আজ চার্জ গঠনের দিন ধার্য

ওসি মোয়াজ্জেম জামিন নিতে এসে গ্রেফতার

ডিজিটাল আইনে ঢাকায় গ্রেফতারের পর দেয়া হচ্ছে সোনাগাজী পুলিশের কাছে * রাফির পরিবার ও বাদীর সন্তোষ প্রকাশ * আত্মীয় ও বন্ধুদের বাসায় লুকিয়ে ছিলেন ২০ দিন

  যুগান্তর রিপোর্ট, ফেনী ও সোনাগাজী প্রতিনিধি ১৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পরোয়ানাভুক্ত আসামি ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরোয়ানা জারির ২০ দিন পর রোববার জামিন নিতে এলে রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকা থেকে শাহবাগ থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

এখন তাকে সোনাগাজী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ফেনীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন এই ওসি। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। গ্রেফতারের খবর পেয়ে রাফির পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

তাকে আইনের আওতায় আনায় মামলার বাদী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন পুলিশ বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের তিনটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আজ এ মামলার চার্জ গঠনের দিন ধার্য রয়েছে। সোনাগাজীতে থাকা অবস্থায় নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছিলেন এই ওসি। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ছিলেন আতঙ্ক।

রোববার বিকালে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি মিডিয়া সোহেল রানা যুগান্তরকে বলেন, সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে শাহবাগ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার যুগান্তরকে বলেন, সোনাগাজী থানার সাবেক ওসিকে গ্রেফতারে আদালতের পরোয়ানা ছিল। বিকাল চারটার দিকে তাকে কদম ফোয়ারার সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ওসি সকালে আদালতে জামিনের জন্য গিয়েছিলেন, সেখান থেকে ফেরার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ডিসি মারুফ বলেন, ‘জামিন নিতে গিয়েছিলেন কি না, সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে কদম ফোয়ারার সামনে থেকে গ্রেফতার করেছি।’

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সোনাগাজী থানায় তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে। তাকে গ্রেফতারের পরপরই আমরা ওই থানায় যোগাযোগ করেছি। সেখান থেকে প্রতিনিধি এলে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। যতক্ষণ হস্তান্তর না হবেন ততক্ষণ তাকে শাহবাগ থানায় রাখা হবে। আদালতে কখন তুলবে এটা সোনাগাজী থানা পুলিশের সিদ্ধান্ত।

গ্রেফতার ওসিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে ডিসি মারুফ বলেন, আমাদের এ থানায় তার নামে কোনো মামলা নেই। তাই আমাদের জিজ্ঞাসাবাদের কোনো কারণ নেই। তারপরও আমরা মাত্র কিছুক্ষণ আগেই তাকে গ্রেফতার করেছি, এখনও কথা বলার সময়ই পাইনি।’ মোয়াজ্জেম ২০ দিন পলাতক ছিলেন। এতদিন তিনি কোথায় ছিলেন, জানতে চাইলে রমনার ডিসি বলেন, ‘এটা বলা যাবে না। কারণ কেউ গ্রেফতারের পর সাধারণত বলেন না, তিনি কোথায় ছিলেন।’

এই ওসির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তা নিয়ে লুকোচুরি শুরু করে পুলিশ। পরে তিনি পালিয়ে গেছেন বলে সরকার ও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তবে তাকে গ্রেফতারে পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই এমন কথাও বলা হয়েছে। তাকে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে বলেও সরকারের উচ্চপর্যায় এবং পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেছেন। শনিবার রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম আত্মগোপনে থাকার কারণে তাকে গ্রেফতারে দেরি হচ্ছে। এতে পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই।’

উল্লেখ্য, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সোনাগাজী থানার সাবেক ওসির বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল ২৭ মে পরোয়ানা জারি করেন। ৩১ মে পরোয়ানার চিঠি ফেনীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পৌঁছায়। কিন্তু পুলিশ সুপার কাজী মনির-উজ-জামান বারবার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

একপর্যায়ে ৩ জুন রাতে পরোয়ানা হাতে পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। এর দু’দিন পর বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে পরোয়ানা রংপুর রেঞ্জে পাঠানো হয়। ওই সময় রংপুর রেঞ্জ বলছে, কাজটি বিধি মোতাবেক হয়নি।

