দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মিন্নি গ্রেফতার

  বরগুনা ও দক্ষিণ প্রতিনিধি ১৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে মঙ্গলবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। রাত সাড়ে ৯টায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বরগুনা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যায় জড়িত থাকা প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় পুলিশ তাকে এ মামলায় গ্রেফতার করল। তাকে রিমান্ডে নেয়া হবে কি না প্রশ্নে পুলিশ সুপার বলেন, প্রয়োজন হলে নেয়া হবে।

একই সময়ে পুলিশ সুপার জেলা বিশেষ শাখা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এ মামলার ১ নম্বর সাক্ষী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং সুদীর্ঘ সময়ে পাওয়া তথ্যাদি পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে হত্যার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় তাকে রাত ৯টায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টায় মিন্নিকে পুলিশের গাড়িতে বাবার বাড়ি দক্ষিণ মাইঠা থেকে বরগুনা পুলিশ লাইনসে আনা হয়।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর এ সময় সঙ্গে ছিলেন। সূত্র জানায়, বেলা ১১টা থেকে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। পুলিশ সুপার মো. তোফায়েল আহমেদ (পদোন্নতিপ্রাপ্ত), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান, সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাজমুল আহসান এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. হুমায়ূন কবির তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এর মধ্যে নাজমুল আহসান ও হুমায়ূন কবির দুপুর ২টায় সেখান থেকে বেরিয়ে যান। বিশেষ কাজে বরিশালে যাচ্ছেন বলে তারা যুগান্তরকে জানান। রাত সাড়ে ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা ফিরে আসেননি।

দুপুর ১২টায় তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেছিলেন পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন। তখন তিনি বলেন, মিন্নি রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর সাক্ষী। তাই তাকে আসামিদের শনাক্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ লাইনসে নিয়ে আসা হয়েছে।

তাকে এখন পর্যন্ত আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। রাতে সংবাদ সম্মেলনে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, জিজ্ঞাসাবাদে কী বলেছে মিন্নি। জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তের স্বার্থে এখন এসব কথা জানানো সম্ভব না।

নাজমুল আহসান যুগান্তরকে বলেন, মামলার আসামি বা সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য কমিটি রয়েছে। পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন কমিটির প্রধান। আমি ছাড়া অন্য সদস্যরা হলেন- মো. তোফায়েল আহমেদ, মো. শাহজাহান, পুলিশ পরিদর্শক মো. আলাউদ্দিন, মো. হুমায়ূন কবির ও কোর্ট পরিদর্শক বাবুল আকতার।

জিজ্ঞাসাবাদে মিন্নি কী বলেছেন- জানতে চাইলে হুমায়ূন কবির যুগান্তরকে বলেন, তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলতে পারছি না। তবে মিন্নি আজ (মঙ্গলবার) পুলিশ হেফাজতে থাকছে। মিন্নিকে গ্রেফতারের দাবিতে শ্বশুর ও মামলার বাদী আবদুল আলীম দুলাল শরীফ শনিবার রাতে বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।

পরদিন সকালে ‘বরগুনার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে মানববন্ধনেও ছিলেন তিনি। দুলাল শরীফ দাবি করে আসছেন, ছেলে হত্যায় মিন্নি যুক্ত রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে। মঙ্গলবার মিন্নিকে গ্রেফতারের খবরে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এ হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। পরে দ্বিতীয় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হত্যায় মিন্নির সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

২৭ জুন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনের নামে এবং চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই ভোরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।

পুলিশ সুপারের বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার জানানো হয়, এ পর্যন্ত এ মামলায় এজাহারনামীয় সাতজন ও সন্দিগ্ধ সাতজনসহ ১৪ জনকে (মিন্নিসহ ১৫ জন) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১০ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, ৩ জন রিমান্ডে আছে।

ঘটনাপ্রবাহ : রিফাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত