২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ২৪২৮ জন

আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

আরও পাঁচজনের মৃত্যু * ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ বরাদ্দ ৫৩ কোটি টাকা

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী
হাসপাতালের ভেতরে জায়গা না হওয়ায় বারান্দায় ডেঙ্গুরোগী, ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীসহ সারা দেশেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। জুলাইয়ে যেখানে ৩১ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ২৫৩ জন, সেখানে গত ৭ দিনে এই সংখ্যা ১৫ হাজার ৮৭৯ জন। বুধবার ডেঙ্গুতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪২৮ জন। ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হওয়ার হিসাবে এটি নতুন রেকর্ড। এদিন ডেঙ্গুতে নতুন করে ৫ জন মারা গেছেন।

দিন দিন ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীতে পরিপূর্ণ প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষের ৯০ ভাগের বেশি ডেঙ্গু রোগী। বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই বিছানা অবশিষ্ট নেই। ভিড় সামলাতে সরকারি হাসপাতালগুলোর বারান্দাসহ খালি স্থানে অতিরিক্ত বিছানার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবু হিমশিম খেতে হচ্ছে। দৈনিকই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় হাসপাতালগুলোয় ‘ঠাঁই নেই’ পরিস্থিতি। এমন অবস্থায় রোগী নিয়ে স্বজনদের এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করতে হচ্ছে। সরেজমিন ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে যুগান্তরের প্রতিনিধিরা এমন চিত্র দেখেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৪২৮ জন নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার ২ হাজার ৩৪৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড আছে। এদিন কেউ মারা যাননি বলে সরকারি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তবে রাতে এ রিপোর্ট লেখাকালে ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এছাড়া চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ও ফরিদপুরে একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি মাসের প্রথম সাত দিনে ৩২ জন মারা গেছেন।

যদিও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে এখন পর্যন্ত এসব মৃত্যুর অধিকাংশই সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তবে সরকারি হিসাবে ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৩৪০ জনে। মারা গেছেন ২৩ জন।

তবে বেসরকারি হিসাবে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা উল্লিখিত হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম মাত্র ৪০টি হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তদের পরিসংখ্যান সংগ্রহ করছে। কিন্তু এর বাইরে যেমন হাসপাতাল আছে, তেমনি অনেকে হাসপাতালে ঠাঁই না পেয়ে বাসাবাড়িতে ব্যক্তিগত ডাক্তারের তত্ত্বাবধানেও চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

শহর-নগরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান জোরদার করতে স্থানীয় সরকার বিভাগ সাড়ে ৫২ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন এলজিআরডিমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি তৎপরতাও বাড়ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বুধবার ঘোষণা দিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালে ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগী শনাক্তে পরীক্ষার কিট আমদানি বাড়ানো হয়েছে। প্রতিদিন ২ লাখ করে কিট দেশে ঢুকছে।

অপরদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, ডেঙ্গু রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে ঈদে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে হেল্প ডেস্ক খোলা থাকবে। ঈদের দিন কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডাররা ‘অন-কলে’ চিকিৎসাসেবা দেবেন। এছাড়া সেবা নিশ্চিতে মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং চালু থাকবে।

ঈদের ছুটিতে খোলা থাকতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিস। বুধবার এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া ঈদের ছুটিতে গ্রামে যাওয়া মানুষের জন্য ৭ দফা করণীয় প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

সর্বশেষ পরিস্থিতি : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে হাসপাতাল থেকে রিলিজ পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬১০ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৭০৭ জন। ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৪২৮ জন।

মোট আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে ১৬২, মিটফোর্ডে ১৩৮, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৪৪, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৯৭, বারডেম হাসপাতালে ২৪, বিএসএমএমইউতে ৩৫, পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগে ৪২, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩৯, বিজিবি হাসপাতাল পিলখানায় ৮, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৪৫, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১১০ জনসহ ঢাকা শহরে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৭০ জন। বিভাগীয় শহরে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ১৫৩ জন।

ঢাকা শহর ছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৯৯, চট্টগ্রামে ১৮৭, খুলনায় ১৮৬, রংপুরে ৯১, রাজশাহীতে ১২৮, বরিশালে ১৫৯, সিলেটে ৩৪ ও ময়মনসিংহ বিভাগে বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৩০ জন।

