অস্ট্রেলিয়াকে জেতালেন সেই ওয়ার্নার

অস্ট্রেলিয়া ৩০৭/১০, ৪৯ ওভারে * পাকিস্তান ২৬৬/১০, ৪৫.৪ ওভারে * ফল : অস্ট্রেলিয়া ৪১ রানে জয়ী

  স্পোর্টস ডেস্ক ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আমির-ডেভিড

আগের ম্যাচে ভারতের কাছে অস্ট্রেলিয়ার ৩৬ রানের হারের পেছনে তার মন্থর ফিফটির (৮৪ বলে ৫৬) দায় দেখেছিলেন অনেকে। এ নিয়ে সমালোচনার জবাবটা কী দারুণভাবেই না দিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। পরের ম্যাচেই দাপুটে সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের ধারায় ফেরালেন সেই ওয়ার্নার।

বুধবার টন্টনে বোলারদের দাপটের ম্যাচে পাকিস্তানকে ৪১ রানে হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপে চার ম্যাচে নিজেদের তৃতীয় জয় তুলে নিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। ওয়ার্নারের (১০৭) সেঞ্চুরি ও অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের (৮২) ফিফটিতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত।

মোহাম্মদ আমিরের বোলিং-জাদুতে সেখান থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৩০ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে ৪৯ ওভারে ৩০৭ রানে অস্ট্রেলিয়াকে থামিয়ে দেন আমির। কিন্তু জঘন্য ফিল্ডিংয়ের পর দলের ব্যাটিং ব্যর্থতায় দিনশেষে বিফলে গেছে আমিরের পাঁচ উইকেট। তিনশ’ ছাড়ানো লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৫.৪ ওভারে ২৬৬ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।

ওয়ার্নারের সেঞ্চুরিই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। দুই রানে ফখর জামানকে হারানোর পরও ইমাম-উল-হকের (৫৩) ফিফটি এবং বাবর আজম (৩০) ও মোহাম্মদ হাফিজের (৪৬) দৃঢ়তায় দুই উইকেটে ১৩৬ তুলে ফেলেছিল পাকিস্তান। এরপর হঠাৎ ধসে ১৬০ রানেই নেই ছয় উইকেট।

সেখানেই কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় পাকিস্তান। পরে অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের সঙ্গে জুটি বেঁধে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচ কিছুটা জমিয়ে তুলেছিলেন হাসান আলী (১৫ বলে ৩২) ও ওয়াহাব রিয়াজ (৩৯ বলে ৪৫)। কিন্তু হাতে উইকেট না থাকায় শেষ রক্ষা হয়নি পাকিস্তানের।

৪৫তম ওভারে ওয়াহাব ও আমিরকে ফিরিয়ে সব উত্তেজনায় জল ঢেলে দেন মিচেল স্টার্ক। পরের ওভারে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে রানআউটে কাটা পড়েন সরফরাজ (৪০)। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে প্যাট কামিন্স তিনটি এবং স্টার্ক ও কেন রিচার্ডসন নেন দুটি করে উইকেট। কামিন্স দারুণ বোলিং করলেও ব্যবধান গড়ে দেয়া সেঞ্চুরির জন্য ওয়ার্নারের হাতেই উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কার।

দুই ফিফটি ও এক সেঞ্চুরিতে ২৫৫ রান নিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় ওয়ার্নার উঠে এসেছেন দ্বিতীয় স্থানে। চার ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াও উঠে এসেছে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে। আর চার ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান পড়ে আছে আটে।

একাদশে চার পেসার থাকায় মেঘলা কন্ডিশনে টন্টনের পেসবান্ধব উইকেটে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন সরফরাজ। কিন্তু আমিরের দারুণ বোলিংয়ের পরও অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা হয় দুর্দান্ত। উদ্বোধনী জুটিতেই ১৪৬ রান তুলে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত যা যে কোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি।

দুই ওপেনারের চওড়া ব্যাটে চারশ’ ছাড়ানো সংগ্রহের স্বপ্ন দেখেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু জাদুকরী বোলিংয়ে পাশার দান উল্টে দেন আমির। পাকিস্তানের বাঁ-হাতি পেসারের তোপের মুখে এক ওভার বাকি থাকতেই ৩০৭ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। আমিরের পাঁচ উইকেটের পাশাপাশি আরেক বাঁ-হাতি পেসার শাহিন আফ্রিদি ৭০ রানে নেন দুই উইকেট।

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে রান যা করার করেছেন দুই ওপেনার। ছয় চার ও চার ছক্কায় ৮৪ বলে ৮২ রান করেন ফিঞ্চ। আর ১১ চার ও এক ছক্কায় ১১১ বলে ওয়ার্নার করেন ১০৭। বল টেম্পারিং-কাণ্ডে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর এটাই ওয়ার্নারের প্রথম সেঞ্চুরি।

আর সব মিলিয়ে ওয়ানডেতে এটি তার ১৫তম সেঞ্চুরি। এ দু’জন ছাড়া আর কেউ ত্রিশের ঘরেও যেতে পারেননি। মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতায় তিনশ’ পেরিয়েই থমকে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আমিরের তোপের মুখে মাত্র ৩০ রানে শেষ ছয় উইকেট হারায় তারা। এর মধ্যে শেষ পাঁচ উইকেট পড়েছে মাত্র ১৯ রানে।

চার ওভারের প্রথম স্পেলে মাত্র ১১ রান দেন আমির। এর মধ্যে দুটি ছিল মেডেন ওভার। ওই সময়টা কোনোমতে কাটিয়ে দেন ফিঞ্চ। পরে পান ভাগ্যের ছোঁয়া। ২৬ ও ৪৪ রানে দু’বার জীবন পেয়ে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক। অন্য প্রান্তে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন ওয়ার্নার।

৫১ বলে ফিফটির পর ১০২ বলে তুলে নেন বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বাজে ফিল্ডিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশাল সংগ্রহের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে ফিঞ্চকে বিদায় করে ১৪৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন আমির।

এরপর আর বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। দলীয় ১৮৯ রানে স্টিভ স্মিথকে (১০) সাজঘরের পথ দেখিয়ে দেন হাফিজ। চারে নেমে ঝড় তোলার আভাস দিয়েছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (২০)। তাকে বোল্ড করার পর সেঞ্চুরিয়ান ওয়ার্নারকেও থামান শাহিন আফ্রিদি।

এরপর শুধুই আমির-জাদু। দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় থাকায় উসমান খাজা (১৮) ও শন মার্শকে (২৩) টানা দু’ওভারে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে কাঁপিয়ে দেন আমির। সেই ধাক্কা সামলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ফিঞ্চের দল। ৪৯তম ওভারে চার বলের মধ্যে অ্যালেক্স ক্যারি ও মিচেল স্টার্ককে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৩০৭ রানে থামিয়ে দেয়ার পাশাপাশি ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেটের স্বাদ পান আমির।

বিশ্বকাপে পাঁচ উইকেট নেয়া পাকিস্তানের সপ্তম বোলার তিনি। ফিক্সিং-কাণ্ডে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১৬ সালে এই টন্টনেই প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ফিরেছিলেন আমির। সেই মাঠেই এবার করলেন ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। তিন ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে আমিরই এখন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। সমান নয়টি করে উইকেট নিয়ে তার পরেই আছেন কামিন্স ও স্টার্ক।

ঘটনাপ্রবাহ : আইসিসি বিশ্বকাপ-২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×