রোহিঙ্গাদের অনিশ্চিত যাত্রার দিনপঞ্জি

  যুগান্তর ডেস্ক ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গাদের অনিশ্চিত যাত্রা
রোহিঙ্গাদের অনিশ্চিত যাত্রা। ফাইল ছবি

মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইনে পুলিশের টহল-চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার জবাবে সেখানকার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ভয়ংকর অভিযান শুরু করেছিল দেশটির সেনাবাহিনী।

দু’বছর আগে ২৫ আগস্ট সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয়দের অত্যাচার-নির্যাতন থেকে রেহাই পেতে রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে শুরু করে।

কয়েকদিনের মধ্যে সাত লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়। তখন থেকে তাদের অনিশ্চয়তার দিন শুরু হয়।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর নিপীড়ন, প্রাণ বাঁচাতে তাদের বাংলাদেশে শরণার্থী হয়ে আসা, কূটনৈতিক তৎপরতা, রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি ও মর্যাদা দিতে অং সান সু চি সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ও প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যর্থ চেষ্টার বিষয়গুলো নিয়ে ঘটনাপঞ্জি প্রকাশ করেছে রয়টার্স। এখানে ঘটনাপঞ্জি তুলে ধরা হল-

২৫ আগস্ট, ২০১৭ : মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) উত্তর রাখাইনের একটি সেনাঘাঁটি ও পুলিশের ৩০টি টহল চৌকিতে হামলা চালায়। দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য ও প্রায় ৮০ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রাণ হারান।

২৬ আগস্ট, ২০১৭ : সেনাবাহিনী ও আরসার সংঘর্ষ আরও বিস্তৃত রূপ নিলে রাখাইনের তিন হাজার রোহিঙ্গা নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে চলে আসে।

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ : আগস্টে হামলার এক সপ্তাহের মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোর দুই হাজার ৬০০ বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ : উপগ্রহের ছবি ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের খবরের বরাতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার রাখাইনে সেনাবাহিনীর অভিযানকে পাঠ্যপুস্তকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের যে বর্ণনা আছে তার ‘একটি উদাহরণ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ : টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে অং সান সু চি রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জাতিসংঘের ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞের’ অভিযোগ নিয়ে কিছু বলেননি।

১০ অক্টোবর, ২০১৭ : ইয়াঙ্গুন স্টেডিয়ামে আন্তঃধর্মীয় প্রার্থনার আয়োজন করেন সু চি। একইদিন ১১ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত টপকে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে।

১২ অক্টোবর, ২০১৭ : মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্কট মার্শালের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাং মন্তব্য করেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অধিবাসী নয়।

১৩ অক্টোবর, ২০১৭ : বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযানে সেনা সদস্যরা কোনো অপরাধ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরুর কথা জানায় মিয়ানমার সেনাপ্রধানের কার্যালয়।

২ নভেম্বর, ২০১৭ : সেনা অভিযানের পর রাখাইনে প্রথম সফরে ‘বিবাদে না জড়াতে’ জনগণকে সু চি অনুরোধ করেন।

২৭ নভেম্বর-২ ডিসেম্বর, ২০১৭ : পোপ ফ্রান্সিস মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফর করেন। মিয়ানমার সফরে বক্তৃতায় তিনি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উল্লেখ না করলেও বাংলাদেশে শরণার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি দেখা করেন।

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ : ইয়াঙ্গুনের একটি রেস্টুরেন্টে আমন্ত্রণ জানিয়ে রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন ও কেয়া সোয়ে ওকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এদিন রাখাইনে সেনাবাহিনীর হাতে ১০ রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ড নিয়ে তারা তদন্ত করছিলেন।

১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ : এদিন একটি গণকবর থেকে অজ্ঞাত মৃতদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়ে বিবৃতি দেয় সেনাবাহিনী।

২১ ডিসেম্বর, ২০১৭ : ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ দায়ে মিয়ানমারের ১৩ জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর অভিযান দেখভালকারী জেনারেলও আছেন।

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ : রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের বিচার-পূর্ব শুনানি শুরু হয়। ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে’ দু’জনের নামে অভিযোগ দায়েরের অনুমতি চান সরকারি কৌঁসুলিরা। এ আইনে সর্বোচ্চ ১৪ বছর পর্যন্ত সাজার বিধান রয়েছে। ১০ রোহিঙ্গা মুসলমানকে হত্যায় কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার দায় স্বীকার করে সেনাবাহিনী।

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ : মিয়ানমার ৫৫টি রোহিঙ্গা গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে বলে উপগ্রহের ছবির বরাত দিয়ে জানায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। আগস্টে সেনা অভিযানের পর থেকে গ্রামগুলো জনশূন্য ছিল।

১২ মার্চ, ২০১৮ : রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর ও মসজিদ ছিল এমন এলাকায় সেনাবাহিনী ঘাঁটি বানিয়েছে বলে জানায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

১১ এপ্রিল, ২০১৮ : ১০ রোহিঙ্গা মুসলমানকে হত্যায় জড়িত সাত সেনা সদস্যকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

৩০ জুলাই, ২০১৮ : রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে কমিশন গঠন করে মিয়ানমার।

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ : রয়টার্সের দুই সাংবাদিক দোষী সাব্যস্ত। সাত বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ : ভিয়েতনামের হ্যানয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম অন আসিয়ানে অং সান সু চি তার সরকার আরও ভালোভাবে রাখাইন পরিস্থিতি সামলাতে পারত বলে স্বীকার করেন।

১৫ নভেম্বর, ২০১৮ : শরণার্থী শিবিরগুলোতে প্রতিবাদের মুখেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফেরত যেতে চায় না।

৪ জানুয়ারি, ২০১৯ : মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবসে চারটি পুলিশ চৌকিতে হামলা চালিয়ে ১৩ পুলিশ সদস্যকে হত্যা ও আরও ৯ জনকে আহত করে বিচ্ছিন্নতাবাদী আরাকান আর্মি। এ হামলা ওই অঞ্চলে সংঘাত-সহিংসতায় নতুন মাত্রা যোগ করে।

১৮ মার্চ, ২০১৯ : ২০১৭ সালের অভিযানে অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তার তদন্তে সামরিক আদালত গঠনের কথা জানায় সেনাবাহিনী।

৭ মে, ২০১৯ : প্রেসিডেন্টের ক্ষমায় মুক্তি পান রয়টার্সের দুই সাংবাদিক।

২৭ মে, ২০১৯ : গণহত্যায় কারাদণ্ডিত সাত সেনার আগাম মুক্তি অনুমোদিত হওয়ার কথা জানান সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র।

২২ জুন, ২০১৯ : মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সংঘাতপ্রবণ পশ্চিমাঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানায় মোবাইল অপারেটর টেলিনর গ্রুপ।

২০ আগস্ট, ২০১৯ : নতুন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ তিন হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিলেও তা ভেস্তে যায়। রোহিঙ্গারা কেউ যেতে না চাওয়ায় এ উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×