এর আগে ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

সেখানে গত ১০ এপ্রিল রাফি মারা যান। রাফির গায়ে আগুন দেয়ার ৯ দিন আগে ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান রাফি। থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন রাফিকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন মামলা করেন ১৫ এপ্রিল। আদালতের নির্দেশে মামলা তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ওই দিনই মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।

রাফির পরিবার ও বাদীর সন্তোষ প্রকাশ : সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারের খবর পেয়ে রাফির পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পুলিশ বাহিনী এবং ব্যারিস্টার সুমনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

রাফির মা শিরিন আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমার মেয়ে হত্যার বিচারের দায়িত্ব নিয়েছেন। আমরা আশা করছি, রাফি হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত বিচার হবে। ওসি আমার মেয়ের হত্যাকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেছিলেন। এটি প্রতিষ্ঠিত করতেই ভিডিও ধারণ করে তা প্রচার করেছেন। আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলার বাদী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন রোববার বিকালে ফেসবুক লাইভে বলেন, ‘আমি আজ আপনাদের সামনে অত্যন্ত খুশির একটি খবর নিয়ে এসেছি। ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর চেয়ে খুশির সংবাদ আর কী হতে পারে?

সবাই টেনশনে ছিলেন সেই ওসি কবে গ্রেফতার হবে? তাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণ হল- অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক, তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে।’ এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।

রাফি হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, অবশেষে পুলিশ সেই ওসিকে গ্রেফতার করেছে। ন্যায়বিচারের মাধ্যমে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করছি।

ডিজিটাল আইনের ৩টি ধারায় চার্জ আনা হয়েছে : সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের তিনটি ধারায় চার্জ আনা হয়েছে। বিচারে তিনটি ধারায় অপরাধ প্রমাণ হলে তার ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে। সেই সঙ্গে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা। এমন ধারণাই দিয়েছেন প্রসিকিউশনের আইনজীবীরা।

এ আইনে মামলার বিচার ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান থাকলেও অপরাধের গুরুত্ব ও আলোচিত মামলা বিবেচনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তি করতে চায় প্রসিকিউশন। এ মামলায় আজ চার্জ গঠনের দিন ধার্য রয়েছে। চার্জ গঠন হলে এর মধ্য দিয়েই বিচার শুরু হবে।

২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত করে ২৩ মে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় ট্রাইব্যুনালে চার্জশিট দাখিল করে।

আইনের ধারা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২৬ ধারায় অপরাধের শাস্তি ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ লাখ টাকা জরিমানা, ২৯ ধারায় অপরাধের শাস্তি ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৩১ ধারার শাস্তি ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা। তিনটি ধারায় সাজার পরিমাণ ১৫ বছর। আর জরিমানা ১৫ লাখ টাকা। এই তিনটি ধারার মধ্যে ২৬ ও ৩১ ধারা জামিন অযোগ্য। তবে ২৯ ধারাটি জামিনযোগ্য।

সাইবার ট্রাইব্যুনালের পিপি নজরুল ইসলাম শামীম এ প্রসঙ্গে রোববার যুগান্তরকে বলেন, আমরা এ মামলার শুনানি স্বল্পসময়ের মধ্যে শেষ করতে চাই। মামলার বাদী যত দ্রুত সাক্ষ্য দেবেন তত দ্রুত মামলার বিচার শুরু করা যাবে। যদি সব সাক্ষী একদিনে আদালতে হাজির হন, তাহলে একদিনেই তাদের সাক্ষ্য নেয়া হবে। কোনো সাক্ষীকে সাক্ষ্য না দিয়ে ফেরত যেতে হবে না।

ঢাকায় খালার বাসায় পলায়ন : পরোয়ানা জারির পর ২০ দিন ওসি মোয়াজ্জেম আত্মগোপনে ছিলেন। এ সময়ের মধ্যে তার রংপুরের কর্মস্থল, যশোরের গ্রামের বাড়ি, কুমিল্লার বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে পায়নি। পরোয়ানা জারির দিন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত ১৩ দিন তিনি রাজধানীর কল্যাণপুরে এক খালার বাসায় ছিলেন। তাকে গ্রেফতারে গোয়েন্দারা ওই বাসায় যেতে পারেন, সে আশঙ্কায় তিনি সেখান থেকেও সটকে পড়েন। পরে তিনি বন্ধু, স্বজন এবং আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান নেন। ১৬ জুন উচ্চ আদালত খোলার অপেক্ষায় ছিলেন। এদিন তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিন চান।

