চামড়ার দাম নিয়ে কারসাজি হলে ব্যবস্থা: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

কোরবানিপশুর কাঁচা চামড়ার দাম কমার পেছনে সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, এ রকম চক্র ফায়দা লোটার জন্য সিন্ডিকেট করে। নিরপেক্ষভাবে সিন্ডিকেটের বিষয়টি জানা দরকার। এ নিয়ে খোঁজখবর নেয়া হবে। বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন।

চামড়া নিয়ে বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঈদের পর মাত্র একদিন সময় গেল, এ সময় পুরো বিষয় মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। সব কিছু মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হবে।

ঢালাও অভিযোগ করা বিএনপির পুরনো অভ্যাস মন্তব্য করে তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের কারসাজি হয়ে থাকলে সে ব্যাপারে তথ্য প্রমাণ দিতে হবে। তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) সব সময় নেতিবাচক বিষয়টাকে আঁকড়ে ধরে, সরকারের সামান্য ত্রুটি কিছু পেলেই সেটাকে নিয়ে তারা ঢালাও বিষোদ্গার করে। এটি বিরোধী দলের ঢালাও বিষোদ্গার কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।

মৌসুমী ব্যবসায়ীদের সংগ্রহ করা চামড়া নষ্ট হচ্ছে- এ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, সামগ্রিকভাবে অভিযোগগুলো পুরোপুরি খতিয়ে না দেখে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। আরও দুই-চার দিন যাক।

এর মধ্যে সঠিক চিত্র খুঁজে বের করতে পারব। এর পেছনে অপরাধমূলক কোনো কাজ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, অপরাধ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যায় যেই করুক, অপরাধ যেই করুক, এখানে জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ বিঘ্নিত হলে তা দেখা সরকারের দায়িত্ব।

চার লেন না হওয়া পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে দুর্ভোগ কমবে না : সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এবার সড়কপথে ঈদযাত্রা মোটামুটি স্বস্তিদায়ক ছিল।

তবে একটি রুটে (টাঙ্গাইল থেকে সিরাজগঞ্জ) দুর্ভোগ ছিল অসহনীয়। এলেঙ্গা থেকে রংপুর চার লেন না হওয়া পর্যন্ত এ দুর্ভোগ কমবে না। বুধবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঈদপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ রুট দুই দিন খুবই দুর্ভোগের কারণ হয়েছিল। টার্মিনালেও অপেক্ষমাণ যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সমস্যা আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছিল। একদিকে আট লেনের গাড়ি দুই লেনের ব্রিজে উঠত, অপরদিকে চার লেনের গাড়ি দুই লেনের ব্রিজে উঠত- ওই দুই লেনের ব্রিজের কারণে সেখানে লম্বা যানজট হতো। যদিও সেই সমস্যা এখন নেই। তবে ওই ধরনের সমস্যা এখানে আছে।

টাঙ্গাইল রুটে ভোগান্তির কারণ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, উত্তরবঙ্গে গার্মেন্ট কর্মীসহ ঘরে ফেরাদের চাপটা শেষদিকে বেশি পড়ে। এ চাপ মোকাবেলা করা খুব কঠিন।

চাপটা চার লেন থেকে যখন দুই লেনে যায় তখন দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ধৈর্যহারা চালকরা গাড়ি উল্টো পথে নিয়ে গেলে তখন ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ কারণে দুই দিন যাত্রাটা স্বস্তিদায়ক ছিল না, ভোগান্তি হয়েছে। অনেক মানুষ কষ্ট করেছে। গাড়ি দেরিতে আসার কারণে টার্মিনালেও বহু মানুষের কষ্টের সীমা ছিল না। এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছি।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, অনেক চেষ্টা করেও টাঙ্গাইল থেকে সিরাজগঞ্জের সমস্যার সংকট এড়াতে পারিনি। এখন এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেনের কাজ শুরু হবে।

চার লেন না হওয়া পর্যন্ত দুর্ভোগ থাকবে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য কিছু ব্যবস্থা নেয়ার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা নলকা ব্রিজ নিয়ে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এখানে বেশি যানজটের সৃষ্টি হয়। এটা সমাধানের চিন্তা-ভাবনা করছি। এটিকে প্রশস্ত করতে হবে।

উত্তরের মানুষ চার লেনের সুবিধাটা কবে নাগাদ পাবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে পাবে। এবার ঈদে দক্ষিণাঞ্চলে ফেরি সংকট ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা ও যমুনার তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে।

এ কারণে উভয় পারে লম্বা যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে অনেক মানুষের কষ্ট হয়েছে। ৬-১৩ আগস্ট পর্যন্ত সড়কপথে দুর্ঘটনায় ৪৩টি দুর্ঘটনায় ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এবার দুর্ঘটনা গতবারের থেকে কম এবং প্রাণহানিও কম হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এবার স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা হয়েছে : কুমিল্লা ব্যুরো জানায়, ওবায়দুল কাদের বলেছেন- ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এবার স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা হয়েছে।

এ বছর যেখানে-যেখানে সমস্যা হয়েছে এর পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সেজন্য শিক্ষা নিয়ে ভুল ও ঘাটতিগুলো দূর করা হবে। রোববার বিকালে ঢাকা থেকে নোয়াখালী যাওয়ার পথে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।