চির প্রেরণার অমর একুশে আজ

ভাষা শহীদদের প্রতি জাতির বিনম্র শ্রদ্ধা

  মুসতাক আহমদ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভাষা শহীদ

‘রক্তে আমার আবার প্রলয় দোলা/ফাল্গ–ন আজ চিত্ত আত্মভোলা/আমি কি ভুলিতে পারি/একুশে ফেব্রুয়ারি’। চেতনার পথে দ্বিধাহীন অভিযাত্রী বেশে বাঙালিকে সর্বদা চলার প্রেরণা জোগায় একুশ। আজ সেই অমর একুশে। শোক বিহ্বলতা, বেদনা আর আত্মত্যাগের অহংকারে উদ্বেলিত হওয়ার দিন আজ।

সাহস, প্রত্যয় আর উদ্দীপনায় সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিন। একই সঙ্গে আজ ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। আজকের দিনটি প্রত্যেক বাঙালির পাশাপাশি পৃথিবীর তাবৎ মাতৃভাষাপ্রেমীর রক্ত টগবগে চেতনায় শানিত হওয়ার দিন। আজ বাংলাদেশের পাশাপাশি ইউনেস্কোর ১৯৫টি সদস্য এবং ১০টি সহযোগী সদস্য রাষ্ট্র পালন করবে আমাদের একুশকে। পৃথিবীর ৬ হাজার ৯০৯টি ভাষার মানুষ পালন করবে দিবসটি।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে দিবসটি

পালনের কর্মসূচি শুরু করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ‘আসুন দলমত নির্বিশেষে একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখি। সবাই মিলে একটি অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। প্রতিষ্ঠা করি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।’

একুশের পথ ধরেই আমরা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, লাল-সবুজের পতাকা আর আত্মপরিচয়ের অধিকার অর্জন করেছি। তাই গৌরবোজ্জ্বল, প্রেরণায় মহিমান্বিত আর চেতনা শানিত করারও শক্তি হল একুশে ফেব্রুয়ারি। ফি বছর যখন বসন্ত আসে, কৃষ্ণচূড়ার শাখায় বসে দরাজ কণ্ঠ ছেড়ে কৃষ্ণ-কোকিল গান ধরে, পলাশ-শিমুল রক্তরাগে প্রকৃতিকে রাঙিয়ে ঝিরি ঝিরি দখিনা সমীরণের প্রবাহ ঘটায়, ছুড়ে ফেলে দেয় নির্জীবতাকে, তখনই চেতনায় নাড়া দিয়ে ওঠে যে, এসেছে ফেব্রুয়ারি। তাই তো বসন্তের সম্মিলনে আমাদের চেতনায় আল্পনা এঁকে দেয় অমর একুশে।

কৃষ্ণচূড়ায় সদ্য ফোটা ফুলের পাশে বসে কোকিলের কুহুতান যেন একুশেরই আহ্বান। এই একুশে জাতীয় জীবনে অবিনশ্বর এক মহা-উদযাপনে পরিণত হয়েছে বছরের পর বছর। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-দল-মত নির্বিশেষে উদযাপন করার মতো এমন কালজয়ী দিন সত্যিই দ্বিতীয়টি নেই।

