আদালতে যাওয়ার পথে হাত কেটে নেয়া হয়

গুরুদাসপুরে হত্যা মামলার সাক্ষীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

গুরুদাসপুর উপজেলায় হত্যা মামলার সাক্ষী জালাল উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আদালতে যাওয়ার পথে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী এলাকায় সফুরা বেগম হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী জালালকে দুর্বৃত্তরা উপর্যুপরি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।

তারা জালালের ডান হাত কেটে নিয়ে যায় এবং বাম হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। জালাল একই এলাকার মোমিন মণ্ডল হত্যা মামলারও প্রধান আসামি।

যোগেন্দ্র নগর গ্রামের আমজাদ হোসেন ওরফে আনন্দ মণ্ডলের ছেলে জালাল সপরিবারে আট বছর ধরে ঢাকায় বসবাস করে আসছেন। সফুরা হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে তিনি বুধবার গ্রামের বাড়ি আসেন।

যোগেন্দ্র নগর গ্রামের বাড়ি থেকে নাটোর আদালতে যাওয়ার পথে জালাল সাবগাড়ী বাঁধ এলাকায় অতর্কিত হামলার শিকার হন। তার ওপর একই গ্রামের মোমিন মণ্ডলের ছেলে আশরাফুল ইসলাম, আক্কাছ মণ্ডলের ছেলে শরিফুল ইসলাম ও সাইদুর রহমানসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী হামলা করে।

তারা প্রকাশ্যে তাকে রাস্তায় ফেলে তার বাম হাত কেটে নেয়। ডান হাত কাটলেও একটু বেঁধে থাকায় সেটি তারা নিয়ে যেতে পারেনি। বাম পায়ের রগও তারা কেটে দেয়।

এ সময় জালালের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গুরুদাসপুর হাসপাতালে নেয়া হয়। গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আলতাব হোসেন জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে। গুরুদাসপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জালাল হত্যাকারীদের নাম বলেছেন। স্থানীয় বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক জানান, জালালের হত্যাকারীরা ডাকাত এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় তারা ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাহারুল ইসলাম জানান, জালালের হত্যাকারীদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং কেটে নেয়া হাত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মাহাবুব আলম জানান, জালালের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, সাইদুর ও জালালের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জালালের পরিবার পাঁচ বছর এলাকাছাড়া ছিল।

ওই সময় জালালদের জমিজমা দখল করে নেয় সাইদুররা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আশরাফুলের ভাই রফিকের হাত-পা ভেঙে দেয়া হয়।

একই সময় বৃদ্ধ মোমিন মণ্ডলকে হত্যা করা হয়। এর ছয় মাসের মধ্যে জালালের আত্মীয় পাগল সফুরাকে হত্যা করা হয়। সফুরা হত্যা মামলায় সাইদুরসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।