ফেরত পাঠাতে শক্ত অবস্থান নেবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। ফাইল ছবি

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থানে যাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, আমরা এখন আরও জোরালোভাবে বলব, আমরা তোমাদের অনেক কথা শুনেছি। নাউ ইট ইজ ইউর রেসপন্সিবিলিটি।

রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট অডিটরিয়ামে শুক্রবার দুপুরে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে বাংলাদেশের কঠোর পদক্ষেপগুলো কি হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যে যে ভাবে কঠোর হওয়া যায়, সেই ভাবেই কঠোর হব।

রোহিঙ্গা সংকটের এ দায় জাতিসংঘ এড়াতে পারে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ নিশ্চয় এ দায় এড়াতে পারে না। অনেক দিন ধরে এই যে হিংসা-বিদ্বেষ গড়ে উঠছে, কিন্তু তারা (জাতিসংঘ) সেটা সেইভাবে তুলে ধরেনি। একদিনে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে না। এর আগে অনেক অনেক আলামত থাকে। তারা সেই আলামতে জোর দেয় না। কিন্তু জোর দেয়া উচিত ছিল।

দ্বিতীয় দফায়ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু করতে না পারায় বাংলাদেশ আশাহত নয় মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রসেসটা কিন্তু এখনও চলছে। আমরা আশা করি রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যাবে। তাই আমরা আশাহত নই। তবে মূল সমস্যা হচ্ছে মিয়ানমার তাদের বিতাড়িত নাগরিকদের মধ্যে আস্থা জন্মাতে পারেনি। এটা তাদের রেসপনসিবিলিটি। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারকে বিশ্বাস করছে না। আমরা যা যা করার; সব করেছি। তাদের ফেরত দিতেও আমরা তৈরি।

বাংলাদেশ সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আবদুল মোমেন বলেন, আমরা মিয়ানমারকে আবারও বলব, তোমরা অঙ্গীকার করেছ তোমাদের নাগরিকদের ফেরত নেবে। এখন এর জন্য যা যা করার দরকার তা তোমরা কর।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার আমাদের বন্ধু দেশ। এছাড়া সারা বিশ্বে আমাদের সব বন্ধু রাষ্ট্রকে আমরা বলব, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু রোহিঙ্গারা কিছু দাবি তুলেছে, মিয়ানমারকে তার প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে। এর সম্পূর্ণ দায় মিয়ানমারের।

যেহেতু মিয়ানমার জোর করে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করেছে, তাই তারা তাদের আস্থা অর্জনে কতটা আন্তরিক হবে, সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তৎপরতায় ঘাটতি রয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের অবস্থা সারা বিশ্বের কাছে খুব ভালো। তাছাড়া আগে যারা মিয়ানমারের পক্ষে ছিল। যেমন- চীন, রাশিয়া; ভারত আগে একটু ছিল কিন্তু এখন তারাও একবাক্যে স্বীকার করছে- রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত যেতে হবে। এ এলাকার ভালোর জন্য সেটা যত তাড়াতাড়ি হয় তত ভালো। এটা তারাও বলছে- রোহিঙ্গারা বেশিদিন থাকলে এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা দেখা দেবে।

মিয়ানমারে চীন, ভারত ও রাশিয়ার বিনিয়োগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ গোটা অঞ্চল উন্নয়নের মহাসড়কে যে যাত্রা শুরু করেছে; সবার যে প্রত্যাশা, সেটাতে ব্যাঘাত ঘটবে। সুতরাং নিজেদের তাগিদে শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের বোঝাতে হবে। এছাড়া আশিয়ান দেশগুলোর বড় দায়িত্ব হল মিয়ানমারকে বলতে হবে- তুমি তোমার লোকদের ফেরত নাও। আর আমরাও আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।

দু’বার উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পরে বাংলাদেশের কৌশলে কোনো পরিবর্তন আনা উচিত কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে মোমেন বলেন, আমাদের অবস্থান আমরা একটু শক্ত করব। এছাড়া চিন্তা-ভাবনা করছি আন্তর্জাতিক কমিশন জোগাড় করার। যারা বাংলাদেশে নয়, রাখাইনে কাজ করবে। আমরা ইউএনএইচসিআর, আইওএমসহ যারা আছে তাদের বলছি- আমাদের এখানে থেকে লাভ নেই। তোমরা বরং রাখাইনে যাও, মিয়ানমারে যাও। রোহিঙ্গাদের জন্য বসবাসের পরিবেশ তৈরি কর। আমার রোহিঙ্গাদের মোটামুটি ভালো রেখেছি। তোমাদের বড় দায়িত্ব মিয়ানমারে যাও, তাদের বোঝাও। তা না হলে তোমরা কিসের জন্য তাদের (মিয়ানমারের) সঙ্গে ব্যবস্যা করবে।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় ব্যবসা মিয়ানমারের সঙ্গে। আমেরিকা এখনও তাদের জিএসপি সুবিধা দিচ্ছে। এখনও মিয়ানমারের সব ব্যাংকিং হয় সিঙ্গাপুরের সঙ্গে। মিয়ানমারের ব্যবসা হয় আবুধাবির সঙ্গে। মিয়ানমারের সঙ্গে তোমাদের সম্পর্ক ভালো। তোমরা এগুলো টেককেয়ার কর। এটা আমাদের দায়-দায়িত্ব নয়। মিয়ানমারের মানুষ আমাদের দেশে এসেছে। আমরা মানবতার খাতিরে আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু এটা শুধু আমাদের মাথাব্যথা নয়। এটা গোটা বিশ্বের সমস্যা।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×