রিজার্ভ তহবিল ও বোনাস শেয়ারে করারোপ

বাধাগ্রস্ত হবে ব্যাংকের মূলধন বাড়ানোর কার্যক্রম

  দেলোয়ার হুসেন ২৮ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাধাগ্রস্ত হবে ব্যাংকের মূলধন বাড়ানোর কার্যক্রম

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের কর কাঠামোর কারণে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো আরও সংকটে পড়বে।

রিজার্ভ তহবিল ও বোনাস শেয়ার দেয়ার ওপর কর আরোপের ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে।

কারণ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো রিজার্ভ তহবিল ও মুনাফা থেকে বোনাস শেয়ার দিয়ে পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ বাড়িয়ে থাকে। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি অর্থ রিজার্ভ তহবিলে থাকলে তার ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো বোনাস শেয়ার দিলে যে পরিমাণ অর্থের বিপরীতে বোনাস শেয়ার দেবে তার বিপরীতে ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। এই দুই খাতে কর আরোপের ফলে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোসহ অন্যান্য কোম্পানির বোনাস শেয়ারের পরিমাণ কমে যাবে।

ফলে তাদের মূলধন বাড়ানোর কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হবে। এদিকে নগদ লভ্যাংশ দিলে বাড়তি কোনো কর দিতে হবে না। ফলে বাড়তি কর এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো নগদ লভ্যাংশ দেবে। এতে প্রতিষ্ঠান থেকে মুনাফার টাকা নগদ আকারে চলে যাবে বিনিয়োগকারী ও পরিচালকদের হাতে। ফলে মূলধন বাড়ানোর প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে।

গত সোমবার অনুষ্ঠিত বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন- বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসে (বিএবি) বৈঠকে নতুন আরোপিত এ কর প্রত্যাহারের জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনটি বলেছে, এ কর বহাল তাকলে ব্যাংকগুলো সংকটে পড়বে। তাদের মূলধন বাড়ানোর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। কেননা ব্যাংকগুলো আর্থিক ঝুঁকি কমাতে ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে রিজার্ভ তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ জমা রাখে। এখন সেগুলোর ওপর কর দিতে হলে কেউ রিজার্ভ তহবিলে অর্থ রাখবে না।

এ প্রসঙ্গে বিএবি সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, আন্তর্জাতিক নীতিমালার কারণে ব্যাংকগুলোকে প্রতি বছরই মূলধন বাড়াতে হয়।

আগে ব্যাংক ব্যবসা শুরু করতে ১০০ কোটি টাকা মূলধন লাগত। এখন সেটি বাড়িয়ে ৪০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। নতুন ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এটি আরও ১০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে মূলধনের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে। তখন বর্তমানে চালু ব্যাংকগুলোকেও এর পরিমাণ বাড়াতে হবে। এভাবে করের বোঝা চাপালে মূলধন বাড়ানো কঠিন হবে।

সূত্র জানায়, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মূলধন বাড়িয়ে থাকে দুইভাবে। এক. মুনাফা বা রিজার্ভ তহবিলে জমা অর্থ থেকে বোনাস শেয়ার দিয়ে এবং দুই. শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে নগদ টাকার বিনিময়ে রাইট শেয়ার দিয়ে। রাইট শেয়ার দিতে গেলে ব্যাংকগুলোকে অনেক কঠিন শর্ত পালন করতে হয়। যে কারণে অনেক ব্যাংক রাইট শেয়ার দিতে পারে না। তবে মুনাফা করলে ও প্রভিশন ঘাটতি না থাকলে বোনাস শেয়ার দিতে পারে।

এছাড়া মুনাফার একটি অংশ থেকে প্রতি বছর তারা রিজার্ভ তহবিল বাড়িয়ে থাকে। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনো সংকটে পড়লে এই তহবিল থেকে তারা অর্থ খরচ করে। তবে বেশির ভাগ অর্থই মূলধন বাড়াতে ব্যবহার করা হয়।

বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি রয়েছে ১০০টি। এর মধ্যে ব্যাংক ৩০টি, বীমা ৪৭টি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ২৩টি। মূলধন ঘাটতি থাকলে এসব কোম্পানির বোনাস শেয়ার দেয়া বাধ্যতামূলক।

ব্যবসা বাড়াতে হলে মূলধন বাড়াতে হবে। এ কারণে এ কোম্পানিগুলো বোনাস দিয়ে মূলধন বাড়িয়ে থাকে। অর্জিত মুনাফা থেকে সাড়ে ৩৭ শতাংশ কর্পোরেট কর দেয়ায় তারা নিট মুনাফা থেকে বোনাস শেয়ার বা নগদ লভ্যাংশ দিয়ে থাকে।

এখন নিট মুনাফা লভ্যাংশ হিসাবে না দিয়ে রিজার্ভে রাখলে ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। আবার বোনাস শেয়ার দিলেও ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। ফলে এ খাতে দ্বৈত কর বসছে, যা প্রচলিত আইনবিরোধী।

তবে নগদ লভ্যাংশ দিলে কোনো বাড়তি কর দিতে হবে না। ফলে নগদ লভ্যাংশ দিলে কোম্পানি থেকে টাকা চলে যাবে শেয়ারহোল্ডারদের কাছে। কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগ শেয়ারের মালিকই হচ্ছেন পরিচালকরা। ফলে অর্থের বড় অংশই যাবে তাদের কাছে। আর বোনাস শেয়ার দিলে অর্থ কোম্পানিতেই থেকে যাচ্ছে। এর বিপরীতে কোম্পানির মালিকানার অংশীদারিত্ব বাড়ছে শেয়ারহোল্ডারদের।

এদিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতির কারণে তাদের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ বেড়েই যাচ্ছে। যাদের ঘাটতি নেই তাদেরকেও আন্তর্জাতিক নিয়মের কারণে মূলধন বাড়াতে হচ্ছে। এ কারণে ব্যাংকাররা বলছেন, রিজার্ভ তহবিল ও বোনাস শেয়ারের কর বহাল থাকলে খাতটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৯

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×