গ্রামীণফোন-রবির কাছে যাচ্ছে লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ

টাকা আদায়ে এবার হার্ডলাইনে বিটিআরসি

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

দেশের দুই শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির লাইসেন্স বাতিলের মতো চূড়ান্ত পদক্ষেপের দিকে যাচ্ছে সরকার।

দুই দফা চাপ দিয়েও নিরীক্ষা আপত্তির ‘পাওনা’ টাকা আদায় করতে না পেরে এবার লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ দেয়া হচ্ছে বলে বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে।

সংস্থার চেয়ারম্যান দেশে ফিরলে এ নোটিশ দেয়া হবে। মন্ত্রণালয় থেকে নেয়া এ সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত বিটিআরসিকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

বুধবার সাংবাদিকদের ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, এ দুই অপারেটরের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে এরই মধ্যে নোটিশ পাঠাতে বিটিআরসিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিটিআরসির দাবি, গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তির দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। তাগাদা দেয়ার পরও টাকা পরিশোধ না করার যুক্তি দেখিয়ে ৪ জুলাই গ্রামীণফোনের ব্যান্ডউইথ ক্যাপাসিটি ৩০ শতাংশ এবং রবির ১৫ শতাংশ কমিয়ে দেয়া হয়।

এতে গ্রাহকের সমস্যা হওয়ায় ১৩ দিনের মাথায় ওই নির্দেশনা প্রত্যাহার করে বিটিআরসি। এরপর ২২ জুলাই গ্রামীণফোন ও রবিকে বিভিন্ন প্রকার সেবার অনুমোদন ও অনাপত্তিপত্র (এনওসি) না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছি। না তারা এক টাকা দিয়েছে, না কানে তুলছে যে সরকারের কাছে তাদের দেনা আছে।’

তিনি বলেন, ‘গা যেহেতু করছে না, আমরা তো জাতীয় অর্থ পানিতে ফেলে রাখতে পারি না। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দিতে পারি না। আমাদের দিক থেকে বিটিআরসিকে বলা হয়েছে তোমরা চূড়ান্ত নোটিশ দাও।’

১৬ কোটি ৮২ হাজার নিবন্ধিত মোবাইল সিমের মধ্যে ৭ কোটি ৪৭ লাখ সিম গ্রামীণফোনের। আর রবির ৪ কোটি ৭৬ লাখ সিম রয়েছে। এ হিসাবে মোট গ্রাহকের ৪৬.৪৯ শতাংশ গ্রামীণফোন এবং ২৯.৬৫ শতাংশ রবির গ্রাহক।

এছাড়া ৯ কোটি ৪৪ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহকের মধ্যে ৮ কোটি ৮৬ লাখ মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এটা মোট গ্রাহকের ৯৩.৮৭ শতাংশ।

গ্রামীণফোন ও রবিকে কখন নোটিশ দেয়া হবে, তা জানতে চাইলে বিটিআরসির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সরকারি সফরে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক দেশের বাইরে আছেন। তিনি ফিরলে আগামী সপ্তাহে নোটিশ পাঠানো হতে পারে।

বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. জাকির হোসেন যুগান্তরকে বলেন, সরকারি পাওনা পরিশোধে অপারেটরদের সহযোগিতা সব সময় কাম্য। কমিশনের যে কোনো ধরনের উদ্যোগ ও পদক্ষেপ আইন অনুযায়ী গ্রহণ করা হয়। বিটিআরসি ‘এনওসি’ দেয়া বন্ধ রাখলেও গ্রামীণফোন ও রবি বর্তমানে তাদের সেবা চালিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু কোম্পানি দুটি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ বা বিটিএস স্থাপন করতে পারছে না, যন্ত্রাংশ আমদানির অনুমতি পাচ্ছে না এবং নতুন কোনো প্যাকেজ বাজারে ছাড়তে পারছে না। একই সঙ্গে বর্তমানে বাজারে থাকা প্যাকেজেও কোনো পরিবর্তন আনতে পারছে না।

এর আগে দুই অপারেটর থেকে বলা হয়- এগুলো বিটিআরসির টাকা আদায়ের ‘কৌশল’। এ ধরনের পদক্ষেপের প্রতিবাদও করেন তারা। তারা বলেন, ব্যবসায়িক বিরোধ মেটাতে গ্রাহকের স্বার্থ, জাতীয় অর্থনীতি এমনকি দেশের ভাবমূর্তিকেও জিম্মি করা হচ্ছে। দুই কোম্পানিই বিটিআরসির দাবি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু এতে সাড়া না দিয়ে বিটিআরসির পক্ষ থেকে বলা হয়- তাদের আইনে এক্ষেত্রে সালিশের কোনো সুযোগ নেই।