একদিনে ১৮৭০ রোগী ভর্তি: সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে

অতিরিক্ত আইজিপির স্ত্রীসহ ৬ জনের মৃত্যু * চার দিনে ভর্তি ৬৯৬৭ জন

  রাশেদ রাব্বি ০৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৮৭০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এ সংখ্যা বেশি। চলতি মৌসুমে সারা দেশে এটি সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী ভর্তির ঘটনা। এর মধ্যে রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনে এক হাজার ৫০ জন এবং ঢাকাসহ ৬৪ জেলায় ৮১৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
ছবি: যুগান্তর

ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৮৭০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এ সংখ্যা বেশি। চলতি মৌসুমে সারা দেশে এটি সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী ভর্তির ঘটনা। এর মধ্যে রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনে এক হাজার ৫০ জন এবং ঢাকাসহ ৬৪ জেলায় ৮১৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এর আগে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ভর্তি রোগী ছিল ১ আগস্ট এক হাজার ৭১২ জন। ২ ও ৩ আগস্ট হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমলেও রোববার আবার বেড়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের স্ত্রীসহ ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৬৪৯ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে রাজধানীতে ৯৬৯ জন এবং বাকি জেলাগুলোতে ৬৮০ জন ভর্তি ছিলেন। পুরো জুলাইয়ে সারা দেশে ১৫ হাজার ৬৫০ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। অথচ আগস্টের প্রথম চার দিনে হাসপাতালে ছয় হাজার ৯৬৭ জন ভর্তি হয়েছেন।

এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ২৪ হাজার ৮০৪ জন। ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। তবে বেসরকারি সূত্র ও বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে অর্ধশতাধিক রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে এখনও সাত হাজার ৩৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী রয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানীর ৩৭টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চার হাজার ৯৬৯ জন রয়েছেন। রাজধানীর বাইরে ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় এসব জেলার হাসপাতালগুলোতে ২১৬ জন ভর্তি হয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫৯ জন, খুলনা বিভাগে ১২৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ৮৩ জন, বরিশাল বিভাগে ৭৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭০ জন, রংপুর বিভাগে ৫৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ৩১ জন নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন।

মুগদা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভগের অধ্যাপক ডা. একেএম শামছুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে ঢাকার বাইরে থেকে ডেঙ্গু রিপোর্ট বেশি আসছে। এতে সহজে অনুমান করা যায়, রাজধানীর বাইরে সংক্রমণ বেশি হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, আক্রান্তের হার ঢাকার চেয়ে ঢাকার বাইরে বেশি। কারণ জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে আশার কথা- মানুষের মধ্যে সচেতনতার হার বেড়েছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের অনেকেই ডেঙ্গুর বাহক এডিস প্রতিরোধে মাঠে নেমেছেন। থেমে থেমে বৃষ্টি না হলে ঈদের আগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

অতিরিক্ত আইজিপির স্ত্রীসহ ছয়জনের মৃত্যু : পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) শাহাবুদ্দিন কোরেশীর স্ত্রী সৈয়দা আক্তার (৫৪) ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। স্কয়ার হাসপাতালের কাস্টমার ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সৈয়দা আক্তার রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে মারা গেছেন।

শনিবার তাকে এখানে ভর্তি করা হয়। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা যুগান্তরকে জানান, জ্বরে আক্রান্ত হলে ৩০ জুলাই সৈয়দা আক্তারকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রক্ত পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে শনিবার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অতিরিক্ত আইজিপি শাহাবুদ্দীন কোরেশী সরকারি সফরে এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ঝিগাতলার জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীর (২০) মৃত্যু হয়েছে। জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খুলনা ব্যুরো জানায়, রোববার সকালে স্কুলছাত্র মো. মঞ্জুর শেখ (১৫) এবং শনিবার মধ্যরাতে বৃদ্ধা মর্জিনা বেগমের (৭০) মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া মাগুরার এক রোগী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার পর মারা গেছেন।

শনিবার গভীর রাতে রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে চাঁদপুরের মতলবের সংরক্ষিত মহিলা আসনের ইউপি সদস্য লাভলী আক্তার (৪০) মারা গেছেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীপালি নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

বিএসএমএমইউতে ভর্তি ২৬ : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৬ জন ভর্তি হয়েছেন। আগের ভর্তি আছেন ১৩৭ জন। ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু চিকিৎসা সেলে ৩০৯ জন সেবা নিয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১৪৬ জন।

মেডিসিন ওয়ার্ড, শিশু ওয়ার্ড, ডেঙ্গু চিকিৎসা সেল, কেবিন, আইসিইউ ও এসডিইউতে এসব রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে আইসিইউতে দু’জন এবং এইচডিইউতে আটজন রোগী ভর্তি আছেন।

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এ হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ১৫০ থেকে ২০০-তে উন্নীত করা হয়েছে।

ডেঙ্গু সেলের মাধ্যমে ভর্তি রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, স্টেশনারিসহ চিকিৎসাসেবা, বেড ভাড়া এমনকি আইসিইউ এবং এইচডিইউ সেবাও বিনা মূল্যে দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ডেঙ্গু সেলে আসা রোগীদের প্রাথমিকভাবে সিবিসি, এনএস১, আইজিএম ও আইজিজি বিনা মূল্যে করা হচ্ছে।

