ডিআইজি মিজান ও পরিচালকের ঘুষ কেলেঙ্কারি

পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতারের ক্ষমতা দুদকের হাতে

ডিআইজি মিজানের শাস্তির ব্যবস্থা হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী * দু’জনের ব্যাংক হিসাব তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি * কণ্ঠস্বর পরীক্ষা হচ্ছে দেশেই, রিপোর্ট দু-একদিনের মধ্যেই * ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে আসার পর দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ

  মিজান মালিক ১৯ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতারের ক্ষমতা দুদকের হাতে

পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমান ও দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের মধ্যকার ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনা অনুসন্ধানে জোরেশোরে মাঠে নেমেছে উচ্চপর্যায়ের টিম।

দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহর নেতৃত্বে তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম ১৩ জুন থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। দুদক আইনের তফসিলভুক্ত অপরাধ হিসেবেই ওই দু’জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। আইনে অনুসন্ধানকালেই এ ধরনের অভিযোগে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার সুযোগ রয়েছে।

এক্ষেত্রে আদালতের কোনো পরোয়ানারও দরকার নেই। ঘুষ দেয়া ও নেয়া- দুটিই দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলে ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণ সাপেক্ষে দু’জনকেই আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, অনুসন্ধানে প্রমাণ হলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। দুদকের মহাপরিচালক (আইন) মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, ধফরেনসিক পরীক্ষায় যদি দু’জনের কণ্ঠস্বর মিলে যায় বা যদি দেখা যায় ঘুষের বিষয়টি তারা স্বীকার করেছেন, তাহলে তাদের কথাগুলো বিশ্লেষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিআইজি মিজান ও দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের ব্যাংক হিসাব তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দিয়েছে দুদক। মঙ্গলবার দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ দুদক পরিচালকের ব্যাংকের লেনদেনের যাবতীয় তথ্য চেয়ে চিঠি দেন। চিঠিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওই কর্মকর্তার ব্যাংকের সব ধরনের আর্থিক লেনদেনের তথ্য দুদককে প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ডিআইজি মিজানের সম্পদের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদকের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ বিএফআইইউর কাছে চিঠি পাঠান গত বৃহস্পতিবার। চিঠিতে ডিআইজি মিজানের সমুদয় আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য তিন দিনের মধ্যে সরবরাহ করতে অনুরোধ করা হয়। বিএফআইইউর পক্ষ থেকে সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকে অনলাইনে খোঁজ নিয়ে তথ্য সরবরাহ করা হবে বলে দুদক কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে ডিআইজি মিজানের ঘুষ লেনদেনের ঘটনা তদন্তে সোমবার একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করেছে পুলিশ সদর দফতর। পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত আইজিপি) নেতৃত্বে তিন সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।

ডিআইজি মিজানের অবৈধ সম্পদ আছে কিনা- সে বিষয়ে অনুসন্ধানের দায়িত্বে থাকা দুদক পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা খন্দকার এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন বলে নিজেই গণমাধ্যমে ফাঁস করেন। পুলিশ সদর দফতর বলছে, ঘুষ দেয়া ও নেয়া দুটোই অপরাধ। এ ঘটনা তদন্তে এ উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, বিতর্কিত ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে ‘আইন অনুযায়ী শাস্তির’ ব্যবস্থা হচ্ছে। তিনি বলেন, আপনারা তো সবই দেখছেন, ডিআইজি মিজান- সে অলরেডি সাসপেন্ড হয়েছে, ওএসডি হয়ে পড়ে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশের ডিআইজি ও দুদক পরিচালকের ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় দেশের উচ্চ আদালত থেকেও উষ্মা প্রকাশ করা হয়েছে। আপিল বিভাগে দুদকের অপর একটি মামলার শুনানির সময় রোববার আদালত দুদকের আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, পুলিশের ডিআইজি কি দুদকের চেয়েও ক্ষমতাধর? তাকে কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না।

