ডিআইজি মিজানের সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ

প্রকাশ : ২১ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ফাইল ছবি

পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমানের সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুদকের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডিআইজি মিজানের ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬০ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেয়া হয়েছে। সম্পদগুলো হল- রাজধানীর রমনা থানা এলাকায় ‘বেইলি রিজ’ নামের বহুতল ভবনের চার তলায় ২১৭০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট এবং ২৩০ বর্গফুটের কার পার্কিং। একই থানাধীন ‘নির্মাণ সামাদ ট্রেড সেন্টার’-এর দ্বিতীয় তলায় দুই হাজার বর্গফুটের কমার্শিয়াল স্পেস।

রাজধানীর উত্তরা থানা এলাকায় ‘এলিয়ন ইনভেনশন’ ভবনের দ্বিতীয় তলায় ১৭৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ও গাড়ি পার্কিং। গুলশান-১ এ পুলিশ প্লাজায় দোকান। উত্তরার পলওয়েল কারনেশনের লেভেল-৩ এ দোকান। রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আট নম্বর সেক্টরের ১০৭নং সড়কে ৬৭ নম্বর প্লট।

সাভারের অ্যাডভান্স পুলিশ টাউনে পুলিশ অফিসার হাউজিং সোসাইটির ভবন-২ এর ফ্ল্যাট। ঢাকার জোয়ারসাহারায় বাংলাদেশ পুলিশ অফিসার বহুমুখী সমবায় সমিতিতে ৭ দশমিক ৫ কাঠা জমি। এছাড়া ডিআইজি মিজানের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে সিটি ব্যাংক লিমিটেডের ধানমণ্ডি শাখায় করা এফডিআর (৪৮১১১৭৪৪৮২০০১), যেখানে স্থিতি ১০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

আদালত আদেশে বলেন, বর্ণিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পতিগুলো অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক (ডিআইজি মিজান) মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ১৪ ধারার অধীন বর্ণিত অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ওইসব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এ মুহূর্তে ক্রোক করা না হলে তা হস্তান্তর হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রের অনুকূলে তা বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আদালত আদেশের অনুলিপি পাঠিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ডিআইজি মিজানের অবৈধ সম্পদ (জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ) অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আদালতে এ আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, স্বনামে-বেনামে ডিআইজি মিজানের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে ১৩ জুন কমিশন থেকে তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। অনুসন্ধানে ডিআইজি মিজানের স্বনামে-বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন বলে জোরাল প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৭(১) ধারা/দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা/মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪ ধারায় মামলা দায়েরের যথেষ্ট কারণ আছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, ডিআইজি মিজান অসাধু উপায়ে অর্জিত অবৈধ সম্পদগুলো অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর, বন্ধক বা বেহাত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। মামলা নিষ্পত্তির আগে ওই সম্পদগুলো হস্তান্তর বা স্থানান্তর হলে রাষ্ট্রের ক্ষতির কারণ রয়েছে। কাজেই ওইসব সম্পদ অবিলম্বে অবরুদ্ধ/ক্রোক করে দুদককে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ করা প্রয়োজন।

দুদক সূত্র জানায়, গত বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তান রেখে অপর এক নারীকে জোরপূর্বক বিয়ে ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠে। এছাড়া এক নারী সংবাদ পাঠিকাকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ আসে তার বিরুদ্ধে। এরপর তাকে ডিএমপি থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়। এর চার মাস পর তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক।

উপপরিচালক ফরিদউদ্দিন পাটোয়ারির হাত ঘুরে ওই অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান খন্দকার এনামুল বাছির। একপর্যায়ের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে অডিও রেকর্ড দিয়ে ডিআইজি মিজান দাবি করেন, এনামুল বাছিরকে তিনি ঘুষ দিয়েছেন। তাকে ২৫ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে।

১৫ জানুয়ারি রমনা পার্কে বাজারের ব্যাগে করে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে এই টাকা দেন তিনি। এ পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য পাচারের অভিযোগে ১০ জুন খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করে দুদক।

এর দু’দিন পর নতুন কর্মকর্তা হিসেবে দুদকের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদকে এ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়। এর আগে খন্দকার এনামুল বাছির ২৩ মে কমিশনে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদন দাখিলের পরই মিজান এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ করেন।