যৌন হয়রানির অভিযোগ

সিটি ব্যাংকের এমডিসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

  তোহুর আহমদ ২০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিটি ব্যাংক
সিটি ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত

যৌন হয়রানির অভিযোগে সিটি ব্যাংকের এমডিসহ (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) তিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা হয়েছে। ব্যাংকটির সাবেক এক সিনিয়র নারী কর্মকর্তা রোববার মামলাটি করেন।

মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে গুলশান থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) এসএম কামরুজ্জামান সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করে ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

মামলায় আসামি করা হয়েছে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন, হেড অব সিএসআরএম আবদুল ওয়াদুদ ও বোর্ড সেক্রেটারি কাফি খানকে। মামলার বাদী সিটি ব্যাংকের সাবেক সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মনিরা সুলতানা পপি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মামলার বাদী সোমবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অন্য দুই আসামি আমাকে অব্যাহতভাবে ইভটিজিং করেন। তাদের কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় আমাকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়।

এমনকি শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন তার কাছে ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুতির চিঠি পাঠানো হয়। বাদী আরও বলেন, আমার সঙ্গে এ তিন কর্মকর্তার কুরুচিপূর্ণ আচরণের বিষয়টি বহু আগেই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে জানিয়েছি। কিন্তু তেমন কোনো ফল পাইনি। বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

মামলাটি করা হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪০৬/৫০৬ ধারায়। যেখানে শ্লীলতাহানি ও শ্লীলতাহানিতে সহায়তা প্রদান করা এবং অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকি প্রদর্শনের অপরাধের কথা বলা আছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ব্যাংকে যোগদান করার পরপরই মাসরুর আরেফিনের নিয়মিত ইভটিজিংয়ের শিকার হন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় এমডির এসব আচরণ সহ্য করেই তাকে কাজ করতে হয়।

২০১১ সালে অপর আসামি হেড অব সিএসআরএম আবদুল ওয়াদুদ গাড়িতে লিফট দেয়ার নাম করে তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে বসেন। লিফটের ভেতরে, সিঁড়িতে অফিস চলাকালীন তার হয়রানির শিকার হতে হয়।

এ ঘটনা বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার টিটো এবং তাবাসসুম কায়সার জানেন। বোর্ডে আলোচনায় আসার পর কনসালট্যান্ট রাজা দেবনাথ লিখিত অভিযোগ করতে বলেন। এরপর ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তারা তাকে নিয়ে আলোচনায় বসেন।

এ ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে একই ফ্লোরে কাজের পরিবেশ নেই জানানোর পর সেপ্টেম্বরে মনিরা সুলতানাকে ট্রান্সফার করা হয়। এরপর ৩১ ডিসেম্বর ডিএমডি (অপারেশন) মাহিয়া জুনেদ এবং মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান তাকে চাকরি খুঁজতে বলেন।

মামলার এজাহারে বাদী আরও বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে লাকি শিপ বিল্ডার্সকে বিপুল অঙ্কের লোন দেয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় আমি যুক্ত হতে রাজি হইনি। এ কারণেও আমাকে ব্যাংকের রোষানলে পড়তে হয়।

২১ জানুয়ারি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের সঙ্গে দেখা করে অন্যত্র চাকরি খুঁজতে বলার কারণ জানতে চাইলে এমডি ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার কথা অনুযায়ী না চলা এবং নোংরা আবেদনে সাড়া না দেয়া ও দুর্নীতিগ্রস্ত ঋণ প্রদান প্রক্রিয়ায় জড়িত না থাকাই আমার অপরাধ।

২১ জানুয়ারি বোর্ড সেক্রেটারি আমাকে ডেকে বলেন, আমি যেন অফিসে আর না ঢুকি। এমডি মাসরুর আরেফিন, আবদুল ওয়াদুদ, কাফি খান আমার সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। সরাসরি গায়ে আপত্তিজনকভাবে হাত দেয়া, কটূক্তি ও লালসার শিকার বানানোর চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে তারা আমার দীর্ঘ ১৭ বছরের কর্পোরেট ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেন।

জানতে চাইলে মামলার বাদী মনিরা সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, বহু আগে আমি পুলিশকে বিষয়টি জানাই। ১০ জুলাই এ বিষয়ে গুলশান থানায় জিডিও করি। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তারা পুলিশকে ম্যানেজ করে ফেলেন।

ফলে আমি আইনগত সহায়তা পাইনি। এ কারণে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। দিনভর থানায় বসিয়ে রেখেও মামলা নেয়নি। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করি। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে পুলিশ রোববার মামলা নিতে বাধ্য হয়।

এদিকে মামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে এ মামলা করা হয়েছে। আমরা উচ্চ আদালত থেকে ইতিমধ্যে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, মনিরা সুলতানার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও ব্যাংকের গাড়ি অপব্যবহারের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। যুক্তিসঙ্গত কারণেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। কিন্তু এখন তিনি মামলার মাধ্যমে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্ল্যাকমেইল করতে চাইছেন।

মনিরা সুলতানার কাছে ব্যাংকের ৮০ লাখ টাকা পাওনা। এ টাকা না দেয়ার জন্যই তিনি মামলার নামে নাটক সাজিয়েছেন। মামলার অপর দুই আসামি আবদুল ওয়াদুদ বলেন, মামলার পুরো অভিযোগটি মিথ্যা। ঘটনার কোনো সত্যতা নেই।

আমার অফিসের পুরোটাজুড়ে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এ অবস্থায় কারও গায়ে হাত দেয়া বা যৌন হয়রানির কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বোর্ড সেক্রেটারি কাফি খানের বক্তব্য জানতে চেয়ে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×