রোহিঙ্গাদের অনীহা

প্রত্যাবাসনের দ্বিতীয় উদ্যোগও ব্যর্থ

রোহিঙ্গাদের কারা প্লাকার্ড বা লিফলেট করে দিচ্ছে, তাদের আমরা চিহ্নিত করছি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী * এনজিওদের প্রত্যাবাসনবিরোধী তৎপরতা * রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি নিয়ে আস্থার সংকট * প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সরকারের অকার্যকর কৌশল

  মাসুদ করিম ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিং
ছবি: যুগান্তর

রোহিঙ্গাদের কেউ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফিরে যেতে রাজি নয়। ফলে বৃহস্পতিবার তাদের প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। এতে ভেস্তে গেল ফেরত পাঠানোর দ্বিতীয় উদ্যোগ।

সরকার তাদের ফেরত পাঠানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। কিন্তু নিজ বাসভূমে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় রোহিঙ্গারা এখনই যেতে চায়নি। দ্বিতীয়বারের মতো এ উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ায় কার্যত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফিরে যাওয়ার লক্ষ্যে রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টিসহ বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থার সংকট রয়েছে। এ ছাড়া আশ্রয় শিবিরে কর্মরত দেশি-বিদেশি এনজিওদের প্রত্যাবাসনবিরোধী তৎপরতার কারণে তারা নিরুৎসাহিত হয়েছে। চীন, মিয়ানমার ও জাতিসংঘ উদ্বাস্তু সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রতিনিধিরা প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সরকারের কৌশল পরপর দু’বার ব্যর্থ হওয়ায় এখন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

বিশেষ করে প্রত্যাবাসন শুরুর নির্ধারিত দিনের আগে ৬১টি দেশি-বিদেশি এনজিও যেভাবে যুক্ত বিবৃতি দিয়ে রোহিঙ্গাদের নিরুৎসাহিত করেছে তা নজিরবিহীন। ফলে ভবিষ্যতে এনজিওদের তৎপরতা গভীর পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন বলে তারা মত দেন।

এদিকে, রোহিঙ্গাদের কেউ মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজি না হওয়াকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মন্ত্রী বলেন, কারা প্ল্যাকার্ড বা লিফলেট করে দিচ্ছে, তাদের আমরা চিহ্নিত করছি। তারা বিভিন্ন ডিমান্ড করছে। তাদের ডিমান্ডের কাছে আমরা জিম্মি হতে পারি না।

রোহিঙ্গা সংকটের দু’বছর পূরণ হওয়ার লগ্নে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল আকার ধারণ করল। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনার পর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। তাদের সঙ্গে রয়েছে ১৯৮২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নানা অজুহাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া আরও সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে তাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। একই বছরের ৬ জুন নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসনের তারিখ নির্ধারণ হয়। তবে আবারও হামলার মুখে পড়ার শঙ্কায় তারা নিজ দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যর্থ হয় ওই উদ্যোগ।

জানা গেছে, বাংলাদেশ কয়েক দফায় ৫৫ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করে। তাদের মধ্য থেকে মিয়ানমার তিন হাজার ৪৫০ জনকে যাচাই করে ফেরত নেয়ার জন্য তালিকা পাঠায়। বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ, পুনর্বাসন ও প্রত্যাবাসন কমিশন এবং ইউএনএইচসিআরের গঠিত কমিটি তালিকাভুক্তদের সাক্ষাৎকার নেয়া শুরু করে। এতে কেউ মিয়ানমারে ফিরতে রাজি না হওয়ায় সংকটটি নতুন মাত্রা লাভ করে।

রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনে যাবতীয় শর্ত পূরণের দায় মিয়ানমার সরকারের বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে বুধবার এ কথা বলেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক। বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর দ্বিতীয় দফার চেষ্টা নিয়ে তাকে প্রশ্ন করেছিলেন এক সাংবাদিক।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক বাহিনীর চালানো গণহত্যা ও বর্বর নির্যাতনের দু’বছর পেরোলেও এখন পর্যন্ত সেখানে বসবাসের জন্য নিরাপদ করে গড়ে তোলা হয়নি। এ জন্য মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীকে দায়ী করে বিবৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বুধবার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে এখনই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না করার আহ্বান জানিয়ে এ সংকটের সমাধান ও দায়ীদের বিচারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ বলে উল্লেখ করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া : দু’বছর আগে নিপীড়নের মুখে পালিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের কেউ মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজি না হওয়াকে ‘দুঃখজনক’ বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

