বগুড়ায় দুদকের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী কারাগারে

  বগুড়া ব্যুরো ২১ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়া আদালতে সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ছবি: যুগান্তর
বগুড়া আদালতে সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ছবি: যুগান্তর

বগুড়ায় পাট ক্রয় কেন্দ্রের জমি বিক্রিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তিনি বগুড়ার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন।

বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বগুড়া দুদকের আইনজীবী পিপি আবুল কালাম আজাদ, লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে অ্যাডভোকেট আল মাহমুদ, অ্যাডভোকেট হেলালুর রহমান শুনানিতে অংশ নেন।

মামলা সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রানীনগর বাজারে বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের পাট ক্রয় কেন্দ্রের দুই একর ৩৮ শতক জমি ছিল। বগুড়া শহরের কালিতলা এলাকার মৃত হারুন-অর-রশিদের স্ত্রী জাহানারা রশিদ ২০১০ সালের ১৩ মে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় থেকে জমিটি তিন বছরের জন্য লিজ নেন। প্রতিবছর লিজ মানি ধার্য ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

জাহানারা রশিদ এক বছর লিজ মানি পরিশোধ না করেই ওই জমি কেনার জন্য ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। সরকারি জমি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দিতে বা বিক্রি করতে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের নিয়ম থাকলেও তৎকালীন পাটমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী তা করেননি। তিনি তার পরিচিত জাহানারা রশিদের কাছে দরপত্র ছাড়াই বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। লতিফ সিদ্দিকী একক সিদ্ধান্তে ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৫ টাকা ১১ পয়সা মূল্যের জমিটি মাত্র ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭৪ টাকা ১১ পয়সায় বিক্রি করেন। এতে সরকারের ৪০ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকা ১১ পয়সা আর্থিক ক্ষতি হয়।

এদিকে মূল্যবান ওই জমিটি কম দামে বিক্রি করায় সংক্ষুব্ধ হয়ে নওগাঁর রানীনগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হেলাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসমাইল হোসেন হাইকোর্টে রিট করেন। পরে জাহানারা রশিদ সুপ্রিমকোর্টে রিট করলে তার আবেদন খারিজ হয়ে যায়। দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম ২০১৪ সালে তদন্ত শুরু করেন।

তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় মামলা করেন। অপরাধের সত্যতা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি আসামি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ছাতিহাতী গ্রামের মৃত আবদুল আলী সিদ্দিকীর ছেলে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও বগুড়ার কালিতলার মৃত হারুণ-অর-রশিদের স্ত্রী জাহানারা রশিদের বিরুদ্ধে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

দুদকের পিপি আবুল কালাম আজাদ জানান, পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন। সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বৃহস্পতিবার স্বেচ্ছায় স্পেশাল জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে হজ নিয়ে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর পদ হারান লতিফ সিদ্দিকী। পরে মন্ত্রিত্ব থেকেও বাদ পড়েন এবং সব শেষে দল থেকে বহিষ্কার হন তিনি। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে লতিফ সিদ্দিকী দুই মন্ত্রণালয়- ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির দায়িত্ব পান। কিন্তু এক বছর না পেরোতেই বিদায় নিতে হয় তাকে। এর আগে ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার সরকারে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে ৫ বছর তা পালন করেন।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও মাঝপথে ভোট থেকে সরে দাঁড়ান আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×