সুজনের সংবাদ সম্মেলন

একাদশ সংসদ নির্বাচন অনিয়মের খনি

ইসির বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি * বর্তমান ইসির অধীনে আর কোনো নির্বাচন না করার সুপারিশ * নির্বাচন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে গেলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা বদলের পথ রুদ্ধ হবে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ সংসদ নির্বাচন অনিয়মের খনি
সুজনের সংবাদ সম্মেলন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে ‘সুজন’ বলেছে, এ নির্বাচন অনিয়মের খনি, একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। এ নির্বাচনে ১০৩টি আসনের ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে। যা কোনোক্রমেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।

৭৫টি আসনে ৫৮৬ কেন্দ্রে সব ভোট নৌকায় এবং একটি কেন্দ্রে পড়েছে ধানের শীষে। ১২৮৫ কেন্দ্রে ধানের শীষে এবং দুটি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে একটিও ভোট পড়েনি।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার। তিনি আরও জানান, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারটি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত তাৎক্ষণিক ফলাফলের সঙ্গে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে অমিল রয়েছে। এসব কেন্দ্রে ১ দশমিক ০৯ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ পর্যন্ত ভোটের পার্থক্য পাওয়া গেছে।

নির্বাচনে মহাজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধানে অস্বাভাবিকতা রয়েছে। অনেক কেন্দ্রে অস্বাভাবিক হারে বাতিল ভোট পড়েছে। ব্যালট পেপারে ভোট নেয়া কেন্দ্রগুলোর তুলনায় ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা কেন্দ্রগুলোতে কম ভোট পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান, সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. শাহদীন মালিক, আবুল মকসুদ ও ড. তোফায়েল আহমেদ। তাদের প্রায় সবাই নির্বাচনের অনিয়মে ঘটনার তদন্ত করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলর গঠন করার দাবি জানান।

পাশাপাশি এই ইসি’র অধীনে আর কোনো নির্বাচন আয়োজন না করারও সুপারিশ করেন তারা। নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, ফলাফল প্রকাশে নির্বাচন কমিশন জালিয়াতি করেছে। নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। মানুষের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এখন পুরোপুরি যদি ভেঙে যায় শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা বদলের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।

সংবাদ সম্মেলনে বদিউল আলম মজুমদার নির্বাচনের অসংগতির বিষয়ে তথ্য তুলে ধরে বলেন, এই তথ্যগুলো আপনাদের সামনে উপস্থাপন করলাম। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিঃসন্দেহে অনিয়মের খনি বলতে পারি।

আমরা মনে করি, চরম অনিয়ম হয়েছে। এই সংবাদ সম্মেলন থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে অনুরোধ থাকবে, তিনি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে এই অনিয়মের অভিযোগগুলো তদন্ত করে যারা এর জন্য দায়ী, বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন, তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেয়া হয়। তিনি বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মানুষের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

এখন পুরোপুরি যদি ভেঙে যায় শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা বদলের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। নির্বাচন ব্যবস্থা যদি ভেঙে যায়, অশান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার বদল হয়, তখন আমরা কেউ নিরাপদ থাকব কিনা, এই প্রশ্ন রইল।

নির্বাচনের ফলাফলের বিষয়ে ইসির এখন করণীয় নেই- সিইসি কেএম নুরুল হুদার সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তাহলে এটা দেখার দায়িত্ব কার? কাদেরকে এসব দেখার সাংবিধানিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে? ট্রাইব্যুনালে মামলার আগে তারা (ইসি) কেন ব্যবস্থা নেয়নি? উচ্চ আদালতের একটি রায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে অনিয়ম হলে সেটি তদন্ত করে কমিশন চাইলে সে নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করতে এবং নতুন করে নির্বাচন আয়োজন করতে পারে। কিন্তু তারা কী তা করেছেন?

ইভিএম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে ইভিএম কেনা হয়েছে। টাকা-পয়সা জোগাড় করার আগেই এ মেশিন কেনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইভিএমে পেপার ট্রায়াল রাখতে হবে; যাতে চ্যালেঞ্জ হলে তা যাচাই করা যায়। কিন্তু ইভিএমে তা রাখা হয়নি।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, আজ যে তথ্য প্রকাশ করা হল এগুলো সুজনের তথ্য নয়, কোনো রাজনৈতিক দলের তথ্যও নয়। এটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের প্রদত্ত তথ্য।

