বান্দরবান সাতক্ষীরায় দুই আ’লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

  যুগান্তর ডেস্ক ২৩ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গুলি করে হত্যা
গুলি করে হত্যা। প্রতীকী ছবি

বান্দরবান ও সাতক্ষীরায় সোমবার সন্ত্রাসীদের গুলিতে দুই আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হয়েছেন। বান্দরবানে নিহত ব্যক্তির নাম মংমং থোয়াই মারমা (৫০)। তিনি তারাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

সাতক্ষীরায় নিহত ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম (৫০)। তিনি সদর উপজেলার কদমতলায় আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

বান্দরবান : রোয়াংছড়ি উপজেলা থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে বান্দরবান জেলা সদরে যাওয়ার পথে রোয়াংছড়ি-বান্দরবান সড়কের শামুকছড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীরা মংমং থোয়াই মারমাকে লক্ষ করে পর পর ৫ রাউন্ড গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। স্থানীয়রা লাশ উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে ছুটে যান। আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রোয়াংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে রোয়াংছড়ি বাজারের প্রস্তুতি সভা হয়। সভা শেষে মংমং থোয়াই মারমা মোটরসাইকেল নিয়ে ফিরছিলেন।

পথে সন্ত্রাসীরা তাকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে। পাহাড়ে আধিপাত্য বজায় রাখতে জনসংহতি সমিতির অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে একের পর এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা করছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মংমং থোয়াই মারমাকে হত্যার ঘটনায় বোয়ংছড়িতে আজ অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

সাতক্ষীরা : সদর উপজেলার আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান জানান, নজরুল ইসলাম নিজ বাড়ি কুচপুকুর থেকে মোটরসাইকেলে কদমতলা বাজারে যাচ্ছিলেন। বাজার-সওদা নিয়ে ফেরার পথে একটি ইটভাটার পাশ থেকে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ করে দুই রাউন্ড গুলি করে।

গুলিবিদ্ধ হয়ে নজরুল মোটরসাইকেল চালিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হাজামপাড়া এলাকায় গিয়ে তিনি পড়ে যান। বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, এর আগে কয়েকবার হামলার শিকার হন নজরুল ইসলাম।

জীবনের নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরা শহরে বসবাস করেন। সম্প্রতি তিনি বাড়িতে থাকা শুরু করেন। সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. ইলতুৎমিশ জানান, লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম। তারা অবিলম্বে ঘাতকদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, নজরুল ইসলাম পরিবারের ওপর ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১১ বার সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। হামলায় ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর তার আপন ভাই আওয়ামী লীগ কর্মী সিরাজুল ইসলাম নিহত হন।

২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল সিরাজুল ইসলামের ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল কবির সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। সর্বশেষ নজরুল ইসলাম নিহত হলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×