ঢাবির ফার্মেসি ও বায়োমেডিকেল সেন্টারের রিপোর্ট

প্রাণসহ সাত কোম্পানির দুধে অ্যান্টিবায়োটিক-ডিটারজেন্ট

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ঘি, ফ্রুট ড্রিংকস, গুঁড়ো মসলা, সরিষা-সয়াবিন তেল ও পাম অয়েল পরীক্ষায় মানোত্তীর্ণ হতে পারেনি

  ঢাবি প্রতিনিধি ২৬ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাণসহ সাত কোম্পানির দুধে অ্যান্টিবায়োটিক-ডিটারজেন্ট

প্রাণমিল্কসহ বাজারে প্রচলিত সাত কোম্পানির পাস্তুরিত দুধে মানব চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। ৭টি প্রতিষ্ঠানের পাস্তুরিত দুধের তিনটিতে এবং তিনটি অপাস্তুরিত দুধে ডিটারজেন্ট পাওয়া গেছে।

এছাড়া উভয় ধরনের মোট ১০টি দুধের নমুনার একটিতে মিলেছে ফরমালিন। প্রাণসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডে ঘি, ফ্রুট ড্রিংকস, গুঁড়া মসলা, পাম অয়েল, সরিষার তেল, সয়াবিন তেলের মানও পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ এবং বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের পরীক্ষায় খাদ্যে বিপজ্জনক পদার্থের উপস্থিতির এ প্রমাণ মিলেছে। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি লেকচার থিয়েটারে (পিএলটি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রাণমিল্ক, মিল্কভিটা, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, ইগলু, ইগলু চকোলেট এবং ইগলু ম্যাংগো এই সাত কোম্পানির পাস্তুরিত দুধের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রাজধানীর পলাশী, গাবতলী ও মোহাম্মদপুর এই তিন বাজার থেকে অপাস্তুরিত দুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল জানায়, বিএসটিআই’র মানদণ্ডে এসব দুধের সবগুলোই বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মানোত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে।

এছাড়া প্রাণের অন্য কয়েকটি পণ্যসহ প্রচলিত বেশকিছু পণ্যের মান নিয়েও গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তারা। যেখানে প্রাণের ফ্রুট ড্রিংকস, ঘি, হলুদ, গুঁড়া মসলাসহ কয়েকটি কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য মানোত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানানো হয়।

এদিকে ১৪ ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত দুধে আশঙ্কাজনক কিছু পায়নি বলে আদালতে রিপোর্ট দিয়েছে বিএসটিআই। মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি দাখিল করেন বিএসটিআই’র আইনজীবী সরকার এম আর হাসান।

পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধের মান নিয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ এবং বায়োমেডিকেল সেন্টারের প্রতিবেদনের মধ্যে পার্থক্য দেখা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএসটিআইর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এসএম ইসহাক আলী যুগান্তরকে বলেন, অন্য প্রতিষ্ঠান কী রিপোর্ট দিল ব্যাপারে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তবে এটুকু বলতে পারি, বিএসটিআইর রিপোর্টের ব্যাপারে আমাদের শতভাগ আস্থা আছে। আমাদের ল্যাব (পরীক্ষাগার) আন্তর্জাতিক মানের। এছাড়া অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের কাছ থেকে ল্যাবের স্বীকৃতি নেয়া আছে।

সম্প্রতি খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নিয়ে সরকার ও জনগণের উদ্বেগের কথা চিন্তা করে বেশ কয়েকটি পণ্যের ওপর পরীক্ষা চালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ ও বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টার। পণ্যগুলো হল- ঘি, ফ্রুট ড্রিংকস, গুড়া মসলা- শুকনা মরিচ, গুঁড়া মসলা- হলুদ, পাম অয়েল, সরিষার তেল, সয়াবিন তেল এবং পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধ। এসব পণ্যের প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে নামিদামি কোম্পানির ৭ থেকে ১০টি করে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালানো হয়। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, অধিকাংশ নমুনাই বিএসটিআই নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ডে মানোত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক এবং ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ, রায়হান সরকার।