পাঁচ জনের মৃত্যু : বুধবার নতুন করে মারা যাওয়া ৫ জনের মধ্যে ৩ জনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাত্র একজনের কথা স্বীকার করেছে। মারা যাওয়া তিনজন হলেন আছিয়া বেগম (৩৯), আমেনা বেগম (৬০) ও আওলাদ হোসেন (৩২)।

৩ আগস্ট ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৫০২নং ওয়ার্ডে ভর্তি হন আমেনা বেগম। তিনি বুধবার দুপুর ২টায় মারা যান। আমেনা বেগমের বাবা হাফেজ আ. মালেক। শরীয়তপুরের চরভানুকাঠি গ্রামে তার বাড়ি। ৪ আগস্ট একইভাবে ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে ভর্তি হয়ে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন আছিয়া বেগম।

বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় মারা যান তিনি। আছিয়ার বড় বোন কুলসুম বেগম জানান, আছিয়া ১০-১২ দিন জ্বরে ভুগছিলেন। বুধবার ভোরে আওলাদ হোসেন (৩২) নামে আরেকজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ী মারা যান।

তার বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সদর থানার পশ্চিম বাজি কসবায়। মৃতের মামা আক্তার হোসেন জানান, ৫ দিন আগে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। মঙ্গলবার রাত আড়াইটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৬০১নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর ভোর ৪টা ২০ মিনিটে তিনি মারা যান।

এছাড়া ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল জলিল এবং চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মনোয়ারা বেগম (৭৫) নামে আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ বরাদ্দ : এডিস মশা নিধনসহ সারা দেশে মশক নিধনে ঢাকার দুটিসহ ১২টি সিটি কর্পোরেশনকে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৫ কোটি টাকা।

গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ১ কোটি করে। আর বাকি সিটি কর্পোরেশনে ৫০ লাখ করে এবং সব পৌরসভার জন্য ৩০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের (বিসিজেএফ) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

অনুষ্ঠানে এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি কাওসার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী খলিলুর রহমান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমান বক্তব্য রাখেন। অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেন, আমিনুল ইসলাম খান, ড. কাজী আনোয়ারুল হক ছাড়াও সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ঈদ উপলক্ষে শহর থেকে লাখ লাখ মানুষ গ্রামে যাবে। যাত্রাপথে তারা যেন এডিস মশার কামড় খেয়ে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত না হয়, সেজন্য বাস, লঞ্চ, স্টিমার ও ট্রেন ছাড়ার আগে ভালো করে মশার ওষুধ স্প্রে করার জন্য সংশ্লিষ্ট মালিকদের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডেঙ্গু মশা দমনে হয়তো কাক্সিক্ষত পরিমাণ সফলতা আসেনি। কিন্তু একেবারে ব্যর্থ হয়েছে- এমনটা বলা যাবে না।

ঈদের ছুটিতে গ্রামে যাওয়া মানুষের জন্য নির্দেশনা : ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদফতরে অনুষ্ঠিত নিয়মিত আলোচনা সভায় বুধবার ৭ দফা সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঈদের ছুটিতে যারা গ্রামে যাবেন তাদের জন্য ৭টি করণীয় উল্লেখ করা হয়েছে।

এগুলো হচ্ছে- বাড়ি, অফিস, সব প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর টয়লেটের হাই এবং লো কমোড ঢেকে দিয়ে যেতে হবে। বাড়ি যাওয়ার সময় বাসার সব কক্ষের দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ করার পাশাপাশি বাসার বালতি, বদনা, হাঁড়িপাতিল, ড্রাম, গামলা, ঘটিবাটি ইত্যাদির পানি ফেলে পরিষ্কার করে উল্টিয়ে খালি অবস্থায় রেখে যেতে হবে।

বারান্দায় ও বাসার ছাদের ওপর ফুলের টব বা এমন কোনো পাত্র রাখা যাবে না যেখানে বৃষ্টির পানি জমতে পারে। সেগুলো উল্টিয়ে রেখে যেতে হবে। পানির ট্যাঙ্কের ঢাকনা বন্ধ করে রেখে যেতে হবে। ফোসা, পর্দা ও ঝুলন্ত কাপড়ের নিচে লুকিয়ে থাকে এডিস মশা। এসব জায়গায় অ্যারোসল স্প্রে করা এবং ফ্রিজের পানি জমার জায়গায় ন্যাপথলিন দিয়ে রাখতে হবে।

