জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

কেউ আমাদের সঙ্গে সুবিচার করেনি: এরশাদ

জাতীয় পার্টি বড় ফ্যাক্টর * নগরীতে ব্যাপক শোডাউন

  যুগান্তর রিপোর্ট ০২ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এরশাদ

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, জাতীয় পার্টির সহযোগিতা নিয়ে আওয়ামী লীগ তিনবার ক্ষমতায় এসেছে। বিনিময়ে আমরা কিছুই পাইনি। তিনি বলেন, কেউ আমাদের সঙ্গে সুবিচার করেনি।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কেউ আমাদের প্রতি সদয় ছিল না। জাতীয় পার্টি ছাড়া আগামী নির্বাচন হবে না দাবি করে এরশাদ বলেন, এতদিন পর আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি হবে বড় ফ্যাক্টর। সোমবার এক আলোচনা সভায় এরশাদ এসব কথা বলেন।

জাতীয় পার্টির ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। সভায় বক্তব্য রাখেন কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, এসএম ফয়সল চিশতী, শ্রমিক পার্টির সভাপতি একেএম আশরাফউজ্জামান খান প্রমুখ।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে বিএনপির পক্ষ থেকে দেয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আমি আওয়ামী লীগকে সমর্থন করি। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। কিন্তু বিনিময়ে তারা (আওয়ামী লীগ) আমার দলের তখনকার মহাসচিব আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে দিয়ে দল ভাঙেন, আমাদের ১৪ জন সংসদ সদস্যকে কিনে নেন। আমাকে পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা করাসহ নির্বাচনে অযোগ্য করা হয়। ২০০৮ সালে মহাজোট করি। কথা ছিল ৪৮টি আসন দেয়া হবে, কিন্তু দেয়া হল ৩৩টি। ২৯টিতে

জয়ী হলাম। বিএনপি পেল ৩০টি আসন। আমাদের কাছ থেকে ১৭টি আসন কেড়ে না নেয়া হলে আমরা তখন প্রধান বিরোধী দল হতাম। ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে না গেলে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস হয়তো অন্যভাবে লেখা হতো।

এরশাদ বলেন, সীমাহীন অত্যাচারের মাধ্যমে বিএনপি আমাদের নিঃশেষ করে দিতে চেয়েছিল। আমাকে ও আমার পরিবারকে বিনা দোষে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। আজ কারাগার আপনার (খালেদা জিয়া) অতি সন্নিকটে। আমার প্রতি অনেক অন্যায় করেছেন, তার প্রতিফলন পেতে যাচ্ছেন। এরশাদ বলেন, ২০০১ সালে নেগেটিভ ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল। এখানে আমার কোনো দোষ নেই।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সম্পর্কে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ বলেন, কেউ আমাদের সঙ্গে সুবিচার করেনি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কেউ আমাদের প্রতি সদয় ছিল না। এত অত্যাচারের পরও আমরা বেঁচে আছি। জাতীয় পার্টি বড় ফ্যাক্টর, কারণ আমরা মানুষের সঙ্গে কোনো অন্যায় করিনি। আমাদের হাতে রক্তের দাগ নেই। আমরা ভালোবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে চাই। তিনি বলেন, আমাদের মাঝে আর হতাশা নেই। বিজয়ের মাসে রংপুরে অভূতপূর্ব বিজয় প্রমাণ করে জাতীয় পার্টি আছে ও থাকবে। আমরা দেখাব জাতীয় পার্টি সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। মানুষ পরিবর্তন চায়, জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। এ সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা প্রস্তুত হও। সুযোগ কাজে লাগাতে লড়াই করতে হবে। বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বলেন, আমি রাষ্ট্রপ্রধান হতে চাইনি। তৎকালীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে আবদুস সাত্তারের অনুরোধে সেদিন ক্ষমতা নিয়েছিলাম। ক্ষমতা নিয়ে নির্বাচন দিয়েছিলাম। কেউ নির্বাচনে আসেননি। পরে ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারিতে জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করে সামরিক শাসন বিলুপ্ত করি। এর চার বছর পর নির্বাচন হল। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, জামায়াত, সিপিবি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ ২৮টি দল অংশ নেয়। তখন জাতীয় পার্টি ১৭৪টি আসন পেয়ে জয়ী হয়।

এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টির শাসনামলকে কেউ অবৈধ বলতে পারবে না। কারণ হাইকোর্ট থেকে জাতীয় পার্টির শাসনামলকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। আমার হাতে রক্তের দাগ নেই। ডা. মিলনকে কে বা কারা হত্যা করেছে আমি জানি না। হত্যাকারীদের গ্রেফতারও করা হয়নি। নূর হোসেনকে পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যার বিচারও কোনো সরকারই করল না। আমি ক্ষমতায় আসতে পারলে এই হত্যার বিচার করে প্রমাণ করব- এই হত্যার পেছনে কারা ছিল।