দেশে বর্তমান অবস্থায় খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নিয়ে সরকার ও জনগণের গভীর উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সব মহলের অবগতি ও ভোক্তা হিসেবে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিই এই সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্য বলে জানান গবেষকরা। তবে কোন ব্র্যান্ডের দুধে ডিটারজেন্ট বা ফরমালিন আছে তা আলাদাভাবে প্রকাশ করেননি তারা।

অধ্যাপক আ ব ম ফারুক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমরা যে ফলাফল দিয়েছি তা নমুনার ফলাফল। তার মানে এই নয় যে, ওই কোম্পানিগুলোর সব পণ্যই এ রকম। তিনি বলেন, আমরা থাকব না, এক সময় মরে যাব। তিনি বলেন, মানুষকে বাঁচাতে আপনারা ইমেডিয়েটলি গরুকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো বন্ধ করুন। অ্যান্টিবায়োটিক যে গরুকে খাওয়ানো হলো ওই গরুর দুধ ও মাংস আমরা খেলে তা আমাদের শরীরে প্রবেশ করবে।

একজন নাগরিক হিসেবে বলতে চাই সরকার যে সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব দিয়েছে তারা যদি সঠিকভাবে ও নৈতিকতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করত তবে এ সমস্যা এত প্রকট আকার ধারণ করত না।

পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধ : দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের উল্লেখ করে অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, আমাদের পরীক্ষায় পাস্তুরিত দুধের ৭টি নমুনার সবগুলোতেই মানব চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক লেভোফ্লক্সসিন, অ্যান্টিবায়োটিক সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং অ্যান্টিবায়োটিক এজিথ্রোমাইসিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধের মোট ১০টি নমুনার একটিতে ফরমালিন এবং পাস্তুরিত দুধের ৭টি নমুনার ৩টিতে ও অপাস্তুরিত দুধের ৩টি নমুনাতেই ডিটারজেন্ট শনাক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী দুধে ফ্যাট ইন মিল্ক যা থাকার কথা পাস্তুরিত দুধের ৬টি নমুনাতেই তার কম পাওয়া গেছে। সলিড নট ফ্যাট যে পরিমাণ থাকার কথা রয়েছে বিশ্লেষণে এসব দুধের সবগুলোতেই কম ছিল।

এসিডিটি এনালাইসিসে যত থাকার কথা পাস্তুরিত দুধের ১টি ও অপাস্তুরিত দুধের ৩টি নমুনাতে এর পরিমাণ ছিল বেশি। আর টোটাল ব্যাকটেরিয়া কাউন্টও ছিল পাস্তুরিত দুধের সবগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। কলিফর্ম কাউন্ট পাস্তুরিত দুধের ২টি নমুনাতে ছিল বিএসটিআই নির্ধারিত পরিমাণের অনেক বেশি। আর স্টেফাইলোকক্কাস স্পেসিজ শূন্য থাকার কথা থাকলেও পাস্তুরিত দুধের ৫টিতে এর জীবাণুর উপস্থিতি তো ছিলই, এমনকি এর পরিমাণও ছিল অনেক বেশি। অর্থাৎ বিএসটিআই মানদণ্ডে এসব দুধের সবগুলোই বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মানোত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে।

সরিষা ও সয়াবিন তেলের মান : তেলের ক্ষেত্রে সরিষার তেলের ৮টি বিভিন্ন নামের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালানো হয়। সেগুলো হল- রূপচাঁদা, রাঁধুনি, তীর, ফ্রেশ, পুষ্টি, সুরেশ এবং বসুধা। বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী সরিষার তেলের স্যাপনিফিকেশন ভ্যালু যত থাকার কথা তার থেকে বেশি রয়েছে ৮টি নমুনার ৩টিতে। পারঅক্সাইড ভ্যালু ১০ থাকার কথা থাকলেও ৪টিতে এর পরিমাণ ছিল প্রায় দ্বিগুণ। আর রিলেটিভ ডেনসিটির পরিমাণও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল ৪টিতে। এছাড়া জলীয় উপাদানও বেশি পাওয়া গেছে ৮টি নমুনার সবগুলোতে। অর্থাৎ এসব নমুনা বিএসটিআই মানদণ্ডে মানোত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে।

আর সয়াবিনেরও ৮টি নমুনার ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। সেগুলো হল- রূপচাঁদা, ফ্রেশ, পুষ্টি, তীর, এসিআই পিওর, ভিওলা, মুসকান এবং মিজান। বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তেলের এসিড ভ্যালু যতটুকু থাকার কথা দুটি নমুনায় তার থেকে বেশি পাওয়া গেছে। স্যাপনিফিকেশন ভ্যালু ৮টির ২টিতে কম এবং ৫টিতে বেশি পাওয়া গেছে।

৫টিতে পারঅক্সাইড ভ্যালু স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। আয়োডিন ভ্যালু ৮টি নমুনার ৪টিতে কম এবং ১টিতে বেশি পাওয়া গেছে। আর রিলেটিভ ডেনসিটি বেশি পাওয়া গেছে ৩টি নমুনাতে। আর জলীয় উপাদান ৮টি নমুনাতেই স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া মেটাল কনটেন্ট কপারের বেলায় সবগুলো নমুনায় নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি এবং আয়রনের বেলায় ৬টি নমুনাতে বেশি ছিল।

গুঁড়া মশলার মান : শুকনা মরিচের ক্ষেত্রে বাজারে প্রচলিত ৮টি ব্রান্ডের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালানো হয়। সেগুলো হল- প্রাণ, আরকো, বিডি, ফ্রেশ, রাঁধুনি এবং প্লাস্টিক ব্যাগে খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়া নামহীন ২টি নমুনা। বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী শুকনা গুঁড়া মরিচে জলীয় উপাদান সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ থাকার কথা থাকলেও এসব নমুনার ২টিতে বেশি ছিল।

এসিড ইনসল্যুবল অ্যাশ ছিল সবগুলো নমুনাতেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। আর একই কোম্পানির হলুদের নমুনায়ও বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড মানা হয়নি। ৮টির ৬টিতে জলীয় উপাদান বেশি পাওয়া গেছে। আর মেটানিল ইয়েলো নামের টেক্সটাইল কালারের উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য না হলেও সবগুলোতে এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

পাম অয়েলের মান : পাম অয়েলের ক্ষেত্রে বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় বলে প্রতীয়মান এমন ১০টি নমুনার ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। সেগুলা হল- মিজান এবং টিনে খোলা বিক্রি হওয়া ৯টি নমুনা। বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী পাম অয়েলে স্যাপনিফিকেশন ভ্যালু, ইনসল্যুবল ইমপিউরিটিজ, পারক্সাইড ভ্যালু ও জলীয় উপাদান যা থাকার কথা সবগুলো নমুনাতেই সেগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে। এই বিবেচনায় ১০টির সব নমুনাই মানোত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে।

ফ্রুট ড্রিংকসের মান : ফ্রুট ড্রিংকসের ক্ষেত্রে যেগুলো সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় বলে প্রতীয়মান হয় এমন ১১টি নমুনা সংগ্রহ করে বিএসটিআইয়ের শর্ত পূরণ করে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়। যেসব পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয় সেগুলো হল- প্রাণ ফ্রুটো, প্রাণ জুনিয়র ম্যাংগো ফ্রুট ড্রিংক, সেজন ম্যাংগো ড্রিংক, অরেনজি, লিটল ফ্রুটিকা ম্যাংগো ফ্রুট ড্রিংক, সানড্রপ, চাবা রেড এপল, সানভাইটাল নেকটার ডি ম্যাংগো, লোটে সুইডেন্ড এপল ড্রিংক এবং ট্রপিকানা টুইস্টার। বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ফ্রুট ড্রিংকসে টোটাল প্লেট কাউন্ট থাকতে পারে সর্বোচ্চ ৫০টি।

