বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

সুদহার ১ অঙ্কে না আনলে কঠোর ব্যবস্থা

সংস্কার করা হবে ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজার * পাচার বন্ধ করতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ * ২০৩০ সালে করা হবে ৩ কোটি লোকের কর্মসংস্থান

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে (এক অঙ্ক) নামিয়ে না আনলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, সুদহার কমাতে কতগুলো সুবিধা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সুবিধা নিয়ে তা ব্যাংকগুলো বাস্তবায়ন করেনি। এত বেশি সুদ দিয়ে মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে না। ফলে বিনিয়োগ বাড়বে না। এ জন্য ব্যাংকগুলোকে ঋণের সুদের হার অবশ্যই সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে হবে। এ ব্যাপারে আমরা বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজার সংস্কার করা হবে। এ জন্য সংশোধন করা হবে ব্যাংক কোম্পানি আইন। কালো টাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধ করতেই বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের ভেতর কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এ বাজেট জনকল্যাণমুখী। এটি বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

রেওয়াজ অনুযায়ী, বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের পরদিন অর্থমন্ত্রী বাজেটের সার্বিক বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। কিন্তু অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার অসুস্থতার কারণে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব জাতীয় সংসদে পুরোপুরি উপস্থাপন করতে পারেননি। পরে প্রধানমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতার বাকি অংশ পাঠ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রসঙ্গে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের কাছে কিছু অপ্রদর্শিত টাকা থেকে যায়, সেটি কোনো কাজে লাগাতে পারে না। পরে সেটি পাচারের চিন্তা করে থাকে। পাচার বন্ধ করতেই কালো টাকা সাদা করতে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এটি আমরাসহ অন্য সরকারগুলোও দিয়েছে। আমরাও কয়েকবার এ সুযোগ দিয়ে মাঝে বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এবার ব্যাংক ঋণ পরিশোধের সুযোগসহ কালো টাকার স্তূপ যাতে না জমে এ জন্য সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। কালো টাকা নিয়ে আসতে অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ আইটি পার্কে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট হারে জরিমানা দিয়ে বিনিয়োগ করতে পারবে। এ জন্য প্রশ্ন করা হবে না। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কাজ না করে, সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বেলা তিনটায় প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। প্রায় দু’ঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর দিয়েছেন প্রায় ৫০ মিনিট। তবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে বেশ বিরক্তি প্রকাশ করেন। কারণ সাংবাদিকদের প্রশ্ন সঠিকভাবে তিনি শুনতে পারছিলেন না। পরে তিনি সাংবাদিকদের কাছ থেকে লিখিত প্রশ্নে গ্রহণ করে এর উত্তর দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২৩ হাজার কোটি টাকা থেকে খেলাপি ঋণ বেড়ে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে- এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, আপনারা (সাংবাদিক) একটি খবর নিয়ে দেখবেন কোন পত্রিকা ও টিভির মালিক কত টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। আর সে ঋণগুলো পরিশোধ করছেন কি না। খেলাপি হয়েছেন কি না। ব্যাংকগুলো থেকে এ তথ্য বের করেন। এর হিসাব বের করতে পারলে আমার প্রশ্নের জবাব দেয়া লাগবে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের সুদের হার বেশি। এটি চক্রবৃদ্ধি হারে হয়। খেলাপির হিসাব করা হয় চক্রবৃদ্ধির হার ধরেই। যে কারণে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেখায় অনেক বড়। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত ঋণের হিসাবটি দেখা হলে খেলাপির পরিমাণ তত বড় দেখা যাবে না। এর পেছনে নিশ্চয় অন্য কোনো ইন্টারেস্ট আছে যে কারণে চক্রবৃদ্ধি সুদসহ খেলাপির হিসাব করা হয়। এটি আমাদের দুর্বলতা। এ ব্যাপারে ধীরে ধীরে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আগেই বলেছি, খেলাপিদের একটি সুযোগ দেব ঋণ শোধ করার জন্য। একই সঙ্গে পত্রিকার মালিক ও টিভির মালিকরা কে কত টাকা ঋণ নিয়েছে এরও একটি হিসাব নেয়া হবে। তাদের সেই টাকা শোধ করে যেন তাদের পত্রিকায় এ ব্যাপারে লেখেন- এটি আমার অনুরোধ থাকবে।

অর্থ পাচার প্রতিরোধ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থ পাচার যাতে না হয়, এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস মিলে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি এ ব্যাপারে কাজ করছে। কমিটিতে দুর্নীতি দমন কমিশনও আছে। এর মধ্য দিয়ে টাকা পাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া কৃষকের হাহাকারের বিষয়টি। এর উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধানের গুদাম নির্মাণ হচ্ছে। সরকার ৪ লাখ টন ধান ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ধান উৎপাদনে যে পরিমাণ প্রণোদনা দেয়া হয়, এতে কৃষকের নিজের খরচ খুব কম হয়। কৃষকদের সব ধরনের প্রণোদনা দেয়ার কারণেই এত ধান উৎপাদন হচ্ছে। কৃষকদের দেখা হচ্ছে বলে বাংলাদেশ আজ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে তিন কোটি কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান মানে চাকরির কথা বলা হয়নি। আমরা প্রস্তাবিত বাজেটে একশ’ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছি যুবকদের প্রশিক্ষণের জন্য। প্রশিক্ষণ নিয়ে যুবকরা চাকরির বাজারে প্রবেশ করবে। তবে দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এখনও আছে। এর বড় উদাহরণ- এখন গ্রামে ধান কাটার লোকও পাওয়া যায় না। তাদের চাহিদা বেড়ে গেছে। এত বেশি বেকার থাকলে ধানকাটার লোক পাওয়া যেত। কর্মসংস্থানের কথা বললেই মনে হয় চাকরি দেয়ার কথা। ১৬ কোটি মানুষকে কোনো দেশ চাকরি দিতে পারবে না। একশ’ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক লোকের চাকরি হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো হলে স্বাভাবিক নিয়মে রাজস্ব বাড়বে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে সক্ষম করদাতার সংখ্যা এক কোটিতে নিয়ে যাব। কর জিডিপির অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। দেশের উন্নয়ন নিজেরাই করব। কারও কাছে হাত পেতে নয়, কারও মুখাপেক্ষী হয়ে নয়। আমরা নতুন প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম স্তর পেরিয়ে একটি সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই। এ জন্য আমরা সংকল্পবদ্ধ।

