প্রশ্নফাঁসের মামলা: ঢাবি শিক্ষার্থীসহ ৭৭ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাবি

বহুল আলোচিত প্রশ্নফাঁসের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীসহ পলাতক ৭৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. সারাফুজ্জামান আনছারী ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইনের’ দেয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তাদের গ্রেফতার করা গেল কি না, তা প্রতিবেদন আকারে পেশ করার জন্য ৩০ জুলাই ঠিক করেছেন আদালত।

আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন ফরিক যুগান্তরকে বলেন, ‘চার্জশিটে মোট আসামি ১২৪ জন। এছাড়া একজন কিশোর আসামির বিচার শিশু আদালতে হবে। ১২৪ আসামির মধ্যে পলাতক ৭৭ আসামির বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

এদিন আদালত চার্জশিট আমলে নেয়া ছাড়াও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা চার্জশিট দেখেন। আদালত সূত্র জানায়, প্রশ্নপত্র জালিয়াতির ৬৫ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, বিসিএস, ব্যাংক ও বিভিন্ন সংস্থার নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

চার্জশিটে বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাসকে চক্রের মাস্টারমাইন্ড এবং ইব্রাহীম, মোস্তফা কামাল, হাফিজুর রহমান হাফিজ ও তাজুল ইসলামকেও এ চক্রের হোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, দুইভাবে কাজ করত চক্রটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন যে ছাপাখানা থেকেই ছাপা হতো, চক্রের সদস্যরা সেই প্রেস থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করত। পরীক্ষার আগের রাতে সেসব প্রশ্নের সমাধান বের করে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মুখস্থ করানো হতো। এছাড়া পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন নিয়ে দ্রুত তা সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করত। ছাপাখানা থেকে প্রশ্নফাঁসকারী চক্রের সবাই চিহ্নিত হলেও ডিজিটাল ডিভাইস চক্রটিকে চিহ্নিত করতে তাদের বেগ পেতে হয়। শেষ পর্যন্ত ডিজিটাল জালিয়াত চক্রটিকেও চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

২৩ জুন আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬ এর ৬৩ ধারাসহ পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০-এর ৯(খ) ধারায় পৃথক দুটি চার্জশিট দাখিল করা হয়। ১২৫ আসামির মধ্যে ৪৬ জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

চার্জশিটে ৮৯ জন আসামির নাম-ঠিকানা যাচাইপূর্বক সম্পূরক চার্জশিট দাখিলের আবেদনও করা হয়েছে। ৭৮ আসামি পলাতক। গ্রেফতার হওয়া আসামির সবাই এখন জামিনে।

২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে শহীদুল্লাহ হল থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন রানা ও আবদুল্লাহ আল মামুন নামে দুই ছাত্রকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

তাদের কাছ থেকে এটিএম কার্ডের মতো দেখতে ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। পরদিন তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৬৩ ধারা এবং ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনের ৯(খ) ধারায় মামলা করে সিআইডি।

যাদের নামে চার্জশিট: মো. ইব্রাহিম, অলিপ কুমার বিশ্বাস, মো. মোস্তফা কামাল, মো. হাফিজুর রহমান, মো. মাসুদ রহমান তাজুল, মো. রিমন হোসেন, মো. মহিউদ্দিন রানা, মো. আইয়ুব আলী বাঁধন, আবদুল্লাহ আল মামুন, ইশরাক হোসেন রাফি, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. মামুন মিয়া, অসিম বিশ্বাস, মো. অনোয়ার হোসেন, মো. নুরুল ইসলাম, হাসমত আলী সিকদার, হোসনে আরা বেগম, গোলাম মো. বাবুল, টিএম তানভির হাসনাইন, সুজাউর রহমান সাম্য, রাফসান করিম, মো. আখিনুর রহমান অনিক, নাজমুল হাসান নাঈম, ফারজাদ ছোবহান নাফি, আনিন চৌধুরী, রকিবুল হাসান ইসামী, বনি ইসরাইল, মো. মারুফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, খান বহাদুর, কাজী মিনহাজুল ইসলাম, নাহিদ ইফতেখার, রিফাত হোসেন, মো. বায়জিদ, ফারদিন আহম্মেদ সাব্বির, তানভির আহম্মেদ মল্লিক, প্রসেনজিত দাস, মো. আজিজুল হাকিম, নাভিদ আনজুম তনয়, সালমান এফ রহমান হৃদয়, সজীব আহাম্মেদ, শিহাব হোসেন খান, এনামুল হক আকাশ, মোশারফ মোসা, মোহায়মেনুল ইসলাম বাঁধন, সাইদুর রহমান, আবদুর রহমান রমিজ, গোলাম রাব্বী খান জেনিথ, উৎপল বিশ্বাস, বেলাল হোসেন বাপ্পী, মো. মশিউর রহমান সমীর, মো. আবু জুনায়েদ সাকিব, মোস্তাফিজ-উর-রহমান মিজান, আবুল কালাম আজাদ, শরমিলা আক্তার আশা, মাসুদ রানা, জেরিন হোসাইন, শেখ জাহিদ বিন হোসেন ইমন, তাজুল ইসলাম সম্রাট, আবির হাসান হৃদয়, মোর্শেদা আক্তার, সালমান হাবিব আকাশ, আলামিন পৃথক, শাহ মেহেদী হাসান হৃদয়, অনিকা বৃষ্টি, ফিওনা মহিউদ্দিন মৌমি, সিনথিয়া আহম্মেদ, শাবিরুল ইসলাম সনেট, মো. লাভলুর রহমান লাভলু, মো. ইছাহাক আলী ইছা, মো. আবদুল ওয়াহিদ মিশন, তানজিনা সুলতানা ইভা, ইশরাত জাহান ছন্দা, মো. আশেক মাহমুদ জয়, নাফিসা তাসনিম বিন্তী, প্রণয় পান্ডে, নুরুল্লাহ নয়ন, জিয়াউল ইসলাম, মো. আশরাফুল ইসলাম আরিফ, জাকিয়া সুলতানা, মো. শাদমান শাহ, সাদিয়া সিগমা, মো. রবিউল ইসলাম রবি, মেহেজাবীন অনন্যা, মো. রাকিবুল হাসান, এম ফাইজার নাঈম সাগর, সাদিয়া সুলতানা এশা, সামিয়া সুলতানা ও ফাতেমা আক্তার তামান্না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×