আমাদের বাংলা বর্ণমালা বড়ই দুঃখিনী। কত কণ্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে বাংলা বর্ণমালা আজ বিশ্বদরবারে সমাদৃত, স্বীকৃত। একসময়ে বাংলা ছিল অস্পৃশ্য। সংস্কৃত কিংবা উর্দু-ফার্সির কাছে বাংলা ছিল তুচ্ছ ও তাচ্ছিল্যের। ব্রিটিশ বিতাড়নের পর এলো পাকিস্তান। কিন্তু শোষিত বাঙালির বঞ্চনার ইতিহাস আরও দীর্ঘ হল। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাবে না! উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা। এভাবে দিনের পর দিন অপমানিত, লাঞ্ছিত হতে হতে বাহান্নে জেগে উঠল বাঙালি। মায়ের ভাষার অপমান নয়। জ্বলে-পুড়ে মরবে, তবু মাথা নোয়াবে না চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তের কাছে। সেই ফাল্গ–নে পিচঢালা পথে এগিয়ে চলল মিছিল। গগনবিদারী স্লোগানে প্রকম্পিত আকাশ-বাতাস। চলল গুলি। লুটিয়ে পড়ল মিছিলের অগ্রগামী তরুণের দল। জীবন দিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ নাম না-জানা আরও অনেকে। রক্তস্নাত হল রাজপথ। সেই রক্ত স্রোতধারায় সিক্ত মাটিতে নির্মিত হল শহীদ মিনার। সেই শহীদ মিনারে আজ যাবে কোটি বাঙালি। যাবে পৃথিবীর কোটি মানুষ। বিনম্র শ্রদ্ধায় তারা স্মরণ করবে মহান বীর ভাষাসৈনিক ও শহীদদের।

বাহান্নর সেই সোনাঝরা রোদ্দুরে রক্তস্নাত মোদের গরব মোদের আশাকে যথাযথ প্রকাশে একুশ চিরদিনই আমাদের শানিত চেতনা। একুশ আমাদের বাঁচতে শেখায়, লড়াই করে অধিকার আদায় করতে শেখায়। একুশ বাঙালি জাতির গর্ব ও অহংকার। ভাষাসংগ্রামের রক্তস্নাত সেই বিস্ফোরণ শুধু বাঙালির মায়ের ভাষাকেই শৃঙ্খলমুক্ত করেনি; বাঙালির স্বাধিকার, স্বাধীনতা, সব ধরনের বৈষম্য দূর করার সংগ্রাম ও অনুপ্রেরণার উৎস। বাঙালির ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি তথা যা কিছু মহান, সবকিছুতেই একুশের চেতনা বিদ্যমান। বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের যে সংগ্রামের সূচনা সেদিন হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় পথ বেয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে তা চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। একুশে ফেব্রুয়ারি তাই বাঙালির কাছে চির প্রেরণার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহর থেকেই জাতি কৃতজ্ঞ চিত্তে ভাষা শহীদদের স্মরণ করছে। সবার কণ্ঠে বাজছে একুশের অমর শোকসঙ্গীত- ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি...।’

একুশের চেতনা আমাদের আত্মমর্যাদাশীল করেছে। একুশ মানেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ, প্রতিবাদ আর যাবতীয় গোঁড়ামি ও সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে শুভবোধের অঙ্গীকার। যে কারণে ১৯৫২ সালে সেই পলাশরাঙা প্রভাতের সূর্য অমিত সম্ভাবনার যেই স্বপ্ন-প্রত্যয় জাতির হৃদয়ে বপন হয়েছিল, সেই তেজোদীপ্ত বিদ্রোহের সুর আজও প্রতিটি ক্রান্তিকালে ধ্বনিত হয় বাঙালির হৃদয়ে।

১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা দেন, ‘উর্দু অ্যান্ড উর্দু উইল বি দ্য স্টেট ল্যাঙ্গুয়েজ অব পাকিস্তান (উর্দু, উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা)।’ সঙ্গে সঙ্গে ছাত্ররা ‘নো’ ‘নো’ ধ্বনি তুলে প্রতিবাদ জানান। ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে পূর্ববঙ্গের প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ঘোষণা করেন, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।’ পাকিস্তানি শাসকদের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে এ ধরনের গতিবিধি ও কর্মকাণ্ড আন্দোলনের দাবানল সৃষ্টি করে। জিন্নাহর ঘোষণার পর থেকেই তমদ্দুন মজলিসের নেতৃত্বে বাংলা রাষ্ট্রভাষার জন্য আন্দোলন শুরু হয়।

১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদ গঠিত হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা শহরের সব স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করা এবং আরবি হরফে বাংলা ভাষার প্রচলনের চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ধর্মঘট পালন করে। আর একুশে ফেব্রুয়ারিতে প্রদেশব্যাপী ধর্মঘট করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ২০ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা জারি করে সরকার।

