আমার গাঙচিল যেন ভালোভাবে ডানা মেলে উড়তে পারে : শেখ হাসিনা

ড্রিমলাইনার গাঙচিলের উদ্বোধন * নিজেদের ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিমান কিনব * কেনা হবে আরও দুটি কার্গো বিমান

  বাসস ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিমান ঘুরে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার বিকালে ‘গাঙচিল’ উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করব আমার গাঙচিল যেন ভালোভাবে ডানা মেলে আকাশে উড়তে পারে, সবাই যত্ন নেবেন। মনে রাখতে হবে এটা দেশের নিজস্ব সম্পদ।

তিনি আরও বলেন, বিমান কেনার জন্য কারও মুখাপেক্ষী না থেকে, অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার না করে, নিজেদের ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিমান কিনব।

বাংলাদেশ বিমানকে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, আশা করি, বিমানের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখা এবং উত্তরোত্তর যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি করা এবং যে বিমানগুলো আমরা এনে দিচ্ছি সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা, এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার দায়িত্ব। কাজেই এটা নিজস্ব সম্পদ, সে কথা মনে রেখে আপনাদের কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে আপনারা আপনাদের আন্তরিকতা নিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজটি করবেন। তিনি বলেন, দেশ উন্নত হলে, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে সবাই সুন্দর জীবন পাবেন, সুখী হয়ে চলতে পারবেন। আর এটাই আমাদের লক্ষ্য।

বাইরে থেকে টাকা ধার না করে বিমান কেনার জন্য স্বাবলম্বী হওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী, অতীতের মতো বিমান কেনার জন্য কারও মুখাপেক্ষী না থেকে, অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার না করে, নিজেদের ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েই বিমান কিনব। তাই ধাপে ধাপে আমরা এগোচ্ছি। অর্থাৎ আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।

তিনি বলেন, আমরা আত্মমর্যাদা নিয়ে চলতে চাই এবং দেশকে জাতির পিতার সোনার বাংলাদেশ হিসেবেই গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে চলবে।

দেশের বিমানবহরে তার সরকার সংযোজিত অত্যাধুনিক বিমানগুলোর প্রতি সবাইকে যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, অনুরোধ করব আমার ‘গাঙচিল’ যেন ডানা মেলে উড়তে পারে ভালোভাবে, সবাই যত্ন নেবেন।

তিনি বলেন, আমেরিকায় এখনও আমরা যেতে পারছি না। তবে শিগগিরই ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমানের ফ্লাইট চলবে। আমাদের ড্রিমলাইনার সরাসরি ঢাকা থেকে জেএফকে (জনএফ কেনেডি এয়ারপোর্ট, নিউইয়র্ক) যাওয়ার মতো সক্ষমতা রাখে। আমরা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। একইসঙ্গে লন্ডনে বিমানের জন্য স্লট যেন আরও বৃদ্ধি পায় এবং আরও কয়েকটি দেশে বিমান তার যাত্রীসেবা যেন বৃদ্ধি করতে পারে এবং যেতে পারে সরকার সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এয়ারক্রাফটের সংখ্যা বৃদ্ধিতে তার সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রয়োজন অনুসারে আমরা আরও বিমান কিনব। তবে এর মাঝে আমরা চাচ্ছি আরও দুটি কার্গো বিমান নিতে। যাতে আমাদের আমদানি-রফতানি বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, এরইমধ্যে দুটি কার্গো বিমান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। এ সময়ের মধ্যে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য যা যা প্রয়োজন সেগুলোর সবই তিনি করে যান। বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর থেকে সহায়তা নিয়ে বিমান এয়ারলাইনস তিনি চালু করে দিয়ে যান।’

বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার গাঙচিল উদ্বোধন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ বিমান উদ্বোধনে এসেছি এ কারণে যে, আমার কেবলই মনে হয়- একটু ভালো কাজ, যে কাজে আমার দেশের মানুষের কল্যাণ হবে, মানুষের মঙ্গল হবে, মানুষ স্বস্তি পাবে, সেই কাজটুকু করলে আমার বাবা-মায়ের আত্মা শান্তি পাবে এবং নিশ্চয়ই তারা খুশি হবেন।’ এ সময় সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন এবং নতুন নতুন বিমানবন্দর তৈরিতে তার সরকারের পদক্ষেপসমূহ তিনি তুলে ধরেন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টারমাকে ফিতা কেটে ‘গাঙচিল’ উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী উড়োজাহাজটিতে আরোহণ করেন। ককপিটসহ বিভিন্ন অংশ তিনি ঘুরে দেখেন এবং পাইলট ও ক্রুদের সঙ্গে কথা বলেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হক, বিমানের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) মুহাম্মাদ এনামুল বারী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ক্যাপ্টেন ফরহাত হাসান জামিল স্বাগত বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, তিনবাহিনী প্রধানগণ, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরহাত হাসান জামিল জানান, বিকাল সাড়ে ৫টায় আবুধাবির উদ্দেশে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করে ’গাঙচিল’। ১৫তম বিমান হিসেবে গাঙচিল ২৫ জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে যুক্ত হয়। ওই দিন বিকালে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের বোয়িং ফ্যাক্টরি থেকে গাঙচিল সরাসরি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে। গত বছরের আগস্টে আসে ‘আকাশবীণা’ নামের প্রথম বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। গত বছরের ডিসেম্বরে আসে ‘হংসবলাকা’ নামের দ্বিতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। আগামী মাসে যুক্ত হবে চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’।

মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১০টি নতুন বিমান কিনতে ২০০৮ সালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস দুই দশমিক এক বিলিয়ন ইউএস ডলারের চুক্তি করে। এরইমধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি ৭৩৭-৮০০ এবং তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানবহরে যুক্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ক’টি ড্রিমলাইনারের নামকরণ করেছেন। এগুলো হল- পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ, রাঙাপ্রভাত, মেঘদূত, ময়ূরপঙ্খী, আকাশবীণা, হংসবলাকা, গাঙচিল ও রাজহংস।

ড্রিমলাইনার গাঙচিলের আসন সংখ্যা ২৭১। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি ও ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস রয়েছে। বিজনেস ক্লাসের ২৪টি আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ড রিক্লাইন্ড সুবিধা এবং সম্পূর্ণ ফ্ল্যাট বেড হওয়ায় যাত্রীরা আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবেন।

এছাড়া প্রতিটি আসনের সামনে প্যানাসনিক এলইডি এস-মনিটর রয়েছে। একই সঙ্গে ড্রিমলাইনারের ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেমে (আইএফই) থাকবে ১০০টির বেশি ক্ল্যাসিক থেকে ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র। অন্য বিমানের তুলনায় এটি ২০ শতাংশ জ্বালানি-সাশ্রয়ী করে তৈরি করা হয়েছে। এটি ঘণ্টায় গড়ে ৬৫০ মাইল বেগে বিরতিহীনভাবে ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম। অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াইফাই সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। যাত্রীরা ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারবেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×