হোয়াইটওয়াশই হল বাংলাদেশ

  স্পোর্টস ডেস্ক ০১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শ্রীলংকার বিপক্ষে মোহাম্মদ মিঠুনের মতো এভাবেই একের পর এক আউট হন টাইগার ব্যাটসম্যানরা।
শ্রীলংকার বিপক্ষে মোহাম্মদ মিঠুনের মতো এভাবেই একের পর এক আউট হন টাইগার ব্যাটসম্যানরা। ছবি-সংগৃহীত

সিরিজের ফয়সালা হয়ে গিয়েছিল প্রথম দুই ম্যাচেই। শেষ ম্যাচটা ছিল বাংলাদেশের জন্য হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোর লড়াই। সেই লড়াইয়েও যারপরনাই ব্যর্থ তামিম ইকবালের বাংলাদেশ।

১২২ রানের আরেকটি বড় হারে তিন বিভাগেই বিবর্ণ বাংলাদেশ শেষতক হোয়াইটওয়াশই হল। এ নিয়ে টানা পাঁচটি ওডিআইতে হারল বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের পর যা সবচেয়ে বাজে ফলাফল। সেবার টানা ১২ ওডিআইতে হেরেছিল বাংলাদেশ।

তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতেও বোলিং, ব্যাটিং ও ফিল্ডিংয়ে ব্যর্থতার জাল ছিঁড়ে বের হতে পারল না তামিম ইকবালের দল। বুধবার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে কুশাল মেন্ডিস (৫৪) ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের (৮৭) ফিফটিতে আট উইকেটে ২৯৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে স্বাগতিক শ্রীলংকা।

শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশের বোলিংটা হয়েছে যাচ্ছেতাই। ৬০ বলেই শ্রীলংকা তুলেছে ১০৬ রান। শফিউল ইসলাম ও সৌম্য সরকার তিনটি করে উইকেট পেলেও দু’জনই ওভারপ্রতি ছয়ের বেশি রান দিয়েছেন।

১০ ওভারে ৩৪ রানে এক উইকেট নেয়া তাইজুল ইসলামই যা একটু চাপে রাখেন লংকানদের। মোস্তাফিজুর রহমানের চোটে একাদশে ফেরা রুবেল হোসেন নয় ওভারে দেন ৫৫ রান। শফিউল ১০ ওভারে গুনেছেন ৬৮ রান। খণ্ডকালীন পেসার সৌম্য নয় ওভারে দেন ৫৬ রান। তিন উইকেটের দুটিই তিনি নিয়েছেন শেষ ওভারে।

২৯৫ তাড়া করতে নামা বাংলাদেশ ৩৬ ওভারে ১৭২ রানে বুকড। সৌম্য সরকারের ৬৯ ছাড়া বলার মতো রান আর কারও নেই। ম্যাচ ও সিরিজসেরা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস এবং কুশাল মেন্ডিসের ব্যাটিং দেখেও শিখতে পারেননি বাংলাদেশের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যান।

ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবাল আউট হন দুই রানে। তিন ম্যাচে তার রান ২১ (০, ১৯ ও ২)। ৮৬ বলে সৌম্যর ৬৯ ইনিংস সর্বোচ্চ রান। দুই অঙ্কের রান করেছেন আর মাত্র তিনজন। ওপেনার এনামুল হক বিজয় ১৪, মুশফিকুর রহিম ১০ এবং ইনিংসের লেজে তাইজুল ইসলাম ২৮ বলে অপরাজিত ৩৯।

শ্রীলংকার বোলারদের মধ্যে দাসুন শানাকা তিনটি এবং কাসুন রাজিথা ও লাহিরু কুমারা দুটি করে উইকেট নেন। কুলাসেকারাকে এই জয় উৎসর্গ করেছে শ্রীলংকা।

অথচ বাংলাদেশের শুরুটা ছিল যথেষ্ট আশাজাগানিয়া। পঞ্চম ওভারে আভিশকা ফার্নান্দোকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলে ১৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন শফিউল। সেই ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে কুশাল পেরেরার সঙ্গে ৮৩ রানের জুটি গড়ে শ্রীলংকাকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে।

২১তম ওভারে করুনারত্নেকে ৪৬ রানে থামিয়ে সেই জুটি ভাঙেন তাইজুল। পরের ওভারেই পেরেরাকে (৪২) ফিরিয়ে দেন রুবেল। ৯৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু চাপটা পরে ধরে রাখা যায়নি।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১০১ রান যোগ করে উল্টো বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেন কুশাল মেন্ডিস ও ম্যাথিউস। ৫৮ বলে ৫৪ রান করে মেন্ডিসের বিদায়ের পর দাসুন শানাকাকে নিয়ে মাত্র ২৭ বলে ৫২ রানের টর্নেডো জুটি গড়েন ম্যাথিউস। শফিউলের বলে ফেরার আগে শানাকা করেন ১৪ বলে ৩০ রান।

৯০ বলে ৮৭ রান করে শেষ ওভারে ফেরেন ম্যাথিউস। বাংলাদেশের ফিল্ডাররা ক্যাচ মিসের মহড়া না দিলে আরও আগেই ফিরতে হতো ম্যাথিউসকে। মুশফিকুর রহিম ও সাব্বির রহমান দু’বার তার ক্যাচ ফেলেছেন। সদ্যপ্রয়াত বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক শামীম কবিরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নেমেছিলেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। (স্কোর কার্ড খেলার পাতায়)

ঘটনাপ্রবাহ : বাংলাদেশ-শ্রীলংকা সিরিজ কলম্বো-২০১৯

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×