রিফাত হত্যাকাণ্ড: রাতে মেসেঞ্জার গ্রুপে হত্যার নির্দেশনা

রামদা নিয়ে আসতে বলে রিফাত ফরাজী * ৪৪ সেকেন্ডে মিশন শেষ করে নয়ন বন্ডের ০০৭ গ্রুপ * পুলিশের গাফিলতিতেই পালানোর সুযোগ পেয়েছে খুনিরা * আসামিদের ধরতে স্পেশাল অ্যালার্ট : ডিআইজি

  আকতার ফারুক শাহিন, বরগুনা থেকে ২৯ জুন ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সস্ত্রীক রিফাত। ফাইল ছবি

বরগুনায় রিফাত হত্যার মিশন পরিচালনা করা হয়েছে ০০৭ নামের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপের মাধ্যমে। এই গ্রুপটির নামকরণ করা হয়েছিল জেমস বন্ডের ০০৭ নামের সঙ্গে মিল রেখে। গ্রুপের প্রধান নয়ন বন্ড এবং রিফাত ফরাজী ছিল সেকেন্ড ইন কমান্ড।

হত্যার আগের রাতে এই গ্রুপে হামলার নির্দেশনা দিয়ে সদস্যদের রামদা নিয়ে আসতে বলে রিফাত ফরাজী। নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে পুলিশের গাফিলতির কারণেই রিফাত হত্যার সঙ্গে জড়িতরা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে খুনিরা পুলিশের এই অঘোষিত সহযোগিতা পেয়েছে।

যেখানে পুলিশ বলছে, খুনের ঘটনাটি ঘটেছে তাদের সিসি ক্যামেরার আওতায় সেখানে দেশ কাঁপানো এত বড় একটি ঘটনার পরও পুলিশ কেন আসামিদের গ্রেফতারে তাৎক্ষণিকভাবে তৎপর হল না সেই প্রশ্ন এখন সর্বমহলের। তাছাড়া ঘটনার ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান দুই খুনি নয়ন বন্ড এবং রিফাত ফরাজীর গ্রেফতার না হওয়ার বিষয়টি নিয়েও চলছে তোলপাড়।

পুলিশ যদিও বলছে, আসামিদের গ্রেফতারে সব রকম চেষ্টা চলছে কিন্তু তারপরও এই হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ১২ আসামির মধ্যে ৩ দিনে মাত্র ২ জন গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টিও ভাবাচ্ছে সবাইকে। এর বাইরে যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলা হচ্ছে সে ঘটনার সময় সে ফ সেখানে উপস্থিত ছিল। মামলার আসামির তালিকায়ও নাম নেই তার।

এদিকে নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের গ্রামের বাড়িতে বসানো হয়েছে পুলিশ প্রহরা। এছাড়া দু’দিন ধরে বরগুনায় অবস্থান করে আসামিদের গ্রেফতার ও পুরো বিষয়টির তদারকি করছেন বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম।

জানা গেছে, ঘটনার ৭ দিন আগে থেকে শুরু হয় রিফাত শরীফের ওপর হামলার পরিকল্পনা। কয়েক দফা হওয়া এই পরিকল্পনা বৈঠকে খুনি নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী এবং রিশান ফরাজী ছাড়াও অংশ নেয় নয়ন-রিফাত বাহিনীর অন্য সদস্যরা। এসব বৈঠকে ছক সাজিয়ে পরিকল্পনা হয় রিফাতকে হত্যার। সবশেষ বৈঠক হয় ২৫ জুন মঙ্গলবার রাতে।

এছাড়া মেসেঞ্জার গ্রুপ ০০৭-এ হত্যার নির্দেশনা দেয়া হয়। ওইদিন রাতে এই গ্রুপে নির্দেশনা দেয় রিফাত ফরাজী। গ্রুপের সব সদস্যকে বুধবার সকালে আসতে বলা হয় সরকারি কলেজের সামনে।

রিফাত মেসেঞ্জারে একটি রামদার ছবি দিয়ে অন্যদের বলে- পারলে সঙ্গে করে এটা নিয়ে আসিস। মূলত এটাই ছিল রিফাত শরীফকে হত্যার সর্বশেষ পরিকল্পনা। ফেসবুক গ্রুপে নেয়া শেষ পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার সকাল থেকেই নজর রাখা হয় রিফাত শরীফের গতিবিধির ওপর।

স্ত্রী মিন্নির সঙ্গে দেখা করতে তিনি কলেজে আসছেন এই খবরও আগেভাগেই চলে আসে নয়ন বন্ড ও তার বাহিনীর কাছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীর ক্যাডাররা বরগুনা সরকারি কলেজ গেট থেকে প্রথমে তর্ক এবং ঝগড়ার মাধ্যমে রিফাত শরীফকে নিয়ে আসে ঘটনাস্থলে।

সাহসী ছেলে হিসেবে পরিচিত রিফাত শরীফও সমানতালে ঝুঝতে থাকে তাদের সঙ্গে। ঘটনাস্থলে আসার পর প্রথম রিফাতের কলার ধরে ঘুষি মারে রিশান ফরাজী।

এর পরপরই রামদা নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী। এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে তাকে। রিফাতের স্ত্রী মিন্নি এ সময় নয়ন ও রিফাত ফরাজীকে ঠেকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ৪৪ সেকেন্ডের মধ্যে পুরো মিশন শেষ করে বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে খুনিরা।

প্রশ্নবিদ্ধ পুলিশের ভূমিকা : রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায় শুরু থেকেই অভিযোগের আঙুল ওঠে বরগুনার পুলিশ বিভাগের দিকে। বুধবার সকাল ১০টায় বরগুনা সরকারি কলেজ এলাকায় সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনা পুলিশের সিসি টিভির আওতায় ছিল বলে শুরু থেকেই বলে আসছে সেখানকার পুলিশ।

জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন নিজেও একাধিকবার এ কথা বলেছেন সাংবাদিকদের সামনে। নিয়মানুযায়ী সিসি টিভির মাধ্যমে নজরদারির জন্য একটি কন্ট্রোল রুম থাকে।

যতদূর জানা গেছে, সেই কন্ট্রোল রুমটি বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অবস্থিত। যেখানে কন্ট্রোল রুম এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি সবই ছিল সেখানে ঘটনার পরপরই কেন ত্বরিত গতিতে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ?

ঘটনার প্রায় ১০-১১ ঘণ্টা পর পুলিশ নামে আসামি গ্রেফতার অভিযানে। ততক্ষণে পালিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট সুযোগ পায় খুনিরা।

বরগুনা থেকে শঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল হাসপাতালে আনার পর বুধবার বিকাল ৩টায় মারা যায় রিফাত শরীফ। অথচ বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবীর মোহাম্মদ হোসেন নিহত রিফাতের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছান তারও অন্তত ৪ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা পৌনে ৭টায়।

সে সময় নিহত রিফাতের বাড়িতে উপস্থিত থাকা তার দূরসম্পর্কের এক চাচা যুগান্তরকে বলেন, ‘ঠিক মাগরিবের আজানের সময় সেখানে যান ওসি আবীর। তখনও পুরো বিষয়টি নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন মনে হয়নি তাকে। কেমন যেন গা ছাড়া ভাব।’

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বরগুনার একাধিক সূত্র যুগান্তরকে জানায়, রিফাতের মারা যাওয়ার খবর বরগুনায় পৌঁছা এবং তাকে জনসমক্ষে নৃশংসভাবে কোপানোর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরো ঘটনাটিকে খুব একটা পাত্তা দেয়নি সেখানকার পুলিশ।

প্রকাশ্যে কোপানোর ঘটনার প্রায় ঘণ্টাখানেক পর ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলেও ভিডিও ভাইরাল কিংবা মৃত্যুর খবর না আসা পর্যন্ত সবকিছু ছিল পুরোপুরি স্বাভাবিক।

বৃহস্পতিবার বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বরগুনায় গিয়ে পৌঁছানোর পরই যেন কোমর বেঁধে মাঠে নামে সেখানকার পুলিশ। অথচ তার আগেই ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে যায়। নিরাপদে পালিয়ে যায় নৃশংস এই হত্যার খুনিরা।

পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা গাফিলতির অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, পুরো ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই। আমরা তাৎক্ষণিকভাবেই ব্যবস্থা নিয়েছি। আসামিদের চিহ্নিত করা এবং তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গ্রেফতার অভিযান শুরুতে হয়তো খানিকটা বিলম্ব হয়েছে। কিন্তু ঘটনার পর থেকেই আমরা সব বিষয়েই তৎপর ছিলাম।

প্রশ্ন উঠেছে নয়ন বন্ড এবং রিফাত ফরাজীর মতো কুখ্যাত সন্ত্রাসী যাদের বিরুদ্ধে থানায় ৮-১০টি করে মামলা এবং যারা এর আগেও বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হয়েছে সেখানে তাদের চিনতে পুলিশের দেরি হল কেন? খুনিদের সন্ধানে তল্লাশি কিংবা তাদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালাতেও বা কেন ৮-১০ ঘণ্টা দেরি করল পুলিশ?

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, জেলার শীর্ষ নেতার পুত্রের ক্যাডার এই নয়ন বন্ড। আর রিফাত ফরাজীর মামা দেলোয়ার হোসেন বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তাছাড়া এরা দু’জনেই ছাত্রলীগ কর্মী। ফলে সবদিক বুঝেশুনে মাঠে নামতে গিয়ে দেরি করে ফেলে বরগুনার পুলিশ। আর এই ফাঁকে পালিয়ে যায় খুনিরা।

মায়ের নিষেধ শোনেনি রিফাত : নববিবাহিত স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে নিয়ে খুনি নয়ন বন্ডের সঙ্গে রিফাত শরীফের দ্বন্দ্ব চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। এক সময়ের বন্ধু নয়ন দাবি করছিল মিন্নি তার স্ত্রী। মিন্নির সঙ্গে নয়নের প্রেমের সম্পর্কের বেশকিছু ছবিও ফেসবুকে পোস্ট করে সে।

এসব বিষয় নিয়ে রিফাতের সঙ্গে দু-একবার কথাকাটাকাটি হয় নয়নের। এক সময়ের ছাত্রলীগ এবং পরে যুবলীগ কর্মী রিফাত শরীফও ছেড়ে কথা বলেননি নয়নকে।

এ অবস্থায় রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয় নয়ন বন্ড। বিষয়টি নিজের মাকে জানায় রিফাত। সবকিছু শোনার পর পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত কলেজ এলাকায় গিয়ে মিন্নির সঙ্গে দেখা করতে ছেলেকে নিষেধ করেন রিফাত শরীফের মা। প্রয়োজন ছাড়া বরগুনা শহরে যেতেও নিষেধ করেন তাকে।

বৃহস্পতিবার এসব কথা যুগান্তরকে বলেন রিফাতের মা। তারপরও বুধবার স্ত্রী মিন্নির সঙ্গে দেখা করা এবং তাকে নিরাপত্তা দিতে বরগুনা সরকারি কলেজে যায় রিফাত শরীফ। আর সেখানেই ঘটে তাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা।

রিফাতের পরিবারে কান্না থামছে না : নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিন্নির গ্রামের বাড়ি বরগুনার নয়াকাটা মাইঠা এলাকার বাসায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে মোতায়েন হয়েছে পুলিশ। বরগুনা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৪ জন অস্ত্রধারী পুলিশ দিনরাত ২৪ ঘণ্টা পাহারা দিচ্ছে মিন্নির বাড়ি।

মিন্নির চাচা মো. আবু সালেহ জানান, প্রায় ১ বছর ধরে মিন্নিকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল সন্ত্রাসী নয়ন বন্ড। প্রেম এবং বিয়ের প্রস্তাব দিত তাকে। বিষয়টি মিন্নি বেশ কয়েকবার জানায় পরিবারের সদস্যদের। একবার নাকি মিন্নির ঘাড়ে রামদা ঠেকিয়ে তাকে হত্যারও হুমকি দেয় নয়ন। এরপর আমরা তাড়াতাড়ি করে মিন্নিকে রিফাত শরীফের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে দিই। ভেবেছিলাম বিয়ের পর আর নয়ন তাকে বিরক্ত করবে না। কিন্তু তারপরও এতবড় ঘটনা ঘটে গেল। বর্তমানে মিন্নি ও আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যে কারণে আমাদের বাড়িতে পুলিশ প্রহরা দেয়া হয়েছে।

এদিকে নিহত রিফাত শরীফের বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে মেলে কবরের নিস্তব্ধতা। মাঝে মাঝে সন্তানহারা মায়ের ডুকরে কেঁদে ওঠা আর বিলাপের আহাজারি ছাড়া সবকিছুই চুপচাপ।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে প্রায় বাকহীন রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ। সন্তানহারা হতভাগ্য বাবা-মায়ের খোঁজখবর নিতে যারা আসছেন তারাও নির্বাক। যেন সান্ত্বনা দেয়ার মতো ভাষা নেই কারও মুখে।

প্রতিবেশীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সদালাপী ও বিনয়ী রিফাত শরীফ ছিল সবার প্রিয়। কারও সঙ্গে অভদ্রতা কিংবা কোনোরকম খারাপ আচরণের রেকর্ড ছিল না তার। এ রকম একটা ভালো ছেলের এভাবে মৃত্যুতে পুরো লবণগোলা গ্রামই যেন এখন শোকাতুর।

ব্যক্তিগত কারণে হত্যা বলছে পুলিশ : রিফাত শরীফ হত্যার সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং এ সংক্রান্ত মামলার অগ্রগতি জানাতে শুক্রবার দুপুরে বরগুনা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে জেলা পুলিশ।

বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম। যিনি বৃহস্পতিবার থেকেই বরগুনায় উপস্থিত থেকে তদারকি করছেন রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী পুলিশের কার্যক্রম।

ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, কেবল ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মামলার ১২ আসামির মধ্যে ২ জন এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে একজনকে গ্রেফতার করেছি আমরা। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আশা করি খুব শিগগিরই বাকি আসামিরা ধরা পড়বে।

নয়ন বন্ড এবং রিফাত ফরাজীর মতো এত ভয়ানক সন্ত্রাসী যাদের বিরুদ্ধে ৮-১০টি করে মামলা রয়েছে তারা কিভাবে প্রকাশ্যে বিচরণ করছিল সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, প্রতিবার মামলা হওয়ার পর তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু আদালত থেকে জামিন নিয়ে তারা বাইরে চলে আসে। এক্ষেত্রে তো আমাদের কিছুই করার নেই।

প্রেস ব্রিফিংয়ে রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, কেবল বরগুনাতেই নয়, সারা দেশে এই মামলার আসামিদের ধরার জন্য পুলিশের হেডকোয়ার্টার থেকে বিশেষ নির্দেশনা জারি হয়েছে। এমনকি দেশের সব বিমানবন্দর এবং সীমান্তে জারি হয়েছে স্পেশাল অ্যালার্ট। কোনো অবস্থাতেই যাতে আসামিরা পালাতে না পারে এবং খুব শিগগিরই ধরা পড়ে সেভাবেই চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা।

তিন আসামি রিমান্ডে : রিফাত হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৩ আসামিকে শুক্রবার বিকালে বরগুনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাসেল ফরাজির আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

ম্যাজিস্ট্রেট এজাহার নামীয় ৪ নম্বর আসামি চন্দন, ৯ নম্বর আসামি হাসানকে ৭ দিন করে এবং ভিডিওফুটেজে শনাক্ত নাজমুল হাছানের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে বরিশাল লঞ্চঘাট থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে ৪ যুবককে আটক করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : রিফাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত