রিফাত হত্যাকাণ্ড: রাব্বি ৭, সায়মন ৩ দিনের রিমান্ডে

  বরগুনা ও দক্ষিণ প্রতিনিধি ১৩ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রিফাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা
রিফাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মো. আল কাইয়ূম রাব্বি আকনের ৭ দিন ও কামরুল হাসান সায়মনের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী শুক্রবার বিকালে ওই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ূন কবির দু’জনকে ওই আদালতে হাজির করে রাব্বির জন্য ১০ দিন এবং সায়মনের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান।

রাব্বিকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে রাতেই বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে জানান, রাব্বি মামলার ৬ নম্বর আসামি। ঘটনার পর থেকে পুলিশ তাকে ধরতে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। রাত পৌনে ৯টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতারের স্থান উল্লেখ করা যাচ্ছে না।

তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির যুগান্তরকে বলেন, এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত ৭ জন ও সন্দেহভাজন ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৭ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সায়মনকে এর আগে তিন দফায় (৫+৫+৩) ১৩ দিন রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। সে ধূর্ত প্রকৃতির ছেলে। সহজভাবে কোনো কথা বলছে না। তদন্তের স্বার্থে তাকে আবারও রিমান্ডে নিতে হচ্ছে। সাইমন সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের হাজারবিঘা গ্রামের কাওসার হোসেন লিটনের ছেলে। ৩ জুলাই পটুয়াখালী থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।

বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

পরের দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা থানায় ১২ জনের নামে এবং চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই ভোরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।

জেলাজুড়ে কড়া নিরাপত্তা : রিফাত হত্যার পর থেকে ২৪ ঘণ্টা চেকপোস্ট বসিয়ে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছে বরগুনা জেলা পুলিশ। এতে বন্ধ হয়েছে মাদক ব্যবসা। সব যানবাহনে চেকিংয়ের ফলে মাদক কারবারিদের আনাগোনা নেই শহরে। এতে স্বস্তিতে রয়েছে জনগণ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বরগুনা টাউনহল জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে বাসস্ট্যান্ড-পুরাকাটা, বরগুনা-বেতাগী-আমতলীর চৌরাস্তা, বরগুনা-বরিশাল-নিশানবাড়ীয়া-বড়ইতলা-পরীরখাল-কালীবাড়ি-স্টেডিয়াম রুটে চেকপোস্ট বসিয়ে সব ধরনের যানবাহন ও যাত্রীদের প্রতিনিয়ত তল্লাশি করছে পুলিশ। এতে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে শহরের যানজট ও মাদক কেনাবেচা।

সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি বাজার থেকে বরগুনা আসার পথে চেকপোস্টে গাড়ির কাগজপত্র দেখানো মিরাজ খান বলেন, বিগত দিনে বরগুনায় এমন কড়া নিরাপত্তা দেখিনি। এমন উদ্যোগ আগে নিলে মাদক ব্যবসা, চুরি-ছিনতাই বন্ধ হয়ে যেত।

বরগুনার কেওড়াবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা বশির জানান, কিছুদিন আগেও আমাদের এলাকায় নিত্যনতুন মোটরসাইকেলে এসে মাদক সরবরাহ করে দ্রুত তারা চলে যেত। এখন এসব মোটরসাইকেল নিয়ে অল্প বয়সী ছেলেরাই বেশি আনাগোনা করেছে।

বরগুনার পিপি ভুবন চন্দ্র হাওলাদার জানান, রিফাত হত্যার পর বরগুনার সব আদালত মাদকে জড়িত আসামিদের জামিনের ব্যাপারে যথেষ্ট সজাগ। মাদক যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিয়েছে। হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ আমরা যাই বলি না কেন, এর পেছনে রয়েছে মাদক।

বরগুনা থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন বলেন, কড়া নিরাপত্তা থাকার কারণে রিফাত হত্যা মামলার আসামিরা আস্তে আস্তে ধরা পড়ছে। বন্ধ হতে শুরু করেছে চুরি, ছিনতাই ও মাদক ব্যাবসা।

বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন জানান, মাদক বহন ও বিক্রি থামাতে এমন অভিযান ও চেকপোস্ট সব সময় চলবে। রিফাত শরীফ হত্যাকারীদের ধরতে পুলিশের সব ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : রিফাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×