বিশ্বকাপে সেই ভারত সেই পাকিস্তান

ভারত ৩৩৬/৫, ৫০ ওভারে * পাকিস্তান ২১২/৬, ৪০ ওভারে * ফল : ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ভারত ৮৯ রানে জয়ী

  স্পোর্টস ডেস্ক ১৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

২৬ হাজার টিকিটের জন্য আবেদন করেছিল প্রায় আট লাখ মানুষ। কিন্তু দুনিয়া কাঁপানো এই দ্বৈরথ নিয়ে যতই উত্তেজনা থাক, ইতিহাস বলে বিশ্বকাপে ভারতকে কখনও হারাতে পারেনি পাকিস্তান। এবারও সেই অমোঘ নিয়তি এড়াতে পারল না পাকিস্তান। ক্রিকেটের সবচেয়ে অগ্নিগর্ভ লড়াইয়ের বিশ্বকাপ পর্বের ইতিহাসটা একপেশেই থেকে গেল। বিশ্বকাপে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর আরেকটি একপেশে ম্যাচের সাক্ষী হল ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ড। রোববার বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে পাকিস্তানকে ৮৯ রানে হারিয়েছে ভারত। বিশ্বকাপে এ নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা সাত ম্যাচ জিতল তারা। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতির কথা শুনে আবার ভাববেন না যে, মহারণের উত্তাপে কাল জল ঢেলে দিয়েছিল বৃষ্টি। ভারতের ইনিংসের ৪৭তম ওভারে বৃষ্টি প্রথম বাগড়া দিলেও তাতে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমেনি। দ্বিতীয়বার পাকিস্তানের ইনিংসের ৩৫ ওভার শেষে আবার যখন বৃষ্টি নামে, ততক্ষণে ভারতের জয় একরকম নিশ্চিত। ৩৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৬৬ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান তখন ধুঁকছিল। লম্বা বিরতির পর খেলা শুরু হলে বৃষ্টি আইনে ৪০ ওভারে ৩০২ রানের নতুন লক্ষ্য পায় পাকিস্তান। অর্থাৎ, ৩০ বলে করতে হত ১৩০ রান। পাকিস্তান তার ধারেকাছেও যেতে পারেনি। ৪০ ওভারে ছয় উইকেটে ২১২ রানে থামে তারা। এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ম্যাচসেরা রোহিত শর্মার (১৪০) ঝড়ো সেঞ্চুরি এবং অধিনায়ক বিরাট কোহলি (৭৭) ও লোকেশ রাহুলের (৫৭) ফিফটিতে পাঁচ উইকেটে ৩৩৬ রানের পাহাড় গড়েছিল ভারত। জবাবে পাকিস্তানের নড়বড়ে ইনিংসে যা একটু লড়াই করেছেন ফখর জামান (৬২) ও বাবর আজম (৪৮)। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের ১১৪ রানের জুটি ভাঙতেই কুলদীপ যাদবের স্পিন ও হার্দিক পান্ডিয়ার পেসে মুখ থুবড়ে পড়ে পাকিস্তান। শেষদিকে ইমাদ ওয়াসিম ৪৬ ও শাদাব খান ২০ রানে অপরাজিত থাকেন। ভারতের পক্ষে যাদব, হার্দিক ও বিজয় শঙ্কর দুটি করে উইকেট নেন। চার ম্যাচে তৃতীয় জয়ে সাত পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তিনে আছে ভারত। অন্যদিকে পাঁচ ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান পড়ে আছে নয়ে।

লড়াইয়ের প্রথমভাগেই ঝড়ো সেঞ্চুরিতে ম্যাচের সুর বেঁধে দেন রোহিত। জমাট ফিফটিতে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন রাহুল ও কোহলি। এই ত্রয়ীর চওড়া ব্যাট ভারতকে এনে দেয় পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপে কোনো দলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। মোহাম্মদ আমির দারুণ বোলিংয়ে শেষদিকে দ্রুত তিন উইকেট তুলে না নিলে ভারতের সংগ্রহ হয়তো সাড়ে তিনশ’ ছাড়িয়ে যেত। বোলিংয়ে পাকিস্তানের হয়ে এক আমিরই যা লড়াই করেছেন। বাকি বোলারদের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেছে। টর্নেডো ব্যাটিংয়ে মাত্র ৮৫ বলে এবারের আসরে দ্বিতীয় ও ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৪তম সেঞ্চুরি তুলে নেন রোহিত। শেষ পর্যন্ত ১৪ চার ও তিন ছক্কায় ১১৩ বলে ১৪০ রানে থামেন তিনি। অন্যদিকে ৬৫ বলে ৭৭ রানের দুরন্ত ইনিংসের পথে ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারকে (২৭৬ ইনিংস) ছাড়িয়ে ওয়ানডেতে দ্রুততম ১১ হাজার রানের রেকর্ড গড়েন কোহলি (২২২ ইনিংস)। ৪৭ রানে তিন উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের সফলতম বোলার আমির। এছাড়া ওয়াহাব রিয়াজ ও হাসান আলী নেন একটি করে উইকেট। ভারতের ইনিংসের শেষদিকে রানের গতি একটু কমে আসে। সেই কৃতিত্বটা আমিরের। এবারের আসরে চার ম্যাচে ১৩ উইকেট নেয়া এই বাঁ-হাতি পেসারের দারুণ বোলিংয়ের জন্যই শেষ পাঁচ ওভারে মাত্র ৩৮ রান তুলতে পারে ভারত। নিজের শেষ স্পেলে টানা তিন ওভারে হার্দিক পান্ডিয়া, এমএস ধোনি ও কোহলিকে ফেরান আমির।

এর আগে মেঘলা কন্ডিশনের সুবিধা নিতে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। সিদ্ধান্তটাকে ভুল প্রমাণ করে ভারতকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার। নিয়মিত ওপেনার শিখর ধাওয়ানের চোটের কারণে ওপেনিংয়ে নামা লোকেশ রাহুলকে নিয়ে ১৭.৩ ওভারেই ১০০ তুলে ফেলেন রোহিত। শুরু থেকেই রোহিতের ব্যাটে ছিল উত্তাপ। ফিফটি স্পর্শ করেন মাত্র ৩৪ বলে। শুধু আমিরকে সমীহ করে বাকি বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। ৭৮ বলে ৫৭ রান করা লোকেশ রাহুলকে ফিরিয়ে ২৪তম ওভারে ১৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন ওয়াহাব। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে যে কোনো উইকেটে ভারতের সর্বোচ্চ জুটি এটি। রাহুলের বিদায়ের পর কোহলিকে নিয়ে ৯৮ রানের আরও আগ্রাসী একটি জুটি উপহার দেন রোহিত। হাসান আলীর বলে ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ১৪০ রানে থামে তার দাপুটে ইনিংস। এরপর হার্দিক পান্ডিয়াকে (২৬) নিয়ে দলকে রানের পাহাড়ে নিয়ে যান কোহলি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×