প্রিয়া সাহার ব্যাখ্যা না শুনে মামলা নয়

- ওবায়দুল কাদের

  যুগান্তর রিপোর্ট ২২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রিয়া সাহার ব্যাখ্যা না শুনে তার বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি কোনো মামলা বা ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের যে অভিযোগ করেছেন, সে বিষয়ে তার কাছে শুনতে হবে। তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। এর আগে তার বিরুদ্ধে মামলায় না যেতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের সময়বদ্ধ পরিকল্পনার ব্র্যান্ডিংবিষয়ক সেমিনার শেষে লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রিয়া সাহা ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ’ করেছেন মন্তব্য করে শনিবার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কিন্তু রোববার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশের বাইরে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে এ ধরনের বক্তব্য কেন দিয়েছেন, সেটা তিনি দেশে ফিরে এলে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকা উচিত।’ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের লিডার, গত রাতে আমাকে মেসেজ পাঠিয়েছেন, সেটা হচ্ছে- “এখানে তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রিয়া সাহা যা বলেছেন, ‘শি শুড মেইক এ পাবলিক স্টেটমেন্ট।’ তিনি আসলে কি বলেছেন, কি বলতে চেয়েছেন তার একটি পাবলিক স্টেটমেন্ট করা উচিত, তারও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকা উচিত। তার আগে কোনো প্রকার মামলা বা আইনি প্রক্রিয়া শুরু না করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।”

সরকারপ্রধানের এ নির্দেশনার কথা জানানোর আগেই রোববার সকালে ঢাকার হাকিম আদালতে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দুটি মামলার আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জেলার আদালতেও অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে সরকারের অনুমতি ছাড়া রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করা যায় না স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এসব মামলা গ্রহণ করা হবে না। অভিযোগের বিষয়ে প্রিয়া সাহার বক্তব্য জানার আগে তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে না। এ বিষয়ে কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে মানা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর আজ একটা মামলা করার কথা ছিল। তাকে আমি জানিয়েছি এ ধরনের মামলার প্রসিডিং শুরু না করতে এবং আইনমন্ত্রীর সঙ্গেও এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। এছাড়া প্রিয়া সাহার ব্যক্তিগত বাড়িঘর, সম্পদ, সেখানে যাতে প্রটেকটিভ মেজার থাকে, যথার্থ নিরাপত্তা থাকে সে স্টেপ নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর মেসেজ জানিয়ে দিয়েছি।’

রোববার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমার বক্তব্য শুনেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আমি তাকে বলেছি- হি ইজ ভেরি হ্যাপি আমার মনে হয়, হি ইজ ভেরি স্যাটিসফায়েড। আমাদের ভাবনার সঙ্গে পজিটিভলি রেসপন্স করেছেন দেখেছি।’ এখানে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রানা দাসগুপ্তের সঙ্গে কথা হয়েছে। এই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত কমেন্ট, এর সঙ্গে পরিষদের কোনো সম্পর্ক নেই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রিয়া সাহার দেশে ফেরার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সে তার দেশে আসবে না কেন। দেশে আসার অধিকার তার আছে, দেশে আসার পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছি না বা কোনো লিগ্যাল প্রসিডিউরও শুরু করছি না।’ দেশে আনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয় তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশে আসতে পারেন, সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া বা বাধা দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।’

ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগ করার পেছনে কোনো মদদ আছে কিনা জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, উসকানিমূলক এবং অসত্য, কাল্পনিক বক্তব্য। তিনি কেন দিলেন, আমরা তার কাছে জানতে চাইব। তিনি দেশে ফিরে আসুক তখন চাইব, উদ্দেশ্য কি, মোটিভটা কি। তার কাছ থেকে আমাদের পাবলিক স্টেটমেন্টটা জানা উচিত, সেটা (পাবলিক স্টেটমেন্ট) আসার পরই কোনো স্টেপ নেয়ার বিষয়ে ভাবা যাবে।’ এর পেছনে কারা রয়েছে এ বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্য আছে কিনা জানতে চাইলে কাদের বলেন, এ মুহূর্তে আমরা এখনও সবকিছু পরিষ্কার নয়।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা ১৭ জুলাই হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন। তার নিজের বাড়িঘরও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তার ওই বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় দেশের বিভিন্ন মহলে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর উদ্যোগে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতায় অগ্রগতি’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে ওয়াশিংটনে যান তিনি।

বাস্তবায়নাধীন মেট্রোরেল প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের প্রকল্প। মেট্রোরেল দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছুটা দুর্ভোগ হবে। এই সাময়িক দুর্ভোগ মেনে নেয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ করছি। মেট্রোরেল একটি নয়, মোট ছয়টি। এক থেকে ৬টি মেট্রোরেল ঢাকায় হবে। প্রথমেই আমরা ৬ নম্বর রুটের কাজ শুরু করেছি। এরপরই ১ ও ৫ নম্বর রুটের কাজ শুরু করব। এই রুটে পাতালরেলও থাকবে। মেট্রোরেল ১ রুটে ১৬ কিলোমিটার ও মেট্রোরেল লাইন-৫-এ ১৩ কিলোমিটার পাতালরেল নির্মিত হবে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে মেট্রোরেল-৬ উদ্বোধন করা হবে। বাকি রুটগুলো ২০৩০ সালের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×