বাংলাদেশ আজ ভারতের সমর্থক!

ইংল্যান্ডের বাঁচা-মরার ম্যাচ

  স্পোর্টস ডেস্ক ৩০ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সমর্থক

জো রুটের চোখে এই ম্যাচটা ইংল্যান্ডের জন্য ‘কোয়ার্টার ফাইনাল’। মাইকেল ভন বলছেন ‘ফাইনাল’। আক্ষরিক অর্থে কোনোটাই ঠিক নয়।

বার্মিংহামের এজবাস্টনে আজ ভারতের বিপক্ষে জিতলেও যেমন সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে না ইংল্যান্ডের, তেমনি হারলেও সেমির আশা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে না। তবে নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে রাখতে ইংল্যান্ডের জন্য এটা সর্বার্থেই বাঁচা-মরার ম্যাচ। ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে লিগপর্ব থেকে বাদ পড়ার শঙ্কা ভালোভাবেই ভর করেছে স্বাগতিকদের মনে।

বিশ্বকাপের ছয় মাস আগেই ইংল্যান্ডকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছিলেন অনেক ক্রিকেটবোদ্ধা। অথচ সেই ইংল্যান্ডের এখন সেমিফাইনালে ওঠা নিয়েই টানাটানি। সাত ম্যাচে স্বাগতকদের প্রাপ্তি আট পয়েন্ট। কোনো সমীকরণ ছাড়া সেমিতে যেতে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ দুটি ম্যাচই জিততে হবে তাদের। এজন্যই ইংলিশ ব্যাটিংয়ের প্রাণভোমরা জো রুট বলেছেন, ‘ম্যাচ দুটিকে আমরা কোয়ার্টার ফাইনাল হিসেবে দেখছি।’ কিন্তু ইতিহাস রুটদের বিপক্ষে। ১৯৯২ আসরের পর বিশ্বকাপে ভারত ও নিউজিল্যান্ডকে কখনও হারাতে পারেনি ইংল্যান্ড।

সেই অচলায়তন ভেঙে এজবাস্টনের টার্নিং উইকেটে আজ ভারত-পরীক্ষায় উতরাতে না পারলে একদম খাদের কিনারায় চলে যাবে ইয়ন মরগ্যানের দল। তখন সেমিতে যেতে নিজেদের শেষ ম্যাচ জেতার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পরাজয় কামনা করে প্রার্থনায় বসতে হবে তাদের।

শ্রীলংকা ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে টানা দুই ম্যাচে হেরে ইংল্যান্ড যখন প্রবল চাপে, ভারত তখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের একমাত্র অপরাজিত দল তারা। বিশ্বকাপের মাঝপথেই ইংল্যান্ডকে সিংহাসনচ্যুত করে ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠে এসেছে বিরাট কোহলির দল। ছয় ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে সেমিতেও এক পা দিয়ে রেখেছে ভারত। আজ জিতলে নিশ্চিত হয়ে যাবে শেষ চারের টিকিট।

ভারতের ব্যাটিং চিরকালই শক্তিশালী। এবার তাদের বোলিংটাও হচ্ছে দুর্দান্ত। পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ ও স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহাল আসরের শুরু থেকেই মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন। ভুবনেশ্বর কুমারের চোটে শেষ দুই ম্যাচে একাদশে সুযোগ পেয়ে মোহাম্মদ সামি ছাপিয়ে গেছেন সবাইকে। দুই ম্যাচে আট উইকেট নেয়া সামি আজও হতে পারেন ভারতের তরুপের তাস। ব্যাটিংয়ে অধিনায়ক বিরাট কোহলি টানা চার ম্যাচে পেয়েছেন ফিফটি। এমএস ধোনির অভিজ্ঞতা ইনিংসের শেষভাগে দলকে দিচ্ছে নির্ভরতা। ফিল্ডিংটাও হচ্ছে দুর্দান্ত। সব বিভাগেই দলটির গভীরতা দেখে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভন তো বলেই দিয়েছেন, ‘ভারতকে যারা হারাতে পারবে তারাই এবার বিশ্বকাপ জিতবে।’

ইংল্যান্ড ঘরের মাঠে খেললেও এজবাস্টনের গ্যালারি আজ ভারতীয় সমর্থকদের দখলে থাকবে। এমনকি বাংলাদেশ ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সমর্থকরাও কোহলিদের জন্য গলা ফাটাবে। বিশ্বকাপে টিকে থাকতে আজ ভারতকে সমর্থন করা ছাড়া যে কোনো উপায়ে নেই তাদের। ইংল্যান্ড তাদের বাকি দুই ম্যাচ জিতে গেলে লিগপর্ব থেকেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে বিদায় নিতে হবে। ইংল্যান্ডের জন্য এটাই শুধু স্বস্তির ব্যাপার।

এখনও ভাগ্য তাদের নিজেদের হাতেই আছে। বাঁচা-মরার ম্যাচের চাপকেও প্রেরণা হিসেবে নিচ্ছেন ইংল্যান্ডের সহঅধিনায়ক জস বাটলার, ‘বাইরের কিছু চাপ তো আছেই। কিন্তু চাপও মাঝে মাঝে সুবিধা করে দেয়। আমি তো বলব, ‘আমরা দারুণ সুবিধাজনক অবস্থানে আছি যে, চাপ আছে আমাদের ওপর। এটাই আমাদের সেরাটা বের করে আনবে।

ফেভারিট হই বা আন্ডারডগ, আমরা জানি ভারতের বিপক্ষে সেরাটাই খেলতে হবে আমাদের।’ চোট কাটিয়ে ওপেনার জেসন রয়ের ফেরার সম্ভাবনাও অক্সিজেন জোগাচ্ছে ইংলিশ শিবিরে। তবে ভারতকে মাটিতে নামাতে বাটলার, মরগ্যান, বেয়ারস্টোদের অবশ্যই ফিরতে হবে বিধ্বংসী রূপে। এজবাস্টনের স্পিনবান্ধব উইকেটে কাজটা হবে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। এই মাঠেই ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের এপিটাফ লিখেছিল ভারত। আজ নিজেদের বিকল্প গেরুয়া জার্সিতে মাঠে নামা কোহলিরা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারলে নীল ইংল্যান্ডের সেমির স্বপ্ন কোমায় চলে যাবে।

আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ১৬৪ ৩৩ ১৭
বিশ্ব ১৪,৩১,৭০৬ ৩,০২,১৫০ ৮২,০৮০
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত