অর্থঋণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে ৩ নির্দেশ

৭ হাজার মামলা, আটকে আছে বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ৩৩৮০ কোটি টাকা

  মিজান চৌধুরী ২৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওনা ৩ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা আদায় করতে পারছে না। মামলাগুলোর মধ্যে অর্থঋণ আদালতে ৬ হাজার ৮৯১টি এবং রিট মামলা রয়েছে ১৮০টি। এর মধ্যে অর্থঋণ আদালতের মামলাগুলোর বিপরীতে আটকে আছে ২ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা এবং রিট মামলাগুলোর বিপরীতে আটকে আছে ৭২০ কোটি টাকা। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সম্প্রতি অর্থ বিভাগ থেকে বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রধানদের তিনটি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।
ফাইল ছবি

আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওনা ৩ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা আদায় করতে পারছে না। মামলাগুলোর মধ্যে অর্থঋণ আদালতে ৬ হাজার ৮৯১টি এবং রিট মামলা রয়েছে ১৮০টি। এর মধ্যে অর্থঋণ আদালতের মামলাগুলোর বিপরীতে আটকে আছে ২ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা এবং রিট মামলাগুলোর বিপরীতে আটকে আছে ৭২০ কোটি টাকা। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সম্প্রতি অর্থ বিভাগ থেকে বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রধানদের তিনটি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

বিশেষায়িত আটটি ব্যাংকের সার্বিক অবস্থা নিয়ে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বৈঠক করেছে। সেখানে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি), রাজশাহী কৃষি ব্যাংক (রাকাব), কর্মসংস্থান ব্যাংক, আনসার ভিডিপি ব্যাংক, বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি), প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ও ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) পক্ষ থেকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের মামলাগুলোর সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম অর্থঋণ মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে তিনটি নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের। নির্দেশে বলা হয়, এখন থেকে আদালতে মামলাগুলোর জবাব সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। রিট মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সঠিক তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলো পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে একজনকে নির্দিষ্টভাবে বিশেষ দায়িত্ব দিতে হবে। কারণ নির্ধারিত ব্যক্তি পরে মামলার জবাব, আদালতের বিষয়গুলোর সঠিক খোঁজখবর রেখে জবাব দিতে পারবেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, অর্থঋণ আদালতের রায়ের ৯০ ভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আসে। কিন্তু আইনি দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ঋণ খেলাপিরা উচ্চ আদালতে চাতুর্যপূর্ণভাবে রিট করছেন। যে কারণে অর্থ আদায় সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোর অল্প টাকায় নিয়োজিত প্যানেলভুক্ত অনভিজ্ঞ আইনজীবীর চেয়ে ঋণখেলাপিদের আইনজীবীরা অনেক দক্ষ ও অভিজ্ঞ। এতে উচ্চ আদালতে রিটের শুনানিতে যুক্তিতর্কে হেরে যায় ব্যাংক। পাশাপাশি দলীয় আনুগত্য ও তদবিরের মাধ্যমে নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর লিগ্যাল অ্যাডভাইজারদের বিরুদ্ধে। সরকারি দলের প্রতি আনুগত্যের কারণে তাদের যোগ্যতা নিয়ে কখনও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় না। এছাড়া একটি মামলা থেকে সৃষ্টি হচ্ছে একাধিক মামলা। এতে বছরের পর বছর ঝুলে থাকছে মূল মামলা। আর উচ্চ আদালতে অর্থঋণ মামলার শুনানির জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক বেঞ্চ না থাকায় কাক্সিক্ষত হারে মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে না। ফলে বাড়ছে মামলার জট।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যুগান্তরকে বলেন, এখানে আইনি জটিলতা আছে। তা না হলে ব্যাংক ঋণসংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এমন জট সৃষ্টি হবে কেন। বিচারকের অভাব বা আইনে কোনো জটিলতা আছে কিনা তা শনাক্ত করতে হবে। এজন্য এর ভেতরে ঢুকতে হবে। প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন বা সংশোধন করে জট কমাতে হবে। এছাড়া উচ্চ আদালতে ব্যাংক ঋণ মামলা পরিচালনার জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সূত্র মতে, এ মুহূর্তে অর্থঋণ আদালতে বিকেবির মামলা আছে ১ হাজার ৩৬০টি। এসব মামলার বিপরীতে ১ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা জড়িত। একইভাবে বিকেবির ১০০টি রিট মামলার বিপরীতে আটকে আছে ৪১২ কোটি টাকা।

আইসিবির অর্থঋণ আদালতে মামলা রয়েছে ৯৯টি। এসব মামলার বিপরীতে জড়িত ৫২২ কোটি টাকা। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রিট মামলা আছে ২৩টি, যার সঙ্গে জড়িত ২২৯ কোটি টাকা। আইসিবির মামলাগুলোর মধ্যে গত ৬ মাসে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৪টি।

অর্থঋণ আদালতে রাকাবের মামলার সংখ্যা ৫ হাজার ২৪২টি, যার বিপরীতে জড়িত ৩৯২ কোটি টাকা। এছাড়া এ প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ৩৮টি রিট মামলা আছে, যাতে ৭৭ কোটি টাকা জড়িত। এদিকে বেকারদের জন্য ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান কর্মসংস্থান ব্যাংকের প্রায় আড়াই কোটি টাকা আটকে আছে অর্থঋণ আদালতের মামলাগুলোর বিপরীতে।

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে (বর্তমানেও আইনমন্ত্রী) অর্থঋণ আদালতের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে আলাদা বেঞ্চ গঠনের অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছিলেন। চিঠিতে অর্থমন্ত্রী অর্থঋণসংক্রান্ত রিটের কারণে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তার চিত্র তুলে ধরেন। কিন্তু এরপরও কোনো কাজ হয়নি। পাশাপাশি অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধনের সুপারিশ করেছে আইন কমিশন। আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক এবং আইন কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. এম শাহ আলম ও বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর এ সুপারিশ করেন। এ সুপারিশ বাস্তবায়নেও তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×