গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হচ্ছে না: উচ্চশিক্ষায় ভর্তিতে ভোগান্তি থাকছে এবারও

আশা করছি, আগামী বছর থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হবে -শিক্ষামন্ত্রী * এবারই ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে -অতিরিক্ত সচিব * ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা এবার নতুন পদ্ধতিতে

  মাহমুদুল হাসান নয়ন ১৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা। ফাইল ছবি

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের এবারও মুক্তি মিলছে না ভোগান্তি থেকে। মেডিকেল কলেজের আদলে প্রায় এক দশক ধরে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার জন্য সরকার তাগিদ দিলেও তাতে কাজ হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতিও ভাইস চ্যান্সেলরদের (ভিসি) ডেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। এরপরও অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ‘একলা চলো নীতি’তে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের পরীক্ষার সূচিও চূড়ান্ত করে ফেলেছে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিও এ বিষয়ে সোচ্চার। তিনি বুধবারও বলেছেন, এবার অল্প পরিসরে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেবে। আগামী বছর সব বিশ্ববিদ্যালয় এ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেবে বলে আশা করছি।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গবেষণায় দেখা গেছে, ভর্তি পরীক্ষার পেছনে একজন শিক্ষার্থীকে এক মৌসুমেই অন্তত ৯৩ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ইউনিটে পরীক্ষায় অংশ নিতে একজন শিক্ষার্থীকে ৪-৮ বার যেতে হয়। এতে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের অভিভাবকদেরও। বেশি সমস্যায় পড়েন নারী শিক্ষার্থীরা।

বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক সময় ছেলেদের মসজিদে রাত যাপনের কথা শুনেছি। মেয়েদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা আরও বেশি। গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবে।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমি জানি কিছু বড় বিশ্ববিদ্যালয় নানা কারণে গুচ্ছ পদ্ধতির বিরোধিতা করছে। এটি শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের জন্য খুবই জরুরি। এতে হয়রানি এবং অর্থ অপচয় অনেক কমে যাবে।’

দেশে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪৯টি। এর মধ্যে চালু থাকা ৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করে থাকে। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আবার বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় বিভাগের জন্য একটি করে পরীক্ষা নিয়ে থাকে। সেখান থেকে মেধাক্রমে তাদের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি করে। যারা বিভাগ পরিবর্তনে আগ্রহী তাদের জন্য সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার নিয়মও চালু রয়েছে কয়েকটিতে।

এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভোগান্তি তুলনামূলক কম। অন্যদিকে এমন কিছু বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যারা অনুষদভিত্তিক এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিভাগভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে থাকে। যার ফলে একজন শিক্ষার্থীকে অসংখ্য অনুষদ ও বিভাগের ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে হয়।

এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হন। ভর্তি পরীক্ষা দিতে শিক্ষার্থীদের দেশের নানাপ্রান্তে দৌড়াতে হয়, সঙ্গে অভিভাবকদেরও।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অসহযোগিতায় অভিন্ন প্রশ্নে ভর্তি পরীক্ষার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলে অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এতে তাদের স্বায়ত্তশাসন খর্ব হওয়ার অজুহাত তুলে থাকে। তবে আর্থিক লাভালাভের বিষয়টি সামনে রেখেই এর বিরোধিতা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।

বুধবার এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এখানে ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থই বড় করে দেখা প্রয়োজন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী বুধবার যুগান্তরকে বলেছেন, তবে এবার গুচ্ছ ভর্তিতে অগ্রগতি আছে। প্রথমবারের মতো ৮টি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছবদ্ধ হয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই ঘোষণা আসবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাবিতে নতুন পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দীর্ঘদিনের এমসিকিউ ভর্তি পদ্ধতির রীতি থেকে এবার বেরিয়ে আংশিকভাবে লিখিত পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এবার ২০০ নম্বরের মূল্যায়ন পরীক্ষার মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের ওপর ১০০ নম্বর এবং লিখিত ও এমসিকিউ পরীক্ষায় বাকি ১০০ নম্বর। এসএসসির নম্বর থেকে ৪০ এবং এইচএসসির নম্বর থেকে ৬০ ভাগ নম্বর নেয়া হবে।

আর এমসিকিউতে ৬০ নম্বরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত ফলাফল। এর আগে এসএসসি ও এইচএসসিতে ৮০ নম্বর এবং এসসিকিউতে ১২০ নম্বরসহ মোট ২০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হতো।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েসেন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল যুগান্তরকে বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মূল্যায়ন চাই। সেজন্যই লিখিত পরীক্ষার সিদ্ধান্ত। যারা প্রকৃত মেধাবী তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে। জিপিএতে নম্বর বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী একাডেমিক অর্জনের মূল্যায়নের জন্যই এমন সিদ্ধান্ত।

মফস্বলের শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের শঙ্কার কিছু নেই। বরং আমরা বিশ্বাস করি পূর্বের তুলনায় এ পরীক্ষা পদ্ধতিতে তারা আরও ভালো করবে।

অন্য জটিলতা : এদিকে দেশের প্রধান তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নে এমন কিছু বিষয় আনা হয়, যার সঙ্গে এইচএসসির সিলেবাসের ন্যূনতম সম্পর্ক নেই।

বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ জ্ঞান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন প্রণয়নে শিক্ষার্থীদের ওই সব বিষয়ে আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্যও গণিতবিষয়ক প্রশ্ন থাকে।

যেহেতু উচ্চ মাধ্যমিকে মানবিক শিক্ষার্থীরা গণিত পড়ে না, তাই বেশিরভাগই ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে পারে না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনুযায়ী একই ইউনিটে বিভিন্ন শিফটে পরীক্ষা হয়।

প্রতিটি শিফটের জন্য আলাদা প্রশ্ন প্রণয়ন করা হয়। কোনো শিফটে প্রশ্ন সহজ হয়, কোনোটায় কঠিন। ফলে যে শিফটে প্রশ্ন সহজ হয়, সেই শিফট থেকে বেশি সংখ্যায় চান্স পাওয়ার নজির রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×