অশ্রুঝরা আগস্ট

‘এখনও রক্তের রঙ ভোরের আকাশে’

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

‘এখনও রক্তের রঙ ভোরের আকাশে।/পৃথিবীও বিশাল পাখায় গাঢ় রক্ত মেখে,/কবে থেকে ভাসছে বাতাসে’।

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক তার ‘পনেরো আগস্ট’ কবিতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনাকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। পুবের আকাশে এখনও রক্তিম সূর্য ওঠে। নতুনের কেতন উড়িয়ে মানুষ স্বপ্ন জয়ের প্রত্যয়ে এগিয়েও চলে নিত্যদিন।

তবুও সে স্বপ্নে অপূর্ণতা রয়ে যায়। সে অপূর্ণতা যেন শুধ্ইু স্বাধীনতার প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারানোর। তাই তো আজও আগস্ট এলেই এই বাঙালি জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তার পিতাকে। আজ সেই শোকাবহ আগস্টের সপ্তম দিন।

১৯৭৫ সালের ৭ আগস্ট ছিল বৃহস্পতিবার। এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় সুইজারল্যান্ডের নয়া রাষ্ট্রদূত পরিচয়পত্র পেশ করেন বঙ্গবন্ধুর কাছে।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে ‘প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ডে’ রূপান্তর করার যে স্বপ্ন দেখেন, তা তার কাছে ব্যক্ত করেন। পরদিন সংবাদপত্রে বিষয়টি ছাপাও হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী নুরুল ইসলাম চৌধুরী, ১১টায় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজী সাক্ষাৎ করেন।

তারা দু’জনে পরে খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রী হন। বেলা ১২টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন বিদেশ সফরের প্রাক্কালে সাক্ষাৎ করেন, যা ছিল শেষ সাক্ষাৎ।

এই দিন বিকাল সাড়ে ৫টায় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার সমর সেন সাক্ষাৎ করেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে। এই সাক্ষাৎকালে সমর সেন সতর্ক করেছিলেন বঙ্গবন্ধুকে নানা ষড়যন্ত্র সম্পর্কে। প্রতিক্রিয়াশীল চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে তাদের কাছে তথ্য ছিল।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু কারও কথা শোনেননি। যে বাঙালির জন্য তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন। পাকিস্তানি হায়েনাদের হাতে বন্দি থাকার সময়ও যিনি বলেছেন, আমার লাশটা আমার বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দিও। যে বাঙালিকে তিনি নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন।

সেই বাঙালি তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে! তাকে হত্যা করতে পারে; এমনটা কখনও বিশ্বাস করতে পারতেন না বঙ্গবন্ধু।

কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের বুলেট নিভিয়ে দিয়েছে ‘স্বাধীনতার সূর্য’ বঙ্গবন্ধু নামের প্রদীপ। তবে ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও বাঙালির হৃদয় থেকে তাকে সরাতে পারেনি। একজন মানুষ মৃত্যুর পরও যে কতটা শক্তিশালী, একটা জাতির কতটা জুড়ে থাকতে পারে, তার উদাহরণ বঙ্গবন্ধু।

সৈয়দ শামসুল হক সেজন্যই হয়তো তার ‘আমার পরিচয়’ কবিতায় বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে লিখেছেন- ‘এই ইতিহাস ভুলে যাবো আজ, আমি কি তেমন সন্তান?/যখন আমার জনকের নাম শেখ মুজিবুর রহমান;/তারই ইতিহাস প্রেরণায় আমি বাংলায় পথ চলি-/চোখে নীলাকাশ, বুকে বিশ্বাস, পায়ে উর্বর পলি।’