ব্রিটিশ সংসদ স্থগিত

বরিসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, আসছে অনাস্থা প্রস্তাব

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ‘গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান’ * সিদ্ধান্ত বাতিল চেয়ে পিটিশনে ১০ লাখ স্বাক্ষর * কনজারভেটিভ পার্টির স্কটল্যান্ডপ্রধানের পদত্যাগ

  যুগান্তর ডেস্ক ৩০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বরিসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, আসছে অনাস্থা প্রস্তাব

চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে সংসদ স্থগিত করে ক্ষোভের মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। জনগণ, বিরোধী দল, সংসদ সদস্য, সংসদের স্পিকার থেকে শুরু করে নিজ দলের সদস্যদেরও সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন মুলতবি করে প্রধানমন্ত্রীর নেয়া সিদ্ধান্ত গত বুধবারই রানীর অনুমোদনের পর ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করে হাজার মানুষ। এই সিদ্ধান্তের পরিবর্তন না হলে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব আনার হুমকি দিয়েছে বিরোধীরা।

রয়টার্স ও ডয়চে ভেলে বলছে, আগামী ৩১ অক্টোবর যে কোনো মূল্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রেক্সিট কার্যকর করার পথে কোনোরকম বাধা বরদাস্ত করতে রাজি নন বরিস জনসন।

ব্রিটেনের সংসদে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট প্রতিরোধ করতে আইন অনুমোদনের প্রচেষ্টার একদিন পরই তাই এমন পদক্ষেপ নিলেন, যাতে ব্রেক্সিটের সময় পর্যন্ত সংসদের ক্ষমতা খুবই সীমিত হয়ে পড়ে। অধিবেশনের সময় সংকুচিত করে তিনি সংসদ সদস্যদের পাল্টা পদক্ষেপের পথ কার্যত বন্ধ করে দিলেন।

বরিস জনসনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে লন্ডন, ম্যানচেস্টার, এডিনবরা ও অন্যান্য শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করে। লন্ডন শহরে সংসদের সামনে মানুষ ‘গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান বন্ধ করো’ লেখা পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। অনেকের হাতে ছিল ইইউর পতাকা। বিক্ষোভ ডাউনিং স্ট্রিটের দিকেও ছড়িয়ে পড়ে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে আরও বিক্ষোভ হবে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন। সরকারি ওয়েবসাইটে সংসদ মুলতবি না করার জন্য দাখিল করা একটি ই-পিটিশনে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি স্বাক্ষর জমা পড়েছে।

বিবিসি বলছে, আগামী সপ্তাহে অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদ মুলতবি রাখা হবে। ১৪ অক্টোবর রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের ভাষণের মাধ্যমে আবার অধিবেশন শুরু হবে।

বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপকে গণতন্ত্রবিরোধী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ও উদারপন্থী দলের নেতা জো সুইনসন রানীকে চিঠি লিখে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতার কথা জানিয়েছেন। আগামী সপ্তাহেই সংসদে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব দেয়ার কথাও জানান করবিন।

ইংল্যান্ডের সাবেক অর্থমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তার মতে, জাতীয় সংকটের এই সময়ে সরকারের কার্যকলাপের ওপর সংসদ নজর রাখতে না পারলে, তা সংবিধানের অবমাননা হবে। হাউস অব কমন্সের স্পিকার জন বারকাউ এই সিদ্ধান্তকে ‘সাংবিধানিক জুলুম’ বলে বর্ণনা করেছেন।

৭০ জনেরও বেশি সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণার আবেদন নিয়ে স্কটল্যান্ডের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইংল্যান্ডের আদালতেও একাধিক আবেদন জমা পড়ছে। ব্রেক্সিটবিরোধী আন্দোলনকারী জিনা মিলার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে জুডিশিয়াল রিভিউয়ের আবেদন জানিয়েছেন।

স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জন বরিসের ‘স্বৈরাচারী’ আচরণের কড়া সমালোচনা করে মৌলিক গণতান্ত্রিক নীতির অবমাননার অভিযোগ করেছেন।

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা ঠেকাতে আগামী সপ্তাহে এমপিদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। স্কটল্যান্ডে বরিসের কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান রুথ ডেভিডসন দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। বরিসের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দেন তিনি।

চারদিকে কঠোর সমালোচনার মধ্যেই বরিস তার পাশে পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। বরিসের প্রশংসা করে টুইট করেছেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, করবিনের পক্ষে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে বরিসকে ক্ষমতাচ্যুত করা খুবই কঠিন হবে।

এদিকে সমালোচনার বিরুদ্ধে বরিসের দাবি, ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের আগে ও পরে সংসদ ব্রেক্সিট নিয়ে আলোচনার জন্য যথেষ্ট সময় পাবে। আগামী ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ইইউর শীর্ষ সম্মেলনে ব্রিটেনের সঙ্গে বিচ্ছেদের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×