একদফা পেছানোর পর বৃহস্পতিবার থেকে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও দুপুর পর্যন্ত কেউ রাজি হয়নি। এরপর বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এ প্রতিক্রিয়া জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার চেয়েছে বৃহস্পতিবার থেকেই প্রত্যাবাসন শুরু হোক। কিন্তু রোহিঙ্গারা যে যেতে চাচ্ছে না, এটা দুঃখজনক। এটা আমরা প্রত্যাশা করি না। তবে বৃহস্পতিবার প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি বলার জন্য বিকাল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মোমেন জানান। প্রত্যাবাসন শুরু না হলে কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরপরও আমরা প্রক্রিয়াটা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব। আমরা জোর করে কিছু করব না। আমরা প্রস্তুত, আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। আস্থার যে ঘাটতি আছে সেটা দূর করতে মিয়ানমারকেই কাজ করতে হবে। আমরা আশায় বুক বেঁধে আছি।

প্রত্যাবাসনের কার্যক্রম দেখতে মিয়ানমার ও চীনের প্রতিনিধিরা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে রয়েছেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মিয়ানমার ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও লিফলেট বিলির প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, কারা প্ল্যাকার্ড বা লিফলেট করে দিচ্ছে, তাদের আমরা চিহ্নিত করছি। তারা বিভিন্ন ডিমান্ড করছে। তাদের ডিমান্ডের কাছে আমরা জিম্মি হতে পারি না।

রোহিঙ্গারা এখানে রয়েছে, সে কারণে ফিরে যেতে চাইছে না, এ মন্তব্যে মোমেন বলেন, বাংলাদেশ সরকার অনেক টাকা খরচ করেছে। আগামীতে হয়তো এই আরাম থাকবে না। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতিসহ মিয়ানমারের রাখাইনের পরিস্থিতি ঘুরে দেখার জন্য একটা কমিশন গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে গত বছর ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসন শুরুর সব প্রস্তুতি নিয়ে দিনভর অপেক্ষা করার পরও মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মনে আস্থা তৈরি না হওয়ায় সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়।

রোহিঙ্গারা বলছে, মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগে তাদের নাগরিকত্ব, জমিজমা ও ভিটেমাটির দখল, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এক বছর আগের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই সরকারের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের পাঠানো তালিকা থেকে ৩ হাজার ৪৫০ জনকে রাখাইনের অধিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের ফেরত নিতে রাজি হওয়ার কথা গত সপ্তাহে জানায় মিয়ানমার।

এরপর গত তিন দিন ধরে ইউএনএইচসিআরকে নিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থী কমিশনারের কার্যালয় ফেরার বিষয়ে মনোভাব জানতে রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। প্রত্যাবাসনের জন্য নির্বাচিত শরণার্থীরা কক্সবাজারের ২৪, ২৬ ও ২৭ নম্বর শিবিরে আছে। প্রথম দু’দিনে ২৩৫ পরিবারের সাক্ষাৎকার নেয়ার পর বৃহস্পতিবারও সাক্ষাৎকার চলছিল। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম জানান, বেলা ১টা পর্যন্ত যাদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে তাদের কেউ ফিরে যেতে রাজি হননি।

রোহিঙ্গাদের ৫ দাবি : কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি জানান, রোহিঙ্গারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে ৫টি শর্ত পূরণ না হলে তারা ফিরবে না। কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম বৃহস্পতিবার দুপুরে টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে (ক্যাম্প-২৬) প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের জানান।

এ সময় তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। কিন্তু একজন রোহিঙ্গাও যেতে রাজি না হওয়ায় প্রত্যাবাসন শুরু করা যাচ্ছে না। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ১০৩৭ পরিবারের মধ্যে ৩৩৯ পরিবারের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। সেখানে কেউ রাজি না হলেও বাকি ৬৯৮ পরিবারের কেউ রাজি হয়ে যেতে পারে। যাদের এখনও সাক্ষাৎকার গ্রহণ বাকি রয়েছে। ১০৩৭ পরিবারের সাক্ষাৎকার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হবে।

