কর্তৃপক্ষ-শ্রমিক বিরোধ

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে ধীরগতি

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ১৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে ধীরগতি
ফাইল ছবি

পণ্যবাহী গাড়ি প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এর জেরে সোমবার রাতে প্রায় তিন ঘণ্টা বন্দরের ইয়ার্ড থেকে পণ্য পরিবহনে বিরত থাকেন শ্রমিকরা।

পরে পণ্য পরিবহন শুরু হলেও বন্দরের ভেতরে-বাইরে দেখা দেয় তীব্র যানজট। মঙ্গলবার সন্ধ্যায়ও ওই জট নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

বৈরী আবহাওয়াসহ নানা কারণে কয়েকদিন ধরে এমনিতেই বন্দরের ভেতর থেকে পণ্য খালাস তুলনামূলক কম হচ্ছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন বিরোধে এর গতি আরও কমেছে।

বন্দর সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হিসেবে নিরাপত্তার স্বার্থে পণ্য ও কনটেইনার পরিবহনে নিয়োজিত গাড়ির চালক ও সহকারীর ‘পাস’ ইস্যুতে কিছু নথি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং সহকারীর এনআইডি বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ।

সোমবার বিকাল থেকে চালকের সহকারীর এনআইডি অথবা এর পরিবর্তে জন্ম নিবন্ধন সনদ চেক করে বন্দরের ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেয়া হচ্ছিল। এ সময় কিছু চালক ও হেলপার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা পণ্য পরিবহনে অনীহা দেখাতে শুরু করেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন কারণে গাড়ি চালক ও সহকারীদের ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে।

বেশ কিছুদিন আগে থেকেই এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ডাটাবেজে চালক ও হেলপারদের এনআইডি কার্ড অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হচ্ছে। এসব দেখে সোমবার গাড়ি ঢোকানো হচ্ছিল। রাতে বন্দরের গেটে নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে চালক-হেলপারদের ঝামেলা দেখা দেয়। তারা এনআইডি ছাড়াই ঢুকতে চাচ্ছিল। কিন্তু অনুমতি না পেয়ে একপর্যায়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেয়।

এ সময় গেটের ভেতরে ও বাইরে গাড়ি আটকা পড়ে। বাইরের গাড়ি ভেতরে ঢুকতে পারছিল না। আর ভেতরের পণ্য বোঝাই গাড়ি বের হতে পারছিল না। কয়েক ঘণ্টা এ অবস্থা চলার পর বিষয়টির সমাধান করা হয়। এখন পণ্য ডেলিভারি হচ্ছে। তবে গতি কিছুটা কম। তিনি জানান, নতুন কোনো নিয়ম চালু করতে গেলে কিছুটা সমস্যা হয়। এটাও সেরকম।

তবে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা জানান, হঠাৎ করে বন্দরে গাড়ি প্রবেশে যে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আগে যেখানে কাগজপত্র দেখিয়ে একটি গাড়ি দু-এক মিনিটের মধ্যে প্রবেশ করতে পারত এখন তাতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। এ কারণে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরির মতো ভারি যানবাহনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেটে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

প্রাইম মুভার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর ছিদ্দিক যুগান্তরকে বলেন, ‘বন্দর কর্তৃপক্ষ ডাটাবেজ করছে বলে আমাদের জানিয়েছে। সারা দেশে কয়েক লাখ পরিবহন শ্রমিক রয়েছে। এত লোকের ডাটাবেজ কীভাবে তৈরি করা হবে? চালকের সঙ্গে সহকারী থাকতেই হয়। তা না হলে গাড়ি কন্ট্রোল করা যায় না। কিন্তু উনারা (বন্দর কর্তৃপক্ষ) এখন সহকারীদের এনআইডি অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ চাচ্ছেন। অনেক সহকারীর হাতে এসব কাগজ নেই। চালকের হেভি গাড়ির লাইসেন্স চাওয়া হচ্ছে। অনেক চালক লার্নার লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন। তারা বন্দরে ঢুকবে কীভাবে? এসব নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়ায় সোমবার রাতে চালকরা তিন ঘণ্টা পণ্য পরিবহন করেননি। পরে কাগজপত্র চেকিং কিছুটা শিথিল করা হলে রাতেই পণ্য পরিবহন শুরু হয়। বন্দরের ভেতরে-বাইরে অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গাড়ি চলতেই পারছে না।

পণ্য আনা-নেয়ার কাজে প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দরে ৬-৭ হাজার পণ্যবাহী গাড়ি প্রবেশ করে। এর সঙ্গে একজন চালক ও একজন সহকারী হিসাব করলে প্রতিদিন ১২-১৪ হাজার পরিবহন শ্রমিক বন্দরে প্রবেশ করেন।

টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি ব্যাহত হয়েছে। বন্দরে কনটেইনারের চাপ দিন দিন বাড়ছে। মঙ্গলবারও বন্দরে ৪৯ হাজার ধারণক্ষমতার বিপরীতে কনটেইনার ছিল প্রায় ৪৪ হাজার।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×