ডিসি সম্মেলন

বিশেষ ফোর্স গঠনের প্রস্তাব নাকচ

‘সরল বিশ্বাসের ভুল অপরাধ নয়, মাঠপর্যায়ে দুদকের কাজ দেখবেন ডিসিরা’ * মাঠপ্রশাসন দুর্নীতি ভোগান্তিমুক্ত করার নির্দেশ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিসি সম্মেলন

ডিসিদের বিশেষ পুলিশ ফোর্স গঠনের প্রস্তাব নাকচ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিশেষ পুলিশ ফোর্সের কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় ডিসিদের সঙ্গে পরামর্শ করে একযোগে কাজ করে থাকে।

বৃহস্পতিবার ডিসি সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত অধিবেশনে আসাদুজ্জামান খান কামাল এসব কথা বলেন। এছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত অধিবেশনে মাঠপ্রশাসনকে দুর্নীতি-ভোগান্তিমুক্ত করতে ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। আর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সম্পর্কিত কর্ম-অধিবেশনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, সরকারি কর্মচারীদের সরল বিশ্বাসে বড় ভুলও অপরাধ নয়। আর এখন থেকে মাঠপর্যায়ের দুদক কার্যক্রম জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) মনিটর করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে সকাল পৌনে ৯টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর একটা পর্যন্ত চলে ডিসি সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশন। এতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা। এরই মধ্য দিয়ে শেষ হয় পাঁচ দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা।

ডিসিদের প্রস্তাবিত সার্বক্ষণিক বিশেষায়িত একটি পুলিশ ফোর্সের বিষয়টি নাকচ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘মোবাইল কোর্টের পরিধি যেটা প্রয়োজন, তা অলরেডি হয়ে গেছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন বলবৎ হয়েছে। সেজন্য মোবাইল কোর্টের আওতায় যতটুকু আনা হয়েছে, সেটা নিয়েও কাজ হচ্ছে। বিশেষ পুলিশ তো প্রয়োজন নেই। কারণ পুলিশ সবসময় জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা করে। ডিসিদের নির্দেশনায় পুলিশ সব জায়গায় কাজ করছে। বিজিবি, আনসারসহ আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী সবসময় একসঙ্গে বসে কাজ করে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত অধিবেবেশন শেষে আসাদুজ্জামান খান কামাল আরও বলেন, ডিসিরা প্রতিবছরই প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা নেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে তারা কী ধরনের অসুবিধা ভোগ করছেন এবং কী ধরনের পদক্ষেপ নিলে আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন, আজ সে বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ওয়াদা ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ এবং অন্যান্য কার্যক্রম ডিসিরা করছেন, সেগুলো যেন অব্যাহত রাখেন, সে বিষয়ে বলা হয়েছে। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী যে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন, সেই জায়গায় তারা কাজ করবেন। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ যেভাবে দমন করে চলেছি, সে বিষয়ে তারা খেয়াল রাখবেন। আবার যাতে কোনো সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, চরমপন্থী- এদের আবির্ভাব না ঘটে। মাদক বিষয়ে ডিসিদের জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে। এজন্য তারা স্কুল, ছাত্র-শিক্ষক, জনতা- সব পেশাজীবীকে এ সংগ্রামে সম্পৃক্ত করবেন, সে আহ্বান রেখেছি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় : মাঠপ্রশাসন দুর্নীতিমুক্ত করতে ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। একই সঙ্গে তিনি কোনো ভোগান্তি ছাড়া জনগণ যাতে সেবা পান, তা নিশ্চিত করারও নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, গণশুনানি আরও চমৎকারভাবে করার জন্য বলা হয়েছে। অফিসগুলোকে পুরোদমে ডিজিটালাইজড করতে পারি, সেই বিষয়ে বলেছি। জেলা হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দালাল ও জনহয়রানিমুক্ত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জেলা-উপজেলার সরকারি অফিসে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনও মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, সেক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চেয়েছেন কি না- জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘অবশ্যই অগ্রগতি দেখতে চেয়েছি।