কিন্তু বিশ্লেষণে ১১টি পণ্যের ৭টিতে এর পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। আর কলিফর্ম না থাকার কথা থাকলেও ১১টি পণ্যের ৩টিতে এর উপস্থিতি ছিল ১০০টি। এছাড়াও কৃত্রিম মিষ্টিকারক সাইক্লামেট ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও ১১টি পণ্যের সবগুলোতেই এর ব্যবহার ছিল অতিমাত্রায়। অর্থাৎ এই সবগুলো পণ্য নমুনাই মানোত্তীর্ণ হতে পারেনি।

ঘিয়ের মান : বাজারে প্রচলিত ৮টি ঘিয়ের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালানো হয়। এগুলো হল- প্রাণ, আড়ং, বাঘাবাড়ী, মিল্কভিটা, মিল্কম্যান, সমির এবং টিনে বিক্রি হওয়া নামবিহীন দুটি নমুনা। বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ঘিতে জলীয় উপাদান ও আয়োডিন ভ্যালু যতটুকু থাকার কথা রয়েছে এসব নমুনায় তার থেকে বেশি পাওয়া গেছে। আর তিলের তেলের কোনো উপস্থিতি থাকতে পারবে না উল্লেখ থাকলেও এসব পণ্যের সবগুলোতেই এর উপস্থিতি ছিল। এ বিবেচনায় ৮টি নমুনাই মানোত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে।

১৪ ব্রান্ডের পাস্তুরিত দুধে আশঙ্কাজনক কিছু পায়নি বিএসটিআই : বাজারে থাকা ১৪ ব্রান্ডের ১৮টি পাস্তুরিত দুধের নমুনা পরীক্ষা করে আশঙ্কাজনক কোনো কিছুই পায়নি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। আদালতে সংস্থাটির জমা দেয়া প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি দাখিল করেন বিএসটিআইয়ের আইনজীবী সরকার এমআর হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী জিনাত হক।

সরকার এমআর হাসান জানান, আদালতের নির্দেশে বাজারে থাকা ১৪ ব্রান্ডের ১৮টি পাস্তুরিত দুধের নমুনা পরীক্ষা করে রিপোর্ট মঙ্গলবার দাখিল করেছি। এতে ১৪ ব্রান্ডের পাস্তুরিত দুধে আশঙ্কাজনক কিছু পাওয়া যায়নি। ব্রান্ডগুলো হলপুরা, আয়রন, আড়ং ডেইরি, ফার্ম ফ্রেশ মিল্ক, মিল্ক ভিটা, আফতাব, আল্ট্রা, তানিয়া (২০০ গ্রাম ও ৫০০ গ্রাম), ইগলু, প্রাণ মিল্ক, ডেইরি ফ্রেশ, মিল্ক ফ্রেশ এবং কাউহেড পিওর মিল্ক। পরে আদালত কোনো আদেশ না দিয়ে এ মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করেন।

এর আগে বাজারে পাওয়া যায় এমন পাস্তুরিত দুধ নিয়ে ২০১৮ সালের ১৭ মে ‘পাস্তুরিত দুধের ৭৫ শতাংশই নিরাপদ নয়’ উল্লেখ করে পত্রিকায় বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো আদালতে নজরে আনা হলে আদালত এ বিষয়ে রিট আবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ২০ মে রিট দায়ের করেন আইনজীবী তানভির আহমেদ। ওই রিটের শুনানি নিয়ে বাজারে পাওয়া যায় এমন সব ব্রান্ডের পাস্তুরিত দুধের মান পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×