জামিন না পেয়ে তিনি আবারও আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর আগেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর এসব কথা ওসি মোয়াজ্জেম নিজেই শাহবাগ থানা পুলিশকে জানিয়েছেন। থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ১০ জুনের পর ওসি কুমিল্লায় চলে যান। সেখানে তার নিজের বাড়ি থাকলেও আত্মগোপন করেন চান্দিনায়।

সেখানে তার খালাতো ভাই আসাদুজ্জামান রয়েছেন। আসাদুজ্জামান চান্দিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে কর্মরত। ডিবির একটি দল তাকে ধরতে গত কয়েকদিন কুমিল্লায় অবস্থান করছে- এমন তথ্য পেয়ে শুক্রবার (১৪ জুন) রাতে ওই বাসা থেকেও সটকে পড়েন মোয়াজ্জেম।

সেখান থেকে তিনি আবার ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় এসে খালার বাসায় না উঠে অন্য এক বন্ধুর বাসায় ওঠেন। সেখান থেকেই রোববার উচ্চ আদালতে যান আগাম জামিনের আশায়। ওসি মোয়াজ্জেম কোনো মোবাইল নম্বরে কথা বলতেন না। বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে কথা বলতেন।

দাড়ি-গোঁফ রেখেও রক্ষা পেলেন না : ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেফতার হওয়ার কিছুক্ষণ আগেও জামিন আবেদনের জন্য হাইকোর্টে গিয়েছিলেন। সেখানে তাকে দেখে প্রথমে চিনতে পারেননি কেউ। হাইকোর্টে কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অবাক হন দাড়ি-গোঁফওয়ালা মোয়াজ্জেমকে দেখে।

তার যে ছবি গোয়েন্দাদের কাছে আছে, গ্রেফতার হওয়া ওসির ছবির মিল খুঁজে বের করতে বেগ পেতে হয়েছে তাদের। সূত্র জানায়, রোববার দুপুরে হাইকোর্টে আগাম জামিন নিতে আসেন তিনি। কৌশলে জামিন আবেদন করেন। তবে তিনি জামিন পাননি।

সেই ওসির যত অপকর্ম : সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেফতারের খবর পেয়ে স্থানীয়রা তার অপকর্মের বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। সোনাগাজীর চরকৃষ্ণজয় গ্রামের পাখি আক্তার জানান, এই ওসি তার ছেলেকে বিনা অপরাধে গ্রেফতার করে একটি অস্ত্র দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

সাত মাস ধরে তার ছেলে কারাগারে। আসাদুজ্জামান নামে স্বরাজপুর গ্রামের গাছ ব্যবসায়ী জানান, তাকে আটক করে ৫০ হাজার টাকা নগদ নিয়েছেন এবং দেড় লাখ টাকার সেগুন কাঠ আত্মসাৎ করেছেন।

মহেশ্চর গ্রামের নুরনবী মেম্বার জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে আটক করে তার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা আদায় করেছেন। উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পাটোয়ারি বাড়ির সবুজ নামে এক ব্যক্তি জানান, ছয় মাস আগে জমির বিরোধ নিয়ে তাকে একটি কাপড় দোকান থেকে ধরে নিয়ে দেড়শ পিস ইয়াবাসহ মিথা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠান মোয়াজ্জেম। তিনি এ বিষয়ে আইজিপির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভিডিও ভাইরাল করা সাংবাদিক লাইভ দিচ্ছেন -ওসি মোয়াজ্জেমের ভাই : যশোর ব্যুরো জানায়, ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারের ঘটনায় রোববার সন্ধ্যায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তার পরিবার। যশোরের বাসিন্দা ওসি মোয়াজ্জেমের ভাই আরিফুজ্জামান খন্দকার বলেন, আমার ভাই নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেছে।

এটা ঠিক। কিন্তু তিনি তো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেননি। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক সাংবাদিক সেটি প্রকাশ করেছেন। আমার ভাইকে গ্রেফতার করা হলেও আজ সন্ধ্যায় দেখলাম সেই সাংবাদিক টিভিতে লাইভ দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, নুসরাত হত্যার মূল মামলা ও আসামিদের বাদ দিয়ে ওসিকে নিয়ে বেশি নড়াচড়া করা হচ্ছে। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×