আপিল বিভাগের প্রশ্ন

ডিআইজি মিজানকে কেন গ্রেফতার করছে না দুদক

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুদক কর্মকর্তাকে ঘুষ দেয়ার কথা স্বীকার করার পরও পুলিশের বিতর্কিত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার না করায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন আপিল বিভাগ। দুদক আইনজীবীকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, ডিআইজি মিজানকে কেন গ্রেফতার করছেন না? সে কি দুদকের চাইতে বড়? আদালত বলেন, আপনাদের একজন পরিচালকের বিরুদ্ধেও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। যেখানে দুদক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, সেই প্রতিষ্ঠানের একজন পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্যিই অ্যালার্মিং।

হলমার্কের চেয়ারপারসন জেসমিন ইসলামের জামিনের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানিতে রোববার দুদকের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে এমন প্রশ্ন তুলেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ। এ সময় দুদকের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আদালত। আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। জেসমিন ইসলামের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও আবদুল মতিন খসরু।

ডিআইজি মিজান ৯ জুন একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে বলেছেন, তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। এর সপক্ষে তাদের কথোপকথনের কয়েকটি অডিও ক্লিপও টেলিভিশনকে দেন তিনি, যা প্রচারও হয়। ডিআইজি মিজানের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী ২৫ লাখ টাকা নগদে নিয়েছেন ১ ফেব্রুয়ারি। এছাড়া ডিআইজি মিজান ও তার স্ত্রীকে দায়মুক্তি দিয়ে ছেলেকে স্কুলে আনা-নেয়ার জন্য একটি গাড়ি চেয়েছেন দুদকের এই পরিচালক। নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের বিতর্কিত অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমান বর্তমানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত আছেন। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ দুর্নীতির নানা অভিযোগ অনুসন্ধান করেন এই কর্মকর্তা। অনুসন্ধান শেষে সম্প্রতি ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন খন্দকার এনামুল বাছির। ডিআইজি মিজান ছাড়াও তার এক ভাই ও ভাগ্নের নামে মোট ৪ কোটি ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয় অনুসন্ধান প্রতিবেদনে।

রোববার শুনানিতে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খানের কাছে আদালত প্রশ্ন রাখেন, আপনাদের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। এটা তো অ্যালার্মিং দেশের জন্য। তখন আইনজীবী বলেন, তার বিরুদ্ধে পিউনিটিভ অ্যাকশন (শাস্তিমূলক ব্যবস্থা) নেয়া হয়েছে। তখন আদালত বলেন, কীসের পিউনিটিভ অ্যাকশন নিয়েছেন? আপনি শৃঙ্খলা ভঙ্গ আর তথ্য পাচারের জন্য পিউনিটিভ অ্যাকশন নিয়েছেন? ঘুষের কোনো অ্যালিগেশন আপনি নেননি, অ্যাকশন নেননি। কোনো কিছু করেননি।

খুরশীদ আলম খান বলেন, ঘুষের জন্য অ্যাকশন নিতে হলে আমাকে একটু অনুসন্ধান করতে হবে। অনুসন্ধান করে আমাকে এফআইআর দায়ের করতে হবে। আইনের বাইরে তো আমি কোনো কিছু করতে পারব না। তখন আদালত বলেন, ডিআইজি মিজান কি দুদকের চাইতে বড়? তাকে তো আপনি অ্যারেস্ট করতে পারছেন না। এই মামলায় তাকে কেন অ্যারেস্ট করছেন না?

জবাবে আইনজীবী বলেন, আমার যে লোক, আমি তাকে সাসপেন্ড করেছি। আর যে মামলায় তার অ্যারেস্ট হওয়ার কথা, সে মামলায় অলরেডি চার্জশিট মেমো অব অ্যাভিডেন্স দেয়া হয়েছে এবং যিনি তদন্তকারী কর্মকর্তা, তাকে নিয়ে একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে দুদক একটা অ্যাকশন নিয়েছে। এই তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে। নতুন একজন নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সে নতুন করে কাজ শুরু করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত আইনানুগভাবে গুরুত্বসহকারে দুদক দেখছে। কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। শুনানি শেষে হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামের জামিন বাতিল করে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশের পর আইনজীবী খুরশীদ আলম খান আদালতের অসন্তোষের কথা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। ভুয়া এলসির বিপরীতে জনতা ব্যাংকের ৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৬ টাকা আত্মসাতের মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ চলতি বছরের ১০ মার্চ তাকে রুল মঞ্জুর করে জামিন দেন। এর বিরুদ্ধে দুদক লিভ টু আপিল আবেদন করে। রোববার আপিল বিভাগ তার জামিন বাতিল করে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×