সবার আগে সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া

  স্পোর্টস ডেস্ক ২৬ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

উট পাহাড়ের নিচে এলে টের পায় তার থেকেও উঁচু কিছু আছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে সে কী শোরগোল ইংল্যান্ডকে নিয়ে। তারা এবারের হট ফেভারিট। বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার। শুরুতে সেই ঝলক দেখিয়ে এখন মরগ্যানদের মরার উপায়! সাত ম্যাচে তিন হার তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। সবশেষ হার কাল অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৬৪ রানে। ছয় জয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে চলে গেল অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ডকে এখন পাহাড় টপকাতে হবে।

লর্ডসে এদিন ২৮৬ তাড়া করতে নামা ইংল্যান্ড ৩২ বল বাকি থাকতে ২২১ রানে অলআউট। বেহরেনডর্ফ (৫/৪৪) ও মিচেল স্টার্ক (৪/৪৩) মিলে স্বাগতিকদের শেষ করে দেন। একদিবসী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই প্রথম পাঁচ উইকেট নিলেন বেহরেনডর্ফ। আর ১৯ উইকেটের মালিক হওয়ার সুবাদে স্টার্ক এই বিশ্বকাপের শীর্ষ বোলার। বিশ্বের একনম্বর ওয়ানডে দল ইংল্যান্ড এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হারল। এর আগে তারা শ্রীলংকার কাছে ২০ রানে হার মানে।

নয় বলের ব্যবধানে স্টার্কের দুই উইকেটে বড় ধরনের ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। বেন স্টোকস ৮৯ রানে আউট হতেই স্বাগতিকদের আশা ক্ষীণ হয়ে আসে। ক্রিস ওকসের (২৬) সঙ্গে তার ৫৩ রানের জুটি কোনো কাজেই আসেনি। এর আগে ওপেনার জনি বেয়ারস্টো ২৭ এবং পরে জস বাটলার ও আদিল রশিদ দু’জনই সমান ২৫ রান করেন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে রানবন্যার ম্যাচে দেখেশুনে শুরুর পর ঝড় তুলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা। মঙ্গলবার লর্ডসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল একইরকম। এই বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় শতরানের জুটিতে অস্ট্রেলিয়াকে জমাট সূচনা এনে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নার।

অধিনায়ক ফিঞ্চ তুলে নেন আসরে নিজের দ্বিতীয় ও ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি। আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ওয়ার্নারের ব্যাট থেকে আসে ফিফটি। কিন্তু দুই ওপেনারের দেখানো পথ ধরে হাঁটতে পারেননি পরের ব্যাটসম্যানরা। তিনশ’ ছাড়ানো সংগ্রহের আশা জাগিয়েও তাই সাত উইকেটে ২৮৫ রানে থামে অস্ট্রেলিয়া। লর্ডসের উইকেটে এই রানও যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং।

ইংল্যান্ড ম্যাচে ফেরে বোলারদের সম্মিলিত চেষ্টায়। ৪৬ রানে দুই উইকেট নিয়ে দলের সফলতম বোলার ক্রিস ওকস। এছাড়া জফরা আর্চার, মার্ক উড, বেন স্টোকস ও মঈন আলীর ঝুলিতে গেছে একটি করে উইকেট।

এই বিশ্বকাপে যে দুটি ম্যাচ হেরেছে ইংল্যান্ড, দুটিই রান তাড়া করে। তারপরও কাল পেসারদের ওপর আস্থা রেখে টস জিতে অস্ট্রেলিয়ার হাতে ব্যাট ধরিয়ে দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান। কিন্তু দারুণ ফর্মে থাকা ফিঞ্চ ও ওয়ার্নার স্বাগতিকদের হতাশ করে উদ্বোধনী জুটিতেই তুলে ফেলেন ১২৩ রান।

সাবধানী শুরুর পর ধীরে ধীরে দু’জনই বাড়ান রানের গতি। অবশেষে ২৩তম ওভারে ওয়ার্নারকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন মঈন। ৬১ বলে ৫৩ রান করা ওয়ার্নারের বিদায়ের পর উসমান খাজাকে (২৩) নিয়ে ৫০ রান যোগ করেন ফিঞ্চ। এক উইকেটে ১৭৩ রান তুলে ফেলা অস্ট্রেলিয়ার পথ হারানোর শুরু ৩৩তম ওভার থেকে।

স্টোকসের বলে খাজা বোল্ড হয়ে ফেরার পর গড়ে ওঠেনি আর কোনো বড় জুটি। ৩৬তম ওভারে অস্ট্রেলিয়াকে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা দেন আর্চার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সপ্তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেয়ার পরের বলেই সাজঘরের পথ ধরেন ফিঞ্চ। ১১৬ বলে করেন ঠিক ১০০ রান।

ভালো শুরুটা কাজে লাগাতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার পরের ব্যাটসম্যানরা। ফিঞ্চের বিদায়ের পর বড় সংগ্রহের জন্য যার দিকে তাকিয়ে ছিল দল, সেই গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ফেরেন মাত্র ১২ রান করে। স্টিভেন স্মিথের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট মার্কাস স্টয়নিস।

দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারানো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের টানতে পারেননি স্মিথও। তাকে ৩৮ রানে থামিয়ে দেন ওকস। শেষদিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ২৭ বলে ৩৮* রানের ঝড়ো ইনিংসে দলকে ২৮৫ পর্যন্ত নিয়ে যান অ্যালেক্স ক্যারি। শেষ ১০ ওভারে অস্ট্রেলিয়া তোলে মাত্র ৭০ রান।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×