প্রাণসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুধে অ্যান্টিবায়োটিক

৪ সংস্থার ল্যাবে দুধ পরীক্ষার নির্দেশ

ঢাবি অধ্যাপকের রিপোর্ট হাইকোর্টে উপস্থাপন

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৫ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের গবেষণায় প্রাণসহ কয়েকটি ব্র্যান্ডের দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি থাকা সংক্রান্ত রিপোর্টের ওপর শুনানি করেছেন হাইকোর্ট। পরে বিএসটিআই অনুমোদিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত (প্যাকেটজাত) দুধে অ্যান্টিবায়োটিকসহ ক্ষতিকর কোনো উপাদান আছে কি না, তা ৪টি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের গবেষণায় প্রাণসহ কয়েকটি ব্র্যান্ডের দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি থাকা সংক্রান্ত রিপোর্টের ওপর শুনানি করেছেন হাইকোর্ট। পরে বিএসটিআই অনুমোদিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত (প্যাকেটজাত) দুধে অ্যান্টিবায়োটিকসহ ক্ষতিকর কোনো উপাদান আছে কি না, তা ৪টি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে পাস্তুরিত এসব দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়াও ডিটারজেন্ট, ফরমালিন, ব্যাকটেরিয়া, কলিফর্ম, অ্যাসিডিটি ও স্টাইফলোকাস্টেস আছে কি না, তাও চারটি গবেষণাগারে পরীক্ষা করে এক সপ্তাহের মধ্যে আলাদা প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) ও সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণাগারে এসব দুধ পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে বিএসটিআইকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে বাজার থেকে দুধের নমুনা সংগ্রহ করতে বলেছেন আদালত।

রোববার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত আগামী ২৩ জুলাই পরবর্তী শুনানির জন্য রেখেছেন। শুনানিতে আদালত দুধে অ্যান্টিবায়োটিক থাকার তথ্যে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, শুধু পাস্তুরাইজ করেই দুধ বিশুদ্ধ করা যাচ্ছে না। আরও উন্নত শুদ্ধীকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।

রোববার শুনানির শুরুতে আদালত বিএসটিআইয়ের আইনজীবীর কাছে দুধে অ্যান্টিবায়োটিক আসার সোর্স এবং এগুলো মানবদেহের ওপর প্রভাব সম্পর্কে জানতে চান। এ ছাড়া বিএসটিআই কখনও দুধের অ্যান্টিবায়োটিক পরীক্ষা করে দেখেছে কি না?

জবাবে বিএসটিআইয়ের আইনজীবী বলেন, বিভিন্ন সোর্স থেকে দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ঢুকছে। গরু মোটাতাজাকরণ এবং দুধ বেশি পাওয়ার জন্যও ইনজেকশন ব্যবহার করা হচ্ছে। দুধের অ্যান্টিবায়োটিক পরীক্ষা করার প্যারামিটার বিএসটিআইতে আগে ছিল না। কিন্তু এখন মান পরীক্ষার বিষয়ে প্যারামিটার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আদালত জানতে চান, আদৌ পাস্তুরিত করার মধ্য দিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক রোধ করার সুযোগ রয়েছে কি না?

জবাবে আইনজীবী বলেন, যে তাপমাত্রায় হিট দেয়া হয় তাতে অ্যান্টিবায়োটিক থেকেই যাচ্ছে। আইনজীবী আদালতকে জানান, বিএসটিআইয়ের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। ৬ মাসের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কমিটি করে আইসিডিডিআর,বি, সায়েন্স ল্যাবরেটরি এবং বিএসটিআইয়ের ল্যাবে একই দুধের নমুনা পরীক্ষা করবে। আদালত বলেন, প্রতিবেদন কবে দেয়া হবে, সেটাও কি ৬ মাস পরে জানাবেন?

রিটের পক্ষের আইনজীবী অনিক আর হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট উল্লেখ করে বলেন, যেভাবেই হোক না কেন দুধে বিন্দুমাত্র অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব থাকতে পারে না। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওই আদেশ দেন।

বাজারে থাকা পাস্তুরিত দুধ নিয়ে আইসিডিডিআর,বির গবেষণা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই গবেষণায় বলা হয়, বাজারে থাকা ৭৫ শতাংশ পাস্তুরিত দুধেই ভেজাল ধরা পড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ।

রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২১ মে এক আদেশে বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের নিয়ে কমিটি গঠন করে বাজারে থাকা পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সচিব এবং বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ নির্দেশের পর গত ২৫ জুন বিএসটিআইয়ের আইনজীবী আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। কিন্তু কোনো শুনানির আগেই সেদিন তিনি গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন। বলেন, ১৪টি কোম্পানির পাস্তুরিত দুধে ক্ষতিকর কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি।

এদিকে গত ২৫ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ ও বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক দাবি করেন, বাজারে প্রচলিত প্রাণসহ ৭টি পাস্তুরিত ও তিনটি অপাস্তুরিত দুধে ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে।

সব কটিতে লেভোফ্লক্সাসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও এজিথ্রোমাইসিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া রয়েছে ফরমালিন ও ডিটারজেন্টের উপস্থিতি। এদিকে শনিবার দ্বিতীয় দফার পরীক্ষায়ও প্রাণমিল্কসহ ৫ কোম্পানির ৭টি পাস্তুরিত দুধে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়ার কথা জানান ঢাবি অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×