সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সরকারি চাকরিতে ডোপটেস্ট বাধ্যতামূলক হচ্ছে

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি চাকরিতে ডোপটেস্ট বাধ্যতামূলক হচ্ছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সরকারি চাকরিতে ডোপটেস্ট বাধ্যতামূলক হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তারা যদি মাদকাসক্ত হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বুধবার (আজ) মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস। ১৯৮৮ সাল থেকে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘সুস্বাস্থ্যই সুবিচার, মাদকমুক্তির অঙ্গীকার’। দিবসটি পালনে সরকার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের গতিশীলতা ও জনবল বেড়েছে। মাদকবিরোধী আইন-২০১৮ যুগোপযোগী করা হয়েছে। মাদকবিরোধী জনমত তৈরি করা হচ্ছে। জুমার বয়ানে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।

এছাড়া মাদকবিরোধী পোস্টার, লিফলেট টানানো হচ্ছে, টকশো করা হচ্ছে। সরকারি চাকুরেদের বেলায় এটি প্রযোজ্য হবে কি না-এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সবার জন্য এটি প্রযোজ্য। সম্প্রতি এ ধরনের একটি অনুশাসনের ফাইলে অনুমোদন দিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এটা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে। সরকারি চাকরিজীবীরা মাদকাসক্ত হলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। চাকরিতে প্রবেশের সময় অবশ্যই ডোপটেস্ট দিয়ে আসতে হবে। মাদকের আলামত পাওয়া গেলে চাকরি প্রার্থীর আবেদন হয়তো বাতিল করে দেব।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে মিয়ানমারের সঙ্গে প্রতিবারই আলোচনা হচ্ছে উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, দেশটির সরকারপ্রধানের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। তারা অনেক কথাই বলে; কিন্তু কোনো কথাই কার্যকর হয় না। ভারতের সঙ্গে এসব আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফেনসিডিলের সংখ্যা এখন অনেক কমে আসছে।

ভারত থেকে যে পরিমাণ ফেনসিডিল আসত, এখন তার ৫৯ ভাগও আসে না। ভারত কাজ করছে। মিয়ানমার সীমান্ত শক্তিশালী করা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে বিজিবির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। কোস্টগার্ডের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

দুর্গম এলাকায় কাজ করার জন্য দুটি হেলিকপ্টার আসছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে কতজন মারা গেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে হত্যা করে না। তারা বিভিন্ন অভিযানে যায়, অপরাধী চ্যালেঞ্জ করলে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।

তবে যারা আত্মসমর্পণ করে, তাদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। বর্তমানে কারাগারে ধারণক্ষমতা প্রায় ৮২ হাজার। কারাবন্দিদের অধিকাংশই মাদকের সঙ্গে জড়িত, যারা অবৈধ ব্যবসা করে, তাদের পেশিশক্তির প্রয়োজন হয়। কিংবা তাদের অবৈধ অস্ত্রের প্রয়োজন হয়। যেখানে অবৈধ ব্যবসা আছে, সেখানেই অবৈধ অস্ত্র থাকে।

এক প্রশ্নে আসাদুজ্জামান বলেন, নাফ নদী রক্তে রঞ্জিত হয়ে গিয়েছিল। রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষার জন্য আমরা আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু আমাদের অবস্থা কাহিল হয়ে যাচ্ছে। ফসলি জমি, পরিবেশ, বনভূমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সোসাইটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার বর্ডারের অধিকাংশই রোহিঙ্গা।

কাজেই ইয়াবার সাপ্লাইটা রোহিঙ্গাদের মাধ্যমেই আসে। রোহিঙ্গারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ব্যবসা করছে। আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আমাদের অঙ্গীকার, মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করা। এ লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। মাদকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এজন্য ২০১৮ সালে ৮ হাজার ৮০০টি সেমিনার হয়েছে। ২৮ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কমিটি গঠিত হয়েছে। আমরা প্রতি জেলায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রও প্রতিষ্ঠা করছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×