এসি ল্যান্ডের অফিস সম্পর্কে আমি বলেছি, মিউটেশন বা নাম খারিজ করার জন্য বিষয়গুলো আরও দ্রুততার সঙ্গে কীভাবে করতে পারি, সেটা ডিজিটালাইজেশনের ব্যবস্থা দ্রুত কীভাবে করা যায়, সেটা তারা নজর দেবেন এবং বলবেন। কোনো কর্মকর্তা দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকলে, তাদের তলব করবেন, বলবেন। প্রথমে সংশোধন করার চেষ্টা করবেন। আর যদি না হয় অবশ্যই আমাদের যে বিভাগীয় ব্যবস্থা, আইনগত ব্যবস্থা, তা তারা গ্রহণ করবেন।’

প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের আলাদা ব্যাংক প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা একটি ব্যাংক করতে পারি কি না, তা তারা (ডিসি) প্রস্তাব দিয়েছেন। সেটা আমরা বিবেচনা করব বলেছি।’ ব্যাংকের বিষয়টি যৌক্তিক কি না জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যে কোনো সংস্থা চাইতেই পারে। চাওয়ার অধিকার আছে। জনপ্রশাসনের ৫ হাজার কর্মকর্তা কাজ করছেন। এছাড়া যারা সাবেক আছেন, তারাও সম্পৃক্ত হতে পারেন। যদি দেশের জন্য কল্যাণকর হয়, সেটা অবশ্যই করা যাবে। আর যদি কল্যাণকর না হয়, সেটা বিবেচনার দায়-দায়িত্ব সরকারের।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ : সরকারি কর্মচারীদের সরল বিশ্বাসে বড় ভুলও অপরাধ নয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। অধিবেশন শেষে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইট ইজ ভেরি ক্লিয়ার টু অ্যাভরিবডি (সবার কাছে খুবই স্পষ্ট)। এটা কোনো অপরাধ নয়, সরল বিশ্বাসে আপনি যদি কোনো কাজ করেন; ‘ইভেন ইট ইজ সামথিং বিগ (এমনকি এটি বড় কিছুও হয়), তা-ও সেটা অপরাধ হবে না।’ বিষয়টি আরও পরিষ্কার করতে বলা হলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘পেনাল কোডেই বলা আছে, সরল বিশ্বাসে কৃতকর্ম অপরাধ নয়। কিন্তু এখানে শর্ত আছে, তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে কাজটা সরল বিশ্বাসেই করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ডিসিরা জানতে চেয়েছে দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য কী করণীয়? আপনারা জানেন, দুদকের সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ। দমনটা অনেক পরে আসে। আমাদের কাজ মামলা করা না। মূল কাজটা হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। দুর্নীতি যদি হয়েই যায়, তাহলে কমিশন থেকেই লাভ কী আর আমাদের থেকেই লাভ কী? এজন্যই আমরা ডিসিদের বলেছি, দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য আমাদের যেসব প্রোগ্রাম রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করবেন। ওনারাও বলেছেন টেকসই উন্নয়নের জন্য দুর্নীতিমুক্ত সমাজ দরকার। এজন্য প্রাইমারি ও হাইস্কুলে মানসম্মত শিক্ষা, মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা যাতে হয়, সে ব্যাপারে নজর রাখতে বলা হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘ডিসিরা জেলার সার্বিক তত্ত্বাবধান করে থাকেন।

মাঠপর্যায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রমও তাদের দেখভাল করার জন্য বলেছি। কমিশনের কাজেও গাফিলতি বা দুর্নীতি দেখলে সেটা আমাদের বলতে বলেছি। সেটা আপনাদের জানানো দায়িত্ব। ব্যক্তি না প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশের সমস্যা হচ্ছে- ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। আমরা সেই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×