দুদক চেয়ারম্যানের ‘সরল বিশ্বাস’ কী পরিষ্কার নয়: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান সরল বিশ্বাস বলতে কী বুঝিয়েছেন, তা পরিষ্কার নয়। বিষয়টি পরিষ্কার হতে হবে। তিনি বলেন, সরকার যে কোনো দুর্নীতিকে দুর্নীতি হিসেবেই দেখবে। রাজধানীর ধানমণ্ডিতে শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দুদক চেয়ারম্যান, তিনি কি বলেছেন, আমার ঠিক জানা নেই। তবে আমি দুর্নীতিকে দুর্নীতি হিসেবেই দেখতে চাই। করাপশন ইজ করাপশন। আপনি করাপশন করবেন, অনিয়ম করবেন, এটাকে করাপশন হিসেবে দেখতে হবে। করাপশনের দ্বিতীয় কোনো ব্যাখ্যা নেই। দুর্নীতি দুর্নীতিই।

সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, এখন সরল বিশ্বাস বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন- সেই বিষয়টি তার কাছে আমার জানতে হবে। দুর্নীতি দুর্নীতিই, কারও কম দুর্নীতি, কারও বেশি।

দুর্নীতি এখন সারা দুনিয়ায় হচ্ছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, কোথাও বেশি, কোথাও কম। কোথাও দুর্নীতিটাকে বেশি করে দেখানো হয়। এখানে পলিটিক্যালি মোটিভেটেড বিষয় আছে যে, আমি কাউকে পছন্দ করি না, তাই তাকে ঢালাওভাবে করাপ্ট বলে সাব্যস্ত করছি। এটা দেশে দেশে আছে, এটা ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্সের একটি ধারা।

এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে আমরা স্টেপ নিতে শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী এয়ারপোর্টে বলে গেছেন, পানিসম্পদ, নৌপরিবহন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রীসহ যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের নিয়ে টিম করতে হবে, সরকারিভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পরবর্তী জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংসদে জাতীয় পার্টির অনেক আসন আছে। এরশাদের অবর্তমানে তাদের দলীয় রাজনীতি কেমন হবে, সেটা দলটির অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তিনি বলেন, রাজনীতিতে তারাই টিকে থাকবে, যারা সময়োপযোগী ও যুগোপযোগী রাজনীতি করবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকার বিরোধী হিসেবে কাজ করা দলীয় নেতারা কী ধরনের শাস্তি পেতে পারেন- এ প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হচ্ছে। এরপর তাদের জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিএনপির সাংগঠনিক কাজে সরকারি বাধার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কাদের বলেন, বিএনপিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় কোথাও বাধা দেয়া হচ্ছে না। বিএনপির কোনো সভায় পুলিশ বাধা দেয়নি। সবখানে তারা সভার অনুমতি পেয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ বিএনপির কল্পিত।

সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধে আওয়ামী লীগ সচেতনতামূলক কোনো কার্যক্রম হাতে নেবে কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের গত ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়েছে। এখানে প্রত্যেকেই খোলামেলাভাবে আলোচনা করেছেন। সত্যকে চাপা দেয়া যায় না, যা সত্য তা আমরা আলোচনা করেছি। প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।