তিনি বলেন, বিদেশি বিভিন্ন অর্গানাইজেশন টিআইবি থেকে শুরু করে অন্যান্য সংগঠন যখন বাংলাদেশ সম্পর্কে নেগেটিভ রিপোর্ট করে, তখন মন্ত্রীদের অনেকে বলে যে, তাদের তথ্যের উৎস সম্পর্কে আমাদের সন্দেহ আছে। তবে এটার ব্যাপারে তো সরকার বলতে পারবে না যে, উৎস সম্পর্কে সন্দেহ আছে।

জাতীয় নির্বাচনে শতভাগ ভোট পড়া নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নে কমিউনিস্ট পার্টি ৭০-এর দশকের নির্বাচনে একমাত্র পার্টি হয়েও কোনো কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পায়নি।

আমার মনে হয়, সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টিকেও ছাড়িয়ে গেছি। এখন এই ফলাফল দেখে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, এটা পাগল ছাড়া কেউ দাবি করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, যেসব কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে, ওই এলাকার কোনো ভোটার কী মারা যায়নি। যেসব কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে, সেখানে যে জালিয়াতি হয়েছে তা প্রমাণ করতে হলে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারককে এই ফলাফল দেখানো যথেষ্ট বলে মনে করেন এ সিনিয়র আইনজীবী।

তিনি বলেন, ফলাফল প্রকাশে নির্বাচন কমিশন জালিয়াতি করেছে। এ বিষয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবিতে আমি সমর্থন করছি। সাংবিধানিক পদের কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি যদি মনে করেন যে, অসদাচরণের অভিযোগের কিছুটা বিশ্বাসযোগ্যতা আছে, গ্রহণযোগ্যতা আছে, তাহলে তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করতে পারেন। অন্তত প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে থাকবেন কী থাকবেন না- তা নির্ধারণ করতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে নির্দেশ দিতে পারেন।

ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্বাচনের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। এই কারচুপির নির্বাচন আয়োজনের বিচার না হওয়ায় এই কমিশনের অধীনে আর কোনো নির্বাচন হওয়ার সুযোগ নেই। তাদের আর কোনো নির্বাচন আয়োজনের নৈতিক অধিকার নেই। কারচুপির নির্বাচনের কারণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মানের অবনতি ঘটেছে।

কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, অতীতে বাংলাদেশে অনেক অস্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে, গোঁজামিলের নির্বাচন হয়েছে। এবার নির্বাচন কমিশন গোঁজামিলে না গিয়ে তারা একেবারে ‘সোজামিলে’ চলে গেছে। সোজামিল মানে শতভাগ ভোট। এই সোজামিলের ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, সিইসিকে অন্য কোনো ব্যাপারে না হলেও রোজ হাশরের দিন এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। এত সহজে কেউ তাকে ক্ষমা করবে না, আল্লাহও ক্ষমা করবেন না।

এর আগে এ নির্বাচনকে ঘিরে নানা অনিয়মের তথ্য তুলে ধরেন সুজনের সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার। তিনি জানান, ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার ৪০ হাজার ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৩টি আসনের ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে।

আর ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ১২৭টি কেন্দ্রে, ৯৮ শতাংশ ভোট পড়েছে ২০৪ কেন্দ্রে, ৯৭ শতাংশ ভোট পড়েছে ৩৫৮ কেন্দ্রে এবং ৯৬ শতাংশ ভোট পড়েছে ৫১৬ ভোটকেন্দ্রে। অর্থাৎ ৯৬ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে এক হাজার ৪১৮টি ভোটকেন্দ্রে।

৯০-৯৫ শতাংশ ভোট পড়েছে ৬ হাজার ৪৮৪টি কেন্দ্রে, ৮০-৮৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ১৫ হাজার ৭১৯টি ভোটকেন্দ্রে এবং ৭০-৭৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ১০ হাজার ৭৩টি কেন্দ্রে। ভোটের জন্য নির্ধারিত সময়ে শতভাগ ভোটপড়া সম্ভব কিনা সেই বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধিক হারে ভোট পড়াকে অনেকেই প্রশ্নবিদ্ধ মনে করেন। অনেকের মতে, নির্বাচনের দিনের ভোটের চিত্রের সঙ্গে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়া স্বাভাবিক ঘটনা নয়।

শতভাগ ভোটপড়া কেন্দ্রের বর্ণনা দিতে গিয়ে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, রংপুর-৫ আসনে সর্বোচ্চ ৯টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ৮টি, চট্টগ্রাম-৮ ও রংপুর-২ আসনে ৭টি করে, লালমনিরহাট-৩ ও রংপুর-৬ আসনে ৬টি করে, চট্টগ্রাম-৫, কক্সবাজার-৩, ময়মনসিংহ-২, ময়মনসিংহ-১০, দিনাজপুর-১, গাইবান্ধা-৪, নওগাঁ-৩ ও সিলেট-৪ আসনে ৪টি করে ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে। দলভিত্তিকভাবে ২১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮১টি (৮৪.৯৭%) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে বিজয়ী ৯০ জন সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকাভুক্ত।