রান্নাঘরে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে তা খেয়াল করে দেখা। যাওয়ার আগে ঘরের মেঝে, বারান্দা ও বাথরুম পরিষ্কার ও অ্যারোসল স্প্রে করা, অব্যবহৃত বোতল ও কনটেইনারসহ অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দেয়া এবং অফিস, আঙিনা ও কর্মস্থলেও অনুরূপ ব্যবস্থা নেয়া।

ঈদের ছুটির জন্য আরও ৬ দফা পদক্ষেপ : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও ৬ দফা পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে আছে- ঈদের ছুটিতে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের হেল্প ডেস্ক খোলা রাখা; ঈদের দিন কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি) অন-কলে চিকিৎসা কাজে দায়িত্বরত থাকবেন।

স্থানীয় কোনো রোগীর যে কোনো সমস্যায় সিএইচসিপিদের প্রদানকৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করবেন। ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিতকরণে মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং চালু থাকবে। বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহযোগিতায় ২৬টি জেলার সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট আরএমও মেডিসিন ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণে সরকারি হাসপাতালগুলোয় ৩৪০টি আইসিইউ বেড ও ৩৩৫টি ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু আছে। সব বেসরকারি হাসপাতালেও এ সেবা চালু আছে। সব বিমানবন্দর, স্থল, নৌ ও সমুদ্রবন্দরগুলো এক্স স্ট্যান্ডের মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে বিশেষ সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

খোলা থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিস : পবিত্র ঈদুল আজহায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হলেও বন্ধ থাকতে পারবে না প্রতিষ্ঠানের দফতর। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ঈদের ছুটিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না। তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষকের নেতৃত্বে কর্মচারী, স্কাউটস, বিএনসিসি ও শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে ছয় থেকে ১০ জনের একটি বা একাধিক টিম গঠন করতে হবে। ওই কমিটি ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম চালাবে।

এতে বলা হয়েছে, সবার অনুপস্থিতিতে খেলার মাঠ, ফুলের টব, পানি জমে এমন যে কোনো পাত্রে এডিস মশার প্রজনন প্রক্রিয়া আরও বেগবান হতে পারে। এতে সরকার কর্তৃক গৃহীত ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত এবং ডেঙ্গু আরও বিস্তার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ছুটির মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের ছয়টি দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়। এগুলো হচ্ছে : টিম গঠন করে বিদ্যালয় ও আশপাশের যেসব জায়গায় স্বচ্ছ পানি জমার আশঙ্কা থাকে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে প্রতিদিন একবার পরিষ্কার করতে হবে; বাথরুমের বদনা ও বালতির পানি শূন্য করে উল্টে রাখতে হবে; হাইকমোডে হারপিক ঢেলে ঢাকনা বন্ধ করে রাখতে হবে; বাথরুমের প্যানে হারপিক ঢেলে বস্তা বা অন্য কিছু দিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে হবে; কোনো স্থানে জমাটবদ্ধ পানি থাকলে লার্বিসাইড স্প্রে করতে হবে অথবা জমাট পানি নিষ্কাশন করতে হবে; ১২ ও ১৩ আগস্ট ছাড়া (ঈদের দিন ও পরদিন) প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিস কক্ষ খোলা রেখে রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে টিমের শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম টিমে নিয়োজিত শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কেউ ঈদের ছুটিতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

সারা দেশের চিত্র : যুগান্তর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আখাউড়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী এজাজ আহম্মদের এক বছর বয়সী ছেলে আয়ান ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত।

তাদের মধ্যে একজন কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ হোসেন। ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বুধবার পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ৫২৩ জন। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ভর্তি আছেন ৪১৭ জন। বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ৬৯ রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে বরিশালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৩৬ জন।

ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে বুধবার ৩৫ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে সেখানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১৩৮ জন। যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন ৩ জন। হাটহাজারীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, পাবনায় জেনারেল হাসপাতালে নতুন ১৭ জনসহ ১৪১ জন, রাঙ্গামাটিতে ১৯ জন, ভোলায় ৫৯ জন, শরীয়তপুরে ১০২ জন, শেরপুর সদর হাসপাতালে ৩৯ জন, নীলফামারীতে নতুন ১০ জনসহ ৫০ জন, সাটুরিয়ায় ১৩ জন, ফরিদপুরে নতুন ৬৫ জনসহ ২৩৬ জন, রংপুরে নতুন ২৮ জনসহ ৮০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : ভয়ংকর ডেঙ্গু

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×