দেশের অর্থনীতি নিয়ে বিদেশে অনেক ভালো উক্তি করলে দেশীয় গবেষণা সংস্থাগুলো ইতিবাচক বলছে না। বাজেট প্রসঙ্গে গবেষণা সংস্থাগুলো বলছে- অপশাসন ও ধনিক শ্রেণীর পক্ষে যাবে এ বাজেট। এর প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে কিছু লোক আছে তাদের কিছুই ভালো লাগে না। এটি তাদের মানসিক অসুস্থতা। যত ভালো কাজ করলেও ভালো কিছু খুঁজে দেখেন না তারা। দেশে যখন গণতন্ত্র পদ্ধতি থাকে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়, সাধারণ মানুষ ভালো থাকে, তখন তারা কোনো কিছু ভালো দেখেন না। সবকিছুতে প্রশ্ন খোঁজেন। আমার কথা হচ্ছে- সাধারণ মানুষ খুশি কি না, তাদের জন্য ভালো কিছু করতে পারছি কি না, সেটি বড় কথা। আর ভালো না লাগার দল যারা, তাদের কোনো কিছু ভালো লাগবে না। তারা কী গবেষণা করে, গবেষণা করে দেশের জন্য কী আনতে পারলেন সেটিও জানি না। এটি নিয়ে আমার খুব মাথাব্যথা নেই। স্বাধীনতার সুফল যাতে দেশের মানুষের ঘরে পৌঁছায়, সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা মনে করি, সেটি সফল হয়েছে। দেশের বাইরে গেলে আগে মনে করা হতো ভিক্ষুক জাত হিসেবে যাচ্ছে। এখন সেটি কেউ মনে করে না। এটি হচ্ছে আমাদের বড় অর্জন।

এর আগে ওই সংবাদ সম্মেলনের সূচনা বক্তব্যে প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করে এই সূচক ২ অঙ্কে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে আইনকানুন সংস্কার করা হবে। ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার করা হয়েছে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব শিল্পাঞ্চলের ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনার শিপ (পিপিপি) উৎসাহসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করছি, ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ কোটি লোকের কর্মস্থান সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য অর্থ বরাদ্দসহ শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ৮৭ হাজার ৬২০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি মোট বাজেটের ১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং জিডিপির ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে এ খাতে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ২৯ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ১ দশমিক ০২ শতাংশ এবং মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বেকারত্ব দূর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ ও কর্মস্থানে ১০০ কোটি টাকা এবং তরুণদের ব্যবসা উদ্যোগ শুরুর জন্য স্টার্টআপ ফান্ড হিসেবে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে গত ১০ বছরে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কৃষিপণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে। এ খাতে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে ২ হাজার কোটি টাকা। কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৬ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রতিটি গ্রামে আধুনিক সুবিধা দেয়া হবে। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। সব জেলা সড়ককে চার লেন বা তার বেশি লেন করা হবে। ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত হাইস্পিড ট্রেন চালুর জন্য সমীক্ষা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া ২০২০ সালের মধ্যে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সব ভাতার আওতা বাড়ানো হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ৬৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা।

তিনি এক রকম রসিকতা করে বলেন, যেহেতু মানুষের ডায়াবেটিস রোগ বেশি হচ্ছে, সে জন্য আমদানি করা অপরিশোধিত ও পরিশোধিত উভয় চিনির ওপর স্পেসিফিক ডিউটি বাড়ানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তামাক ক্ষতিকর পণ্য হওয়ায় সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে যেহেতু গ্রামের দরিদ্র মানুষ বিড়ি খায় সে জন্য বিড়ির দাম সহনীয় থাকবে। তবে জদ্দা ও গুলের দাম বেঁধে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভ্যাট আইন ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। আশা করছি, ব্যবসায়ীরা খুশিমনে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করবেন। প্রধানমন্ত্রী রাজস্ব আয় বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন। তবে জনগণকে কষ্ট দিয়ে রাজস্ব বাড়ানো হবে না বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে সস্পৃক্ত করে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রণোদনা দিয়ে তারপর রাজস্ব আহরণ করা হবে। ২০২১ সালের মধ্যে কর জিডিপি ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে চাই। তিনি জানান, মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন দ্রুত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এগুলো যাতে সময়মতো শেষ হয়, সে জন্য প্রচেষ্টা রয়েছে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশররফ হোসেন ভূঁইয়া। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার।

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×