জাতীয় পার্টির উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টির দায়িত্ব কে পাবেন তা একটি বিরাট প্রশ্ন। এ বিষয়ে আমি সিদ্ধান্ত দেব। আর কোনো কারণে যদি আমি ঘোষণা করে যেতে না পারি তাহলে প্রেসিডিয়াম সিদ্ধান্ত নেবে কে হবেন জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান।

সভায় বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন, জনগণ এখন সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। জাতীয় পার্টিও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। রংপুরে এর প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন হলেও জনগণের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। রাজধানী ঢাকায় উন্নয়ন দেখা গেলেও অন্যত্র হচ্ছে না। নিজ দল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কারও দাবার ঘুঁটি হতে চাই না। আমরা রাজা হতে চাই। দেশবাসীর ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাতে চাই।

মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, দেশের মানুষ আগামীতে এরশাদকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায়। রংপুর থেকে আমাদের বিজয়ের যে যাত্রা শুরু হয়েছে আমরা তা অব্যাহত রাখতে চাই। তিনি বলেন, সব বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে আগামী দিনের সরকার হবে এরশাদের সরকার। জাতীয় পার্টির সরকার।

সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, শেখ মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, গোলাম কিবরিয়া টিপু, নুর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী এমপি, মহসীন রশিদ, সুনীল শুভ রায়, সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, মীর আবদুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, মো. সোলায়মান আলম শেঠ, মো. আজম খান, মেজর মো. খালেদ আখতার (অব.), মো. শফিকুল ইসলাম সেন্টু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া, সৈয়দ দিদার বখত, ক্বারি হাবিবুল্লাহ বেলালী, রওশন আরা মান্নান এমপি, নাজমা আক্তার, এমএম নিয়াজ উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সাত্তার, এমএ তালহা, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, জহিরুল ইসলাম জহির, মো. আরিফুর রহমান খান, নুরুল ইসলাম নুরু, দিদারুল আলম দিদার, সরদার শাহজাহান, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, শেখ আলমগীর হোসেন, কাজী আশরাফ সিদ্দিকী, জহিরুল আলম রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু, মনিরুল ইসলাম মিলন, মো. ইসহাক ভুঁইয়া, ফকরুল আহসান শাহাজাদা, মোবারক হোসেন আজাদ, আমির হোসেন ভূঁইয়া এমপি, মনিম চৌধুরী বাবু এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা সুলতান মাহমুদ, মো. বেলাল হোসেন, অনন্যা হুসেইন মৌসুমী, নিগার সুলতানা রানী, এমএ রাজ্জাক খান, মো. জামাল রানা, শারমিন পারভীন লিজা, সৈয়দা পারভীন তারেক, ডা. সেলিমা খান, মনোয়ারা তাহের মানু, মো. হারুন অর রশিদ, গোলাম মোস্তফা, আমিনুল ইসলাম ঝন্টু, সুমন আশরাফ, আবু সাঈদ স্বপন, শাহাদাত কবির, শাহিদা রহমান রিংকু, সৈয়দ ইফতেকার আহসান হাসান, মো. দ্বীন ইসলাম শেখ, রিতু নুর, আসমা সুলতানা, মিনি খান, মোমেনা আক্তার, তাছলিমা আক্তার রুনা, শেখ মোহাম্মদ শান্ত, মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, গোলাম মোস্তফা আঙ্গুর, সোলায়মান সামী।

আলোচনা সভা শেষে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। শোভাযাত্রায় অংশ নেয়ার জন্য সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটশন চত্বরে। আনুষ্ঠানিকভাবে শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার আগে পুরো এলাকা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। শোভাযাত্রায় জাতীয় পার্টি ছাড়াও জাতীয় ছাত্র সমাজ, জাতীয় যুব সংহতি, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি, জাতীয় কৃষক পার্টি, জাতীয় মহিলা পার্টি, জাতীয় শ্রমিক পার্টি, জাতীয় ওলামা পার্টিসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বেলা দেড়টার দিকে শোভাযাত্রাটি ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটশনের সামনে থেকে শুরু হয়ে মৎস্যভবন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, পল্টন মোড়, বিজয়নগর হয়ে কাকরাইলের জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। বিশাল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে রাজধানীতে ব্যাপক শোডাউন করে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter