থা নিতে, যে ইমিগ্রেশনে কারা ছিল, কেন চেক করেনি, কেন দেখেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরেকটি কথা বলব, ইমিগ্রেশন এখন পাওয়ারফুল। এখন তো সবাই ভিআইপি, ভিভিআইপি, আরও ভি লাগবে। কিন্তু কাউকে ছাড়া হবে না। প্রতিটি পাসপোর্ট সিল মারা আছে কি না, চেক করা হবে।

ভিভিআইপি লাগেজও সবকিছু চেক করা হবে। তিনি আরও বলেন, এতদিন এত পরিশ্রম করে প্লেন কিনে এ অবস্থায় এসেছে। আরও নতুন ব্যবস্থা নেব ঠিক তখনই একেকটি ঘটনা ঘটে। এটার কারণ আমার যেটা মনে হয়, আগে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা বিমানকে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করেছে। কিছুই তো ছিল না। জঘন্য অবস্থা ছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, এখন চমৎকারভাবে চলছে, প্রবাসীরা নিজেদের দেশের ক্যারিয়ারে যাতায়াতের জন্য পাগল। টিকিট নিয়ে ঝামেলা ছিল। সিট ছিল না। এখন আর এসব নিয়ে সমস্যা নেই।

যারা এগুলো করত, তাদের কম পড়ছে। তাই যখনই যেতে চাই, তখনই সমস্যা হয়। আমাকে বলে, এটা হবে তো ওটা হবে। দেশের বিমানেই যাব। মরলে মনে হবে, দেশের মাটিতেই মরেছি।

মুসলিম বিশ্বের খুনোখুনিতে লাভবান হচ্ছে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা : আন্তর্জাতিক ইসলামী সংস্থা ‘ওআইসি’ভুক্ত দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে করা এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই যে আমরা আত্মঘাতী সংঘাত করে যাচ্ছি, একে অপরকে খুন করছি, রণক্ষেত্র হচ্ছে সমস্ত মুসলিম রাষ্ট্র। তিনি বলেন, প্রতিটা মুসলিম রাষ্ট্রেই খুনোখুনি হচ্ছে। লাভবান কে হচ্ছে? যারা অস্ত্র সরবরাহ করছে তারা, যারা অস্ত্র তৈরি করছে, বিক্রি করছে তারাই লাভবান হচ্ছে। আর মুসলমান মুসলমানের রক্ত নিচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, যেটা বাস্তব যেটা সত্য সেটাই বললাম। কারণ একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ছাড়া কারও কাছে আমরা মাথা নত করব না। আমার বাবাও করেনি আমিও করব না। ওটা আমরা শিখিনি।

এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার তাগাদা সৌদি আরবের মক্কায় ওআইসি সম্মেলনে দিয়ে এসেছেন বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, লিখিত বক্তব্যের বাইরেও ওআইসিতে অনেক কথা বলে এসেছি। আমাদের মধ্যে যদি কোনো দ্বন্দ্ব^ থাকে, তা আমাদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা দরকার। ওআইসির এই ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া দরকার।

তিস্তা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করার দরকার নেই : ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করার দরকার নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন করা গেলে পানির জন্য আর কারও মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না বাংলাদেশকে।

এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মেরিটাইম বাউন্ডারির মতো কঠিন সমস্যার সমাধান করেছি। ছিটমহল বিনিময় করেছি। অথচ এসব নিয়ে পৃথিবীর বহু দেশে যুদ্ধ বেধে যাচ্ছে।

কিন্তু আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে এসবের সমাধান করেছি। পানির জন্য কারও মুখাপেক্ষী থাকতে হবে না, ডেল্টা প্ল্যান করেছি। পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করলে, পানি পানি করে কারও দিকে চেয়ে থাকতে হবে না। তাই তিস্তা নিয়ে খুব বেশি চিন্তার দরকার নেই।

আজ হোক কাল হোক তারেকের শাস্তি কার্যকর হবে : লন্ডনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নাম নিতেও ঘৃণা লাগে। তবে প্রধানমন্ত্রী এও বলেছেন, আজ হোক কাল হোক একদিন না একদিন তার (তারেক রহমান) শাস্তি কার্যকর হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, একুশে আগস্টের হামলায় আইভি রহমানসহ ২৮ জন মানুষ নিহত হন। শতাধিক মানুষ আহত হন। শুধু একুশে আগস্ট নয়, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গেও যুক্ত সে।

শেখ হাসিনা বলেন, এসব ব্যক্তির জন্য অনেকের মায়াকান্না দেখছি। আমরা যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছি। তবে ওরা অনেক টাকার মালিক। সব সময় ঝামেলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। আমি সেখানে গেলেও ঝামেলা সৃষ্টি করতে চায়। তবে যাই হোক, তার শাস্তি কার্যকর হবে।

চাপ থাকলে ‘যা চান তা লিখতে পারেন না’ বলতেন না : একটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক গণমাধ্যমে বলেছেন, তিনি যা চান তা লিখতে পারেন না। ওই সম্পাদকের ওপর কোনো চাপ আছে কি না, এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি সত্যিই তার ওপর কোনো চাপ থাকত তাহলে ওই সম্পাদক ‘যা চান তা লিখতে পারেন না,’ এই কথাটাও বলতে তো পারত না।

কেনো চাপ নাই বলেই তিনি এভাবে বলতে পারছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের লোকেরা গণতন্ত্র পছন্দ করে না। তারা চায় জরুরি সরকার। এতে তাদের লাভ হয়। তাই এমন কথা বলে। আগে ডিজিএফআই তাকে অনেক নিউজ দিয়েছে।

একটা টকশোতে ‘তিনি’ বলেছেন ডিজিএফআই তাকে দিয়েছে, তাই তিনি লিখেছেন। এখন দিচ্ছে না হয়তো তাই তিনি লিখতে পারছেন না। তার মানে কোনো ফরমায়েশি লেখা ছাড়া লিখতে পারেন না বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি বলব ‘তিনি’ যা ইচ্ছা লিখুক। তাতে কিছু যায় আসে না। আমি দেশের জন্য কাজ করছি। কে কী লিখল, কী বলল, তাতে কিছু যায় আসে না। তিনি লিখুক, যত খুশি লিখুক।

সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয় : সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখে আমরা চলব জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি দেশই জানে, সবার সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার সম্পর্ক আছে।

তিনি জাপানের সঙ্গে সম্পর্কের পরম্পরা তুলে ধরেন। আমাদের ভালো হোটেল ছিল না, সোনারগাঁও হোটেল জাপান সরকার তৈরি করে দিয়েছিল। বন্ধুপ্রতিম দেশ। এবার সফরে নতুন সম্রাট ও আগের সম্রাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক আগ্রহ তাদের।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিশাল সোশ্যাল সেফটিনেট নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আসন্ন বাজেটেও এ বিষয়ে গুরুত্ব থাকবে। তিনি বলেন, সন্তানসম্ভবা মা, দরিদ্র মা, কর্মজীবী মা, প্রতিবন্ধীদের ভাতা, প্রত্যেককে আলাদা ভাতা দেয়া হচ্ছে।

বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্ত মাকে ভাতা দিচ্ছি। বিনা পয়সায় এত সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বই দিচ্ছি যে, অনেক দেশে ওই পরিমাণ জনসংখ্যাও নেই। আমরা শিশুমৃত্যু হার, মাতৃমৃত্যু হার কমিয়েছি। দারিদ্র্য কমিয়েছি। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছি। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি।

ধর্মীয় বিদ্বেষের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীরা যত বেশি শিক্ষিত হবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে সেটাই হবে জবাব। আমার নারী পাইলট আছে, আমার নারী মেজর জেনারেল আছে, আমরা নারীদের তো সব জায়গায় নিয়ে এসেছি। এটা কি জবাব না? তিনি বলেন, হাত মোজা, পা মোজা পরে এটা কী? জীবন্ত একটা টেন্ট হয়ে ঘুরে বেড়ানো।

২৮ মে জাপান দিয়ে ত্রিদেশীয় এই সফর শুরু করেন শেখ হাসিনা। পরে সেখান থেকে সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড যান তিনি। সফরে তৃতীয় ও শেষ দেশ ফিনল্যান্ড থেকে শনিবার সকালে দেশে পৌঁছান তিনি।

ত্রিদেশীয় এ সফরের শুরুতেই জাপানের টোকিওতে ‘দ্য ফিউচার অব এশিয়া’ সম্মেলনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি।

বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাপানের সঙ্গে আড়াইশ’ কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা চুক্তি সই হয় তার সফরে। জাপান সফর শেষে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্সের (ওআইসি) চতুর্দশ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ৩০ মে শেখ হাসিনা সৌদি আরব যান। সম্মেলনে অংশ নেয়ার পর পবিত্র ওমরা পালন করেন তিনি, জিয়ারত করেন মহানবীর (স.) রওজা।

সৌদি আরব থেকে গত ৩ জুন ফিনল্যান্ড যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ৪ জুন দেশটির প্রেসিডেন্ট সাউলি নিনিস্তোর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পরদিন ৫ জুন অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ ও ফিনল্যান্ড আওয়ামী লীগ তার সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী সেই অনুষ্ঠানেও যোগ দেন।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×