এতে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদের বেশিরভাগ সদস্য পিছিয়ে গেলেও ছাত্রদের দৃঢ়তায় ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা হয়। ছাত্রদের বিক্ষোভের মিছিলের ওপর পুলিশ গুলি চালায়। নিহত হন রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, সফিউরসহ নাম না-জানা অনেকে। এরপর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন। ছাত্রদের প্রবল প্রত্যাশার মুখে ক্ষমতালিপ্সু রাজনীতিকদের হিসাব-নিকাশের রাজনীতি উড়ে গিয়েছিল সেদিন। রক্তের বিনিময়ে বাঙালি পেয়েছে তার মুক্তির, তার গন্তব্যের দিশা। একুশে ফেব্রুয়ারি তাই বাংলাদেশের, বাঙালির চির প্রেরণার প্রতীক।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর তাদের ৩০তম সম্মেলনে ২৮টি দেশের সমর্থনে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০০০ সাল থেকে ইউনেস্কোর সদস্য দেশে একযোগে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

আজ সরকারি ছুটির দিন। অর্ধনমিত রাখা হবে জাতীয় পতাকা। একই সঙ্গে সর্বত্র ওড়ানো হবে শোকের কালো পতাকা। সংবাদপত্রগুলো ভাষা দিবসের বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

শ্রদ্ধা নিবেদন : রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ বেদিতে প্রথম ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি...’ বাজানো হয়। শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। রাষ্ট্রপতির পরনে ছিল কালো মুজিব কোট এবং প্রধানমন্ত্রীর পরনে শোভা পাচ্ছিল সাদা-কালো রঙের শাড়ি, তার ওপর কালো রঙের চাদর।

এর আগে রাষ্ট্রপতি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান তাকে স্বাগত জানান। এছাড়া শহীদ বেদিতে ফুল দেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এরপর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা জানান তিন বাহিনীর প্রধানরা, পুলিশের মহাপরিদর্শক, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনারসহ বিদেশি মিশনের কূটনীতিকরা। এরপর শ্রদ্ধা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডাররা, ভারত-বাংলাদেশ মিডিয়া ডায়ালগে অংশগ্রহণকারীর প্রতিনিধিরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রোভিসি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষাসৈনিকরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, একে আজাদের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে জাসদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, দিলীপ বড়ুয়ার নেতৃত্বে সাম্যবাদী দল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নেতারা।

পরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, গণসংহতি আন্দোলন, এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলা একাডেমি, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

রাত সাড়ে ১২টার পর শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের জনগণের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। আজ বুকে শোকের প্রতীক কালোব্যাজ ধারণ করে খালি পায়ে সর্বস্তরের মানুষ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। শুধু ঢাকাতেই নয়, সারা দেশের স্কুল-কলেজ, জেলা ও থানা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন দেশের সর্বস্তরের মানুষ।

দিবসের কর্মসূচি : দিবসটি উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। আজ বিকালে ওই আয়োজনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে সভাপতিত্ব করবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন শ্রীলংকার মন্ত্রী মানু গনেশন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, ইউনেস্কোর ঢাকা অফিসের প্রধান বিয়েট্রিস কালডুন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন ও ইন্সটিটিউট মহাপরিচালক ড. জীনাত ইমতিয়াজ আলী বক্তৃতা করবেন।।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আওয়ামী লীগের কর্মসূচি। ভোর সাড়ে ৬টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারা দেশে সংগঠনের সব শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর সকাল ৭টায় কালোব্যাজ ধারণ করে প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবর ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

নিউমার্কেটের দক্ষিণ গেট থেকে প্রভাতফেরি শুরু হয়। দিবসটি উপলক্ষে ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টায় কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলোচনা করবেন দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও জাতীয় নেতারা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সব কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সংগঠনের সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×