মিন্নির বাবা-মাকে গ্রেফতার চান দুলাল শরীফ

মামলা পিবিআইতে না নেয়ার দাবি * কারাগারে রাতে ভালো ঘুম হয় না মিন্নির : জেল সুপার

  বরগুনা ও দক্ষিণ প্রতিনিধি ২৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা রাখছেন রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ
সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা রাখছেন রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ। ছবি: সংগৃহীত

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর ও মা জিনাত জাহান মনিকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন হত্যার শিকার রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ।

শুক্রবার দুপুরে বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

এ সময় রিফাত হত্যা মামলা পিবিআইতে (পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন) না নেয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন দুলাল শরীফের বড় ভাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ শরীফ ও আবদুস সালাম শরীফ।

এর আগে সকাল ১০টায় বরগুনার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দুই চিকিৎসক মো. হাবিবুর রহমান ও উম্মে সোলায়মান তাহিরা বরগুনা কারাগারে যান। জেল সুপার মো. আনোয়ার হোসেন তখন সেখানে ছিলেন।

জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, চিকিৎসকরা ২৮ হাজতিকে চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে মিন্নিও ছিলেন।

মিন্নি চিকিৎসককে কী বলেছেন? জেলসুপার বলেন, আমি তো দেখি মিন্নি সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। মিন্নি চিকিৎসক মো. হাবিবুর রহমানকে বলেছেন, রাতে তার ভালো ঘুম হয় না। এটা হতেই পারে। মিন্নি জেলখানায় নতুন। ঘুম একটু কম হতেই পারে। এছাড়া মিন্নির কোনো সমস্যা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে দুলাল শরীফ বলেন, আমার ছেলে শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফকে ২৬ জুন প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাকে হত্যার মাস্টারমাইন্ড মিন্নিকে পুলিশ প্রমাণসাপেক্ষে গ্রেফতার করেছে। সে অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। তার বাবা বরগুনা শহরের কুখ্যাত সুদখোর মোজাম্মেল হোসেন কিশোর নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির বিয়ের বিষয়টি গোপন করে বিয়ে বলবৎ থাকা অবস্থায় তার মেয়েকে আমার ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেয়। বিয়ের পরেও মিন্নি নয়ন বন্ডের বাসায় যাওয়া-আসা করত- যা নয়নের মা সাহিদা বেগম গণমাধ্যমকে একাধিকবার বলেছেন।

কিশোরকে ভণ্ড আখ্যা দিয়ে দুলাল শরীফ বলেন, সে (কিশোর) যদি মেয়ের বিয়ের কথা গোপন না করে তার মেয়েকে আমার ছেলের সঙ্গে বিয়ে না দিত তাহলে আমার ছেলের এমন করুণ মৃত্যু হতো না। আমার ধারণা ও বিশ্বাস, আমার ছেলে হত্যায় মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর ও মা জিনাত জাহান মনিও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। সুষ্ঠু তদন্ত হলেই তা বেরিয়ে আসবে। পুলিশের কাছে আমি তাদের গ্রেফতারের জোর দাবি জানাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপিসহ পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আকুল আকুতি তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। যাতে আর কোনো বাবা-মা মিন্নির মতো সন্তান জম্ম না দেয়।

এক প্রশ্নের উত্তরে দুলাল শরীফ বলেন, পুলিশের তদন্তে আমার শতভাগ আস্থা রয়েছে। পিবিআইর মামলা তদন্তের দরকার নেই। তিনি বলেন, সন্তান খুন হয়েছে আমার, মামলা কোথায়, কে বা কারা তদন্ত করবে সেটা দেখার দায়িত্ব কিশোরের নয়।

দুলাল শরীফ বলেন, মিন্নি ও তার পরিবার প্রতারক। মিন্নিকে বাঁচানোর জন্য তারা মামলাটি পিবিআইতে নেয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ূন কবির আামাকে বলেছেন অল্প সময়ের মধ্যে এজাহারভুক্ত বাকি ৪ আসামিকে গ্রেফতার করতে পারবেন।

দুলাল শরীফ যুগান্তরকে বলেন, একটা যুবতী মেয়ে একসঙ্গে ৩-৪ দিন নয়ন বন্ডের বাসায় থেকেছে। তার মা-বাবা নিশ্চয়ই জানতেন। কিন্তু তাকে নিয়ন্ত্রণ করেননি। তিনি বলেন, মিন্নি নষ্ট হওয়ার পেছনে দায়ী মিন্নির বাবা-মা। আর ওই মিন্নির জন্য অকালে দুটি ছেলে (রিফাত ও নয়ন) চলে গেল। আরও ২০টি ছেলে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হয়েছে। মিন্নির বাবা-মা মিন্নিকে নিয়ন্ত্রণ করলে এমন পরিণতি কারও হতো না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মোজাম্মেল হোসেন কিশোর শুক্রবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, দুলাল শরীফ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলেছেন। তার বক্তব্য ঠিক নয়। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তিনি তাদের গ্রেফতার করতে বলুন।

কিশোর বলেন, ‘আপনারা তো দেখতে পাচ্ছেন। আমার অসহায় মেয়েটিকে পুলিশ শুধু শুধু গ্রেফতার করল। আপনারাই বলেন, এ পুলিশের ওপর কেমন করে আস্থা রাখি। পিবিআই তদন্ত করলে সঠিক তদন্ত হবে।’

পিবিআইও তো পুলিশ। তারা করলেই সঠিক তদন্ত হবে- এটি কী কারণে মনে করছেন? উত্তরে কিছু বলেননি তিনি।

জানতে চাইলে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন শুক্রবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, বাদী (দুলাল শরীফ) সংবাদ সম্মেলনে কী বলেছেন, তা আমি জানি না। আমাদের তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। তদন্তে যদি তারা (মিন্নির বাবা-মা) দোষী হিসেবে চিহ্নিত হন তবে তাদেরও ছাড় দেয়া হবে না।

বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে ২৬ জুন সকালে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকালে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে মামলা করেন। এ পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়।

ঘটনাপ্রবাহ : রিফাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×