এছাড়া ২১টি (৯.৮৫%) জাতীয় পার্টি থেকে বিজয়ী ১০ জন সংসদ সদস্যের, ৮টি (৩.৭৫%) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে বিজয়ী একজন সংসদ সদস্যের, ২টি (০.৯৩%) বিকল্পধারা বাংলাদেশ থেকে বিজয়ী ১ জন সংসদ সদস্যের এবং ১টি (০.৪৬%) জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে বিজয়ী ১ জন সংসদ সদস্যের নির্বাচনী আওতাভুক্ত।

দলীপ কুমার সরকার বলেন, কোনো কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়ার বিষয়টি যৌক্তিকও নয়, কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্যও নয়। কেননা তালিকাভুক্ত ভোটারের মৃত্যুবরণ, দেশের বাইরে অবস্থান, জরুরি কাজে এলাকার বাইরে অবস্থান, অসুস্থতা ইত্যাদি খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। তাই ২১৩টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়া যে কোনো যুক্তিতেই স্বাভাবিক নয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত ফলাফল ও কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে পার্থক্য রয়েছে জানিয়ে সুজন সমন্বয়ক বলেন, আমরা সুজনের পক্ষ থেকে নির্বাচনের পরপরই রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষরিত আসনভিত্তিক ফলাফল সংগ্রহ করেছিলাম।

কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রকাশের আগে প্রাপ্ত ফলাফলের সঙ্গে কিছু আসনে পার্থক্য লক্ষ্য করা গিয়েছে। তিনি জানান, ঢাকা-১০ আসনে তাৎক্ষণিক ফলাফলে ৬৯.৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে জানানো হলেও কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে তা বেড়ে ৭৩.০৯ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানানো হয়।

একইভাবে ঢাকা-১১ আসনে তাৎক্ষণিক ফলাফলে ৬০.৪৬ শতাংশ হলেও তা কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে ৬২.৬৫ শতাংশ, চট্টগ্রাম-৮ আসনে তাৎক্ষণিক ফলাফলে ৭৪.৪৪ শতাংশ হলেও কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে ৭৬.৭২ শতাংশ এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনে তাৎক্ষণিক ফলাফলে ৯৩.২৪ শতাংশ ভোট পড়লেও কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে ৯৪.৩৩ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানানো হয়।

এছাড়া চট্টগ্রাম-১০ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থীর বেসরকারি ফলাফলে প্রাপ্ত ভোট ‘শূন্য’ দেখালেও কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে দেখানো হয়েছে ওই প্রার্থী ২৪৩টি ভোট পেয়েছেন।

ব্যালট পেপার ও ইভিএমে ভোট প্রদানের মধ্যে ভোটের পার্থক্য ২৯.৩৮ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি জানান, এবার নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ছয়টি আসনে সম্পূর্ণ ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হয়।

৩০০ আসনে গড় ভোট পড়েছে ৮০.২০ শতাংশ। এর মধ্যে ব্যালট পেপারে ভোট হওয়া ২৯৪টি আসনের গড় ভোট ৮০.৮০ শতাংশ হলেও ইভিএমে গড় ভোট পড়েছে ৫১.৪২ শতাংশ। ইভিএম কেন্দ্রে কম ভোট পড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ইভিএম ও ব্যালটে ভোট নেয়া আসনগুলোতে ভোটের শতকরা হারে কেন এত তফাত হল? ইভিএম কেন্দ্রে কী রাতে ভোট কাটা সম্ভব হয়নি। কমিশনের পক্ষ থেকে এর একটি ব্যাখ্যা দেয়ার দাবি রইল।

ফলাফলের অসংগতি তুলে ধরে দিলীপ কুমার আরও বলেন, যে ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ৭৫টি নির্বাচনী এলাকার ৫৮৭টি ভোটকেন্দ্রের প্রদত্ত সব ভোট নৌকা প্রতীকে পড়েছে।

আর ধানের শীষে জয়ী ছয়টি আসনের মধ্যে চারটি আসনে অস্বাভাবিক কম ভোট পড়েছে। শতভাগ ভোট পড়ার বিষয়টি অনুসন্ধানসহ গুরুতর নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×