চক্রবৃদ্ধি সুদ হার চান না শিল্প উদ্যোক্তারা

  হামিদ বিশ্বাস ১৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ব্যাংক

চক্রবৃদ্ধি সুদ হার বন্ধ করতে হবে, চক্রবৃদ্ধি সুদ হারের কারণেই খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে চক্রবৃদ্ধি সুদ হার বন্ধের দাবি জানিয়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারা।

প্রধানমন্ত্রী আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার বলেন, চক্রবৃদ্ধি সুদ হার বন্ধ করতে হবে। এ কারণে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারিও দেন তিনি।

এসব বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালকরাও। তারা বলেন, আমরাও চক্রবৃদ্ধি সুদ হার চাই না। এটা বন্ধ করতে হবে। সুদ হারও কমিয়ে আনতে হবে। তবে কোনো ব্যাংক এককভাবে নয়, একসঙ্গে সব ব্যাংককে এসব উদ্যোগ কার্যকর করতে হবে।

জানতে চাইলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সদ্যবিদায়ী সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, চক্র বৃদ্ধি হারে সুদ নেয়া এক ধরনের অন্যায়। কেউ যৌক্তিক কারণে টাকা দিতে পারছেন না। আবার কেউ ঋণ নিয়েছেন, তা ফেরত না দেয়ার জন্য। এ উভয় ব্যক্তির জন্য একই বিচার কি করে হয়? ঋণ দিয়ে ব্যাংক সহযোগিতা করবে উদ্যোক্তাকে ঘুরে দাঁড়াতে। কিন্তু এখন ঘটছে তার পুরো উল্টোটা। সুতরাং আমি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে শতভাগ একমত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, দেড় লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের ৬০ শতাংশ হল সুদ। আর ৪০ শতাংশ হল ঋণ। অর্থাৎ চক্রবৃদ্ধি সুদের কারণে খেলাপি ঋণের বেশির ভাগ হল সুদের টাকা। মূল টাকা অনেক কম।

এ বিষয়ে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম রোববার যুগান্তরকে বলেন, চক্রবৃদ্ধি সুদ হার থেকে মুক্তি চাই। সুদের ওপর সুদ আরোপের কারণে ব্যবসায়ীরা শেষ হয়ে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাংককে জানিয়েছে, লোকটি আর টাকা দিতে পারছে না। তবুও ব্যাংক প্রতি ৩ মাস অন্তর মূল টাকার সঙ্গে সুদ যোগ করে তার ওপর আবার পরবর্তী ৩ মাস পরপর ধারাবাহিকভাবে সুদ আরোপ করতে থাকে। এতে একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর ব্যাংকে দায়-দেনা অনেকগুণ বেড়ে যায়। তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত ১৩-১৪ শতাংশ সুদে কেউ ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে তা পরিশোধ করতে পারবে না। এর ওপর আবার চক্রবৃদ্ধি সুদ হলে তো কথাই নেই। বর্তমানে ব্যাংক আমার কাছ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ সুদ নিচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দুঃখ বুঝেছেন। এখন প্রয়োজন কার্যকর করা। একদিকে ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে নামাতে হবে। অন্যদিকে চক্রবৃদ্ধি সুদ হার বন্ধ করতে হবে।

চট্টগ্রামের একজন ব্যবসায়ী যুগান্তরকে বলেন, আমি কখনও ঋণ খেলাপি ছিলাম না। যদিও ব্যাংক ঋণখেলাপি বলছে। প্রকৃতপক্ষে আমি হলাম সুদ খেলাপি। উচ্চ সুদের কারণে তা পরিশোধ করতে পারিনি। আমি একা নই, খোঁজ নিয়ে দেখেন, সবাই একই কথা বলবেন।

চক্রবৃদ্ধি সুদ হার বন্ধের দাবির বিষয়ে একমত পোষণ করছেন ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালকরাও। এ সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে রোববার মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যান একেএম সাহিদ রেজা সাংবাদিকদের বলেন, গ্রাহক সুবিধা ও শিল্পায়নের জন্য ব্যাংক ঋণের সরল সুদ বাস্তবায়নে আমরা আগ্রহী। চক্রাকারে যে সুদ বাড়তে থাকে তা গ্রাহকদের জন্য কষ্টদায়ক। একই সঙ্গে শিল্পায়নকেও বাধাগ্রস্ত করছে। তবে সব ব্যাংককে উদ্যোগটি একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো ব্যাংক এককভাবে চালু করলে তারা পিছিয়ে পড়বে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে আমরা সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ দিচ্ছি। ধীরে ধীরে সব ক্ষেত্রে সুদের হার কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি।

এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংকের সুদের হার কমাতে হবে। এটাকে কিভাবে ব্যবসাবান্ধব করা যায় তা নিয়ে ভাবতে হবে। একই সঙ্গে যিনি ঋণ নেবেন তারও কিছু দায়-দায়িত্ব আছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে যে কোনো ব্যাংক চাইলে সুদ কমানো বা সরল সুদ গ্রহণ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো বাধা-নিষেধ নেই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×