ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টায় বাধা প্রাণ গেল মামার

গণপিটুনিতে নিহত বখাটেও

  চুয়াডাঙ্গা ও দামুড়হুদা প্রতিনিধি ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ধর্ষণ

চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার সময় বাধা দেয়ায় এক বখাটে যুবকের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন ওই ছাত্রীর মামা। গুরুতর আহত হয়েছে স্কুলছাত্রী ও তার নানা।

পরে গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে হামলাকারী ওই বখাটে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আমিরপুর গ্রামে শুক্রবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে আমিরপুর রেলগেট পাড়ার দরিদ্র শারীরিক প্রতিবন্ধী হামিদুর রহমানের বাড়িতে প্রবেশ করে বখাটে আকবর আলী (৪০) ঘুমন্ত হামিদুর রহমানের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া নাতনিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।

নাতনির চিৎকার শুনে বখাটে আকবরকে জাপটে ধরেন হামিদুর রহমান। পাশের ঘর থেকে ছুটে আসেন স্কুলছাত্রীর মামা হাসান আলী (২৫)।

এ সময় বখাটে আকবর তিনজনকে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে বখাটে আকবরকে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় সে। সকালে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।

এদিকে ছুরিকাঘাতে আহত স্কুলছাত্রী, তার মামা হাসান আলী ও নানা হামিদুর রহমানকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে হাসান আলীকে মৃত ঘোষণা করেন জরুরি বিভাগের ডা. আবু হাসান রাজু। নানা হামিদুর রহমানকে (৬০) গুরুতর অবস্থায় স্থানান্তর করা হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে।

তার শরীরে বেশ কয়েকটি ছুরির আঘাত রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। স্কুলছাত্রীর হাতে ছুরির পোঁচ লাগে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর সে বাড়ি ফিরে গেছে। মা মারা যাওয়ার পর সে মামার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করে।

হাসান আলী ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দিনমজুরের কাজ করে ভাগ্নির লেখাপড়াসহ সংসারের খরচ চালাতেন হাসান আলী। মাত্র ৫ মাস আগে বিয়ে করেন তিনি।

এদিকে গণপিটুনিতে নিহত আকবর আলী দামুড়হুদা উপজেলার মদনা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। কিন্তু সে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর গ্রামের আলম হোসেনের বাড়িতে ভাড়ায় থাকত এবং ফেরি করে সবজি বিক্রি করত।

পার্শ্ববর্তী মোমিনপুর বাজারের জুয়েলারি ব্যবসায়ী বিজন কর্মকার জানান, তিন সন্তানসহ বউকে তালাক দিয়ে শ্যালিকাকে ভাগিয়ে আনে আকবর।

এরপর থেকে নিজ এলাকা ছেড়ে মোমিনপুরে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করত। শুক্রবারের ধর্ষণচেষ্টার আগে ওই রাতেই একই গ্রামে আরেক বাড়িতে ঢুকে এক নারীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে সে। সেখান থেকে তাড়া খেয়ে স্কুলছাত্রীর ঘরে ঢোকে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি আবু জিহাদ খান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যুগান্তরকে বলেন, ঘটনার রাতে আকবর ওই গ্রামের আরেক বাড়িতে যায়। সেখান থেকে তাড়া খেয়ে সে পালিয়ে আসে।

পুলিশ সুপারসহ আমরা সেই বাড়িটাও পরিদর্শন করেছি।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া আকবর আলীর সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×