রোহিঙ্গারা আগের চেয়ে অনেক নির্ভয় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা এখন সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন। রোহিঙ্গারা বিশ্বাস করছে তাদেরকে আমরা জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাব না। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের ব্যর্থতা বাংলাদেশের নয়। এটা মিয়ানমার সরকার ও রোহিঙ্গাদের দ্বিপাক্ষিক সমস্যা। এ ছাড়া এনজিও ক্যাম্পে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের প্রত্যাবাসনবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৩ কর্মকর্তা, বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের দু’জন, মিয়ানমার দূতাবাসের একজন প্রতিনিধি ছাড়াও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব ও জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন । এ সময় চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তা জিং থিয়ান হো সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরে ক্যাম্পের বদরুল ও ইব্রাহিম নামে দুই রোহিঙ্গা নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের কাছে প্রত্যাবাসনের জন্য তাদের শর্তগুলো তুলে ধরেন।

শর্তগুলো হচ্ছে : রোহিঙ্গা স্বীকৃতি দিয়ে নাগরিকত্ব প্রদান, ভিটেবাটি ও জমিজমা ফেরত, আকিয়াব জেলায় এডিবি ক্যাম্পে আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিজ বাড়িতে ফেরত, বুচিদং ও মংডু জেলায় বিভিন্ন কারাগারে বন্দি রোহিঙ্গাদের মুক্তি, হত্যা-ধর্ষণের বিচার ও জাতিসংঘ রক্ষী মোতায়েন।

প্রসঙ্গত, প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছিল। প্রস্তুত রাখা হয়েছিল রোহিঙ্গাদের পরিবহনের জন্য ৫টি বাস, ৩টি ট্রাক ও ১২টি মাইক্রোবাস। এর আগে গত নভেম্বরে প্রথমবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছিল।

প্রত্যাবাসনে এনজিদের বাধা : উখিয়া প্রতিনিধি জানান, প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ ও কতিপয় এনজিও সন্তুষ্ট হতে পারছে না। বাংলাদেশ থেকে তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে যখন দু’দেশসহ সংশ্লিষ্টরা মোটামুটি প্রস্তুত, তখনই মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকটের কথিত অবনতির ধুয়ো তুলে বিবৃতি দিয়েছে ৬১টি এনজিও। তারা নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় শরণার্থীদের জড়িত করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন বিষয়ক সাম্প্রতিক খবরে শঙ্কিত এবং উদ্বিগ্ন বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। তারা নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত। এনজিওগুলো মিয়ানমারে পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা ব্যক্ত করে নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিতের আহ্বান জানায়।

কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি ও কক্সবাজার সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বলেন, প্রত্যাবাসনবিরোধী যে কোনো তৎপরতা শক্ত হাতে দমন করা না হলে প্রত্যাবাসন কখনও সম্ভব নয়।

উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা শুরু থেকে বলে আসছি, রোহিঙ্গাদের বেশি প্রশ্রয় না দিতে। কিন্তু কিছু এনজিও তাদের চাকরি দিয়ে, বিপুল পরিমাণ ভাতা দিয়ে, নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা দিয়ে মিছিল-মিটিং করার অনুমতি দিয়ে লোভী করে তুলেছে। যে কারণে রোহিঙ্গারা শিগগির ফিরতে রাজি হচ্ছে না। এ ছাড়া তারা যে দাবি করছে, সেটা তাদের দেশের নিজস্ব সাংবিধানিক বিষয়। হয়তো সব দাবি একসঙ্গে পূরণ না-ও হতে পারে। এখন তারা যদি সব দাবি এখানে থেকে পূরণ করতে চায়, সেটা কোনো দিনও হবে না। আর প্রত্যাবাসনও শুরু করা যাবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোহিঙ্গা নেতা জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হোক- এটা রোহিঙ্গাদের একটি অংশ চায় না। এই বিদ্রোহী সংগঠনটি প্রত্যাবাসনকে বাধাগ্রস্ত করতে সক্রিয় ছিল। তিনি আরও বলেন, অনেক রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরতে রাজি থাকলেও ওই সংগঠনটির কারণে শেষ পর্যন্ত ফিরতে পারেনি।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×