একই সঙ্গে দুদকের পরিচালকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, আদালত তা-ও জানতে চান। তখন দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম বলেন, দু’জনের ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুদক থেকে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। অনুসন্ধান শেষ হলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে ডিআইজি মিজানের করা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে দু’জনের কথোপকথন বা কণ্ঠস্বর পরীক্ষার জন্য বিশেষায়িত সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেলে (এনটিএমসি) অডিও ক্লিপ পাঠানো হয়েছে। রোববার তা দুদক থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠানো হয়। দু-একদিনের মধ্যেই দুদকের অনুসন্ধান টিম রিপোর্ট হাতে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রিপোর্ট আসার পর দু’জনের কণ্ঠস্বর এক হলে বা কথোকথন মিলে গেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কমিশনে সুপারিশ দাখিল করবে অনুসন্ধান টিম। এর অংশ হিসেবে দু’জনকে ঘুষের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। টিমের একজন সদস্য এমনটিই ধারণা দিলেন। তবে কোনো সদস্য এ পর্যায়ে অনুসন্ধানের বিষয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে নারাজ।

একজন কর্মকর্তা বলেন, কমিশন থেকে তাদের এই অনুসন্ধান কাজ শেষ করতে সময় বেঁধে দেয়া হয়। তবে এর মূল কাজটিই হল দু’জনের কণ্ঠস্বর পরীক্ষা। দু’জনের কণ্ঠস্বর মিলল কিনা বা একজনের কণ্ঠস্বর সফটওয়্যারের মাধ্যমে আংশিক বা পুরোপুরি নকল করা হয়েছে কিনা, পুরো বিষয়টিই পরীক্ষার মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া যাবে। যদি মিলে যায়, তাহলে আইনে যে বিধান আছে, অনুসন্ধান কাজ সেভাবেই নিষ্পত্তি হবে।

ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করছিলেন দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। তিনি ২৩ মে কমিশনে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে প্রায় ৪ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য ও মামলার সুপারিশসহ অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে তিনি ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পেয়ে ২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৬(২), ২৭(১) ও ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং আইনের ৪(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ তুলে ধরেন।

কিন্তু এর ১৬ দিনের মাথায় ৯ জুন একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়ে ডিআইজি মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, দুদক পরিচালক তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এর মধ্যে বাজারের ব্যাগে করে রমনা পার্কের উন্মুক্ত স্থানেই দিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা ঘুষ। এমনকি দুদক পরিচালক তার কাছ থেকে তার সন্তানকে স্কুলে আনা-নেয়ার জন্য একটি গাড়িও চেয়েছিলেন।

ডিআইজি মিজানের এ অভিযোগ গণমাধ্যমে আসার পর দেশজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। ওইদিনই (৯ জুন) দুদক সচিবের নেতৃত্বে কমিশন তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি খন্দকার এনামুল বাছিরের জবানবন্দি গ্রহণ করে। সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে এনামুল বাছির জানিয়েছেন, তিনি নির্দোষ।

ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশসহ অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিলের পরপরই তাকে ফাঁসাতে কণ্ঠস্বর নকল করে এই অডিও ক্লিপ ছাড়া হয়েছে। তাকে প্রশ্ন করা হয়, ডিআইজি মিজানের সঙ্গে কথা বলার সময় চেয়ারম্যানের প্রসঙ্গ কেন টেনে আনলেন? পরিচালক যে জবাব দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি তদন্ত কমিটি। পরে দুদক সচিবের নেতৃত্বে ওই তিন সদস্যের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করে কমিশন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি (এনামুল বাছির) প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলাভঙ্গ করেছেন এবং আসামির কাছে তথ্য পাচার কারেছেন।

অর্থাৎ দু’জনের কথোপকথনের একপর্যায়ে এনামুল বাছির ডিআইজি মিজানকে মামলার সুপারিশের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। এ পর্যায়ে তিনি দুদক চেয়ারম্যানের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

এমনকি বাধ্য হয়ে মামলার সুপারিশ করেছেন বলে মন্তব্য করেন। কমিশন মনে করে, একজন পরিচালক এভাবে একজন অভিযুক্তের সঙ্গে চেয়ারম্যানের রেফারেন্স দিয়ে কথা বলা শৃঙ্খলাপরিপন্থী এবং তথ্য পাচারের শামিল। এ কারণে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হন বলে জানা গেছে। যদিও এই অভিযোগ ওঠার পর ডিআইজি মিজানের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

তবে ওইদিন ডিআইজি মিজানের করা ঘুষ লেনদেনের মূল অভিযোগের বিষয়ে এনামুল বাছিরের ব্যাপারে কমিশন থেকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এরই মধ্যে ১২ জুন এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেন, ঘুষ গ্রহণ ও প্রদান দুটিই অপরাধ। উভয়েই সমান অপরাধী।

এ পর্যায়ে এর পরের দিন বৃহস্পতিবারই কমিশন থেকে জিআইজি মিজানের আনা ঘুষের অভিযোগ অনুসন্ধানে পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহর নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্য হলেন- দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান ও মো. সালাহ উদ্দিন।

সূত্র জানায়, এই কমিটি বৃহস্পতিবার থেকেই কাজ শুরু করেছে। তাদের সামনে রয়েছে ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত দুদকের আইন ও তফসিলভুক্ত অপরাধের সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও ধারা। এতে দেখা যায়, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১৬১ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি ঘুষ গ্রহণের উদ্যোগ নেন বা এজন্য ইচ্ছা পোষণ করেন, তাহলে তিনি অভিযুক্ত হবেন। এমনকি সরকারি কর্মকর্তা এখনও হননি অর্থাৎ হওয়ার পথে- এমন কোনো কর্মকর্তাও যদি এ ধরনের ঘুষ নেয়ার পরিকল্পনা করেন, তিনিও ১৬১ ধারায় অপরাধী। এই ধারায় তিন বছরের শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা ২০০৪ সালের দুদক আইনের তফসিলভুক্ত অপরাধ হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় এই ধারার সঙ্গে (দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬১(এ) ধারা) ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা যুক্ত করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণ। এক্ষেত্রে এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তার সাজা হবে সাত বছর। আর অপরাধটি আমলযোগ্য (কগনিজ্যাবল)। এ ধারায় অনুসন্ধানকালেই গ্রেফতারের সুযোগ রয়েছে। ঘুষ গ্রহণকারীর মতো ঘুষদাতাও ওই অপরাধে একইভাবে অপরাধী হবেন। যেমন- দণ্ডবিধির ১৬৫(এ) ধারায় উল্লেখ রয়েছে- যাকে ঘুষ দেয়া হচ্ছিল, তার নেয়ার ইচ্ছাই ছিল না কিংবা জোর করে ঘুষ দেয়া হল বা স্বেচ্ছায়ই ঘুষ দিলেন, তাহলে তিনিও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা মোতাবেক ঘুষদাতা ঘুষ গ্রহণকারীর সহযোগী অপরাধী হবেন। সরকারি কর্মকর্তার ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত ৫(২) ধারা প্রযোজ্য হবে। তবে দণ্ডবিধির ১৬৫(বি) ধারা অনুযায়ী যদি কেউ ঘুষ দিতে বাধ্য হন, সেক্ষেত্রে যিনি ঘুষ দেবেন, তার জন্য দণ্ডবিধির ১৬১(এ) প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ তিনি ঘুষ গ্রহণকারীর মতো অপরাধে অপরাধী হবেন না বা তার সহযোগীও হবেন না।

এখন অনুসন্ধানে দেখার বিষয়- ডিআইজি মিজানকে দুদক পরিচালক ঘুষ দিতে বাধ্য করেছিলেন কিনা। নাকি তিনি নিজেই অনুসন্ধান কর্মকর্তাকে প্ররোচিত করেছিলেন। দুদকের টিম ডিআইজি মিজানের অভিযোগের অডিও ক্লিপ ও পরবর্তী সময়ে মিডিয়ার কাছে দেয়া সব ধরনের বক্তব্য সংগ্রহ করছে।

৯ জুনের পরও তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলেছেন, দুদক পরিচালককে তিনি ফাঁদে ফেলতে চেয়েছেন। অর্থাৎ তিনি নানা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন।

তবে সবচেয়ে বড় কথা হল- তিনি যে অভিযোগ করেছেন, সেই অভিযোগ প্রমাণের জন্য এখন দরকার দু’জনের কণ্ঠের ফরেনসিক পরীক্ষা। তার ফল হাতে আসার পরই দু’জনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারবে কমিশন। দুদক থেকে সদ্য অবসরে যাওয়া মহাপরিচালক (আইন) মো. মঈদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দুদক যে অনুসন্ধান শুরু করেছে তাতে দণ্ডবিধির ১৬১(এ) ধারা প্রমাণ হলে দু’জনের বিরুদ্ধেই ঘুষের ধারা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ধারায় ব্যবস্থা নেয়া যাবে। ঘুষের ১৬১ ধারা দুদক আইনে তফসিলভুক্ত অপরাধ হওয়ায় সাজার পরিমাণও বেশি। ১৬১(এ) ধারার সঙ্গে যুক্ত হবে ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা। ধারাটি আমলযোগ্য এবং ওয়ারেন্ট ছাড়াই যে কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতারযোগ্য।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×