ঢামেক হাসপাতালে সংযুক্তিতে শতাধিক নার্স : ডেঙ্গু রোগের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে সংযুক্তিতে (ডেপুটেশন) শতাধিক নার্স পদায়ন করা হয়েছে। সিনিয়র স্টাফ নার্স, স্টাফ নার্স ও নার্সিং সুপারভাইজার পদের এসব নার্সকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিনের অধীন ও নির্দেশনায় ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের (নার্সিং সেবা ১ শাখা) স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ডা. মোহাম্মদ শিব্বীর আহমেদ উসমানী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিদ্ধান্ত : ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ মোকাবেলায় রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার কনফারেন্স রুমে সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় বেশকিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এগুলো হল- এক. সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ঢালাওভাবে সব রোগীর এনএস-১ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলে কিটের অপচয় হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এনএস-১ পরীক্ষা না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। দুই. ঢাকা শহরে মশা জরিপের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় বিআই (ব্রিটিউ ইনডেক্স) ২০-এর উপরে আছে, যা ডেঙ্গু বিস্তারে সহায়ক। এ জন্য এডিস মশার উৎসস্থল ধ্বংসের দিকে বেশি জোর দিতে হবে।

তিন. আজ বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় ১৩টি মেডিকেল কলেজের মেডিসিন কনসালটেন্ট, পেডিয়েট্রিক কনসালটেন্ট এবং জেলা ও সদর হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া আগামী ৭ ও ৮ আগস্ট ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বাকি ৫১টি জেলার সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও, মেডিসিন কনসালটেন্ট ও পেডিয়েট্রিক কনসালট্যান্টদের ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

কিট আমদানি চলছে : ৩১ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত আমদানিকারকরা তিন লাখ ৬৮ হাজার ২০০ ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট আমদানি করবে বলে নিশ্চিত করেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর। এর মধ্যে রয়েছে এক লাখ ৫৭ হাজার কিট (এনএস-১ ও কম্বো)। দেশে কিট তৈরির কাঁচামাল আনার জন্য ৬ আগস্ট থেকে প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এখান থেকে প্রতিদিন ৩৫ হাজার কিট সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এসব কিট সরকারি হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানসমূহ এমএসআর খাত থেকে কিনে ভর্তি রোগীদের বিনা মূল্যে ও বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিদতফর থেকে নির্ধারিত মূল্যে পরীক্ষা করতে পারবে। দেশে ডেঙ্গুর পরীক্ষার কিট ঘাটতি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানান ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক মো. রুহুল আমিন।

বাংলাদেশে ভ্রমণে ব্রিটিশ সতর্কতা : ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় বাংলাদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাজ্য। শনিবার ব্রিটিশ ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশে সারা বছরই ডেঙ্গুজ্বরের মতো মশাবাহিত রোগ দেখা দেয়। এ মুহূর্তে দেশটিতে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। বাংলাদেশ ভ্রমণের সময় মশার কামড় এড়িয়ে চলতে ব্রিটিশ নাগরিকদের নির্দেশনা দেয়া হল।

ঢাকার বাইরের চিত্র : যুগান্তরের বিভিন্ন ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। জেলা-উপজেলায় প্রতিদিন নতুন করে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে। কোথাও কোথাও রোগ ব্যবস্থাপনায় সমস্যা না হলেও অনেক জায়গায় কিট, স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে।

ফরিদপুর ব্যুরো জানায়, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে স্যালাইন সংকট চলছে। এ ছাড়া ওষুধপত্র ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার বেশিরভাগ বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে। ফমেক হাসপাতালের পরিচালক (তত্ত্বাবধায়ক) রণদা প্রসাদ সাহা জানান, প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাঁচটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তিন দিন ধরে ডেঙ্গুজ্বর শনাক্তকরণ এনএস-১ কিডস নেই। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে এনএস-১ কিডসের সরবরাহ থাকলেও উপজেলা হাসপাতালে সরবরাহ নেই। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা।

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান, ডেঙ্গু রোগ ছড়িয়ে পড়লেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। এ কারণে রোগীরা ঢাকায় চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন।

মেহেরপুরে এডিস মশা নিয়ে হাসপাতালে : মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, বাড়িতে গোসলের সময় কিশোর সাজেদুলের হাতে একটি এডিস মশা বসে। মশাটি বসার সঙ্গে সঙ্গে মেরে সেটি গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় সাজেদুল। তার রক্ত পরীক্ষা করে ডেঙ্গু এনএস-১ পজিটিভ পান চিকিৎসকরা।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সজিব উদ্দিন স্বাধীন বলেন, যে এডিস মশাটি সে মেরেছে সেটি হয়তো তাকে কামড় দেয়নি। ওই বাড়িতে আরও এডিস মশা আছে। কয়েকদিন আগেই এডিস মশার কামড়ে সে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। কারণ এডিস মশা কামড়ালে প্রতিক্রিয়া হতে কয়েকদিন লাগে।

দুদকের অভিযান : মশা মারার ওষুধ আমদানি ও ব্যবহারে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মশার ওষুধ কেনার চার বছরের তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক।

দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন-১০৬) অভিযোগ আসে, মশার ওষুধ আমদানিতে সিন্ডিকেট করে সিটি কর্পোরেশনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে অকার্যকর ওষুধ আমদানি করেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।

অনুসন্ধানে দুদক টিম দেখতে পায়, চার বছর দ্য লিমিট এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেড থেকে এককভাবে ইনসেক্টিসাইড সরবরাহ করা হয়। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে নিকোন লিমিটেডকে ওষুধ সরবরাহের কার্যাদেশ দেয়া হয়। দুদক টিম ২০১৫-১৯ সালের কার্যাদেশ প্রদান সংক্রান্ত সব তথ্য সংগ্রহ করেছে।

ঘটনাপ্রবাহ : ভয়ংকর ডেঙ্গু

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×