টেকনাফে রোহিঙ্গার গুলিতে যুবলীগ নেতা নিহত

বিক্ষোভ ভাংচুর সড়ক অবরোধ

  টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওমর ফারুক
ওমর ফারুক। ফাইল ছবি

টেকনাফে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে (২৪) গুলি করে হত্যা করেছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। বৃহস্পতিবার রাতে হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ওমর ফারুক ওই এলাকার আবদুল মুনাফ সওদাগরের ছেলে। তিনি হ্নীলা ইউনিয়ন যুবলীগের ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি ও জাদিমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।

এদিকে ওমর ফারুক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুক্রবার সকালে এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও ভাংচুর চালিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিহত ফারুকের বাবা আবদুল মুনাফ বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নুর মোহাম্মদ ও সেলিমের নেতৃত্বে আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওমর ফারুক জাদিমুরা বাজারে একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী তাকে টেনে-হিঁচড়ে অন্ধকার স্থানে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।

পরে রাত ১২টার দিকে টেকনাফ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএমএস দোহার নেতৃত্বে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এবিএমএস দোহা বলেন, কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটল তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ও ডাকাত দল এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পুলিশের তালিকাভুক্ত ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়রা জানান, ওমর ফারুক হত্যা মিশনে শতাধিক অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা অংশগ্রহণ করে। তারা ওমরের বাড়ির চারপাশে ও জাদিমুরা এলাকা ঘিরে অবস্থান নেয়। পরে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দলনেতা সেলিমসহ কয়েকজন ওমরকে গুলি করে দল বেঁধে শালবাগান পাহাড়ের দিকে চলে যায়।

তারা জানান, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এ দলটি বছরের পর বছর ধরে পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে নানা অপরাধ সংঘটিত করে আসছে। এ গ্রুপটির দলনেতা নুরুল আলম কিছুদিন আগে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। পরে গ্রুপটি নিয়ন্ত্রণে নেয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সেলিম।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুক্রবার সকাল থেকে এলাকাবাসী বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন। তারা হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে সকাল ৯টা থেকে জাদিমুরা এলাকার প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় তারা বিভিন্ন এনজিও ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাইনবোর্ড ভাংচুর করেন।

পরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুবলীগ সভাপতি নুরুল আলমসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতাকে শান্ত করেন। হত্যাকারীদের শাস্তির আশ্বাসে দুপুর ১২টার দিকে জনতা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ জানান, হত্যাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। হত্যাকারী কাউকে রেহাই দেয়া হবে না। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৭ সালে যখন রোহিঙ্গাদের আগমন শুরু হয়েছিল তখন নিহত ফরুকের পরিবার রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্যে এগিয়ে আসেন। তাদের অন্ন-বস্ত্রের ব্যবস্থা করেন। এমনকি জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পটি তাদের পৈতৃক জমিতে গড়ে ওঠে।

ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের আবাসনের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ক্যাম্পের অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন ফারুক। তিনি এভাবে খুন হওয়ায় রোহিঙ্গারাও বিব্রত। যখন গুলি করে হত্যা করা হয়, তখন শ্রমিকদের দিয়ে রাস্তার ওপর থেকে ইট সরানোর কাজ তদারক করছিলেন ফারুক। তার সঙ্গে থাকা শ্রমিকদের একজন ছিলেন রোহিঙ্গা শরণার্থী মোহাম্মদ ইউসুফ। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

ইউসুফ সাংবাদিকদের বলেন, সেনাবাহিনীর গাড়ি যাবে, এ কারণে আমাদের নিয়ে ইট সরাতে যান তিনি। প্রথমে কাজের জায়গায় কয়েকটা গুলি করা হয় তাকে। এরপর আরেক জায়গায় নিয়ে তাকে মেরে ফেলা হয়। ঘটনার সময় ২০-৩০ জন ‘সন্ত্রাসী’র মধ্যে কয়েকজনের হাতে অস্ত্র ছিল বলে জানান ইউসুফ।

রোহিঙ্গা শরণার্থী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ওমর ফারুক গম মানুষ আইছিল, ইতে রোহিঙ্গারে বালা গইত্তো। ইতে হনদিনি রোহিঙ্গারে হারাপ কিছু